Tag Archives: লালন পদাবলি

এমন দিন কী হবে রে আর

এমন দিন কী হবে রে আর ।
খোদা সেই করে গেল রাসুল রূপে অবতার ।।

আদমের রূহ সেই
কিতাবে শুনলাম তাই
নিষ্ঠা যার হল রে ভাই
মানুষ মুর্শিদ করলে সার ।।

খোদ সুরাতে পয়দা আদম
এ জানা যায় অতি মরম
আকার নাই যার সুরাত কেমন
লোক বলবে তাও আমার ।।

আহাম্মদের নাম লিখিতে
মিম নফি হয় তার কিসেতে
সিরাজ সাঁই কয় লালন তাতে
কিঞ্চিৎ নজির দেখ তার ।।


এবার কে তোর মালেক চিনলে না তারে

এবার কে তোর মালেক চিনলে না তারে ।
মন কি এমন জমন হবে রে ।।

দেবের দুর্লভ এবার
মানুষ জনম তোমার
এমন জনমের আচার
করলি কিরে ।।

নিশ্বাসের নাই রে বিশ্বাস
পলকে সব করবে নৈরাশ
তখন মনে রবে মনের আশ
বলবি কারে ।।

এখনো শ্বাস আছে বজায়
যা কর তাই সিদ্ধি হয়
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয়
তাই বারবার লালনে রে ।।


এনে মহাজনের ধন বিনাশ করলি ক্ষ্যাপা

এনে মহাজনের ধন বিনাশ করলি ক্ষ্যাপা ।
শুদ্ধ বাঁকির দায় যাবি যমালয় হবে রে কপালে দায়মাল ছাপা ।।

কীর্তিকর্মা সেহি ধনী
অমূল্য মানিক মণি
তোরে করিলেন কৃপা
সে ধন এখন, হারালি রে মন
এমনি তোর কপাল ব’দফা ।।

আনন্দবাজারে এলে
ব্যাপারে লাভ করব বলে
এখন সারলে সে দফা ;
কুসঙ্গের সঙ্গে মজে কুরঙ্গে
হাতের তীর হারায়ে হলি রে ফ্যাপা ।।

দেখলি নে মন বস্তু ধুড়ে
কাঠের মালা নেড়ে চেড়ে
মিছে নাম জপা;
লালন ফকির কয়, কী হবে উপায়
বৈদিকে র’ল জ্ঞানচক্ষু ঝাপা ।।


এখনো সাধ আছে তোমার আ’ল ঠেল বলে

এখনো সাধ আছে তোমার আ’ল ঠেল বলে ।
চুল পেকে হয়েছে হুড়ো চামড়া বুড়ো ঝুলমুলে ।।

হেঁটে যেতে হাঁটু নড়বড়ায়
তবু যেতে সাধ মন বার-পাড়ায়
চেংড়ার সুমার বুদ্ধি তোমার
ভুজ কুয়ারা জানালে ।।

গায়ে ভস্ম মেখে লোকেরে দেখাও
মনে মনে মন কলাটি কান্ড
তোমার নাই সবুরি, চাম কুঠুরি
ছাড়বি রে তুই কোনকালে ।।

মন আমার পাগলা বুড়া পির
লালন কয় মোর বুদ্ধি রয় না স্থির
মন কি মুনাই যদি হাতে পাই
তবে কি ভুরো সিজাই অকালে ।।


এখন কেনে কাঁদছ রাধে নির্জনে

এখন কেনে কাঁদছ রাধে নির্জনে ।
ও রাধে, সেইকালে মান করেছিলে
সেই কথা তোর নাই মনে ।।

ও রাধে কেনে কর মান
ও কুঞ্জে আসে না যে শ্যাম
জলে আগুন দিতে পারি বিন্দা আমার নাম
ও রাধে হাত ধরে প্রাণ সঁপে ছিলে কেনে ।।

চল আমরা সব সখি মিলে
ও একটি বনফুল তুলে
বিনে সুতায় মালা গেঁথে দিব শ্যাম গলে
লালন কয়, শ্যাম হয়ে বসব রাধার ডানে ।।


এক আসমানি চোর ভবের শহর লুটছে সদাই

এক আসমানি চোর ভবের শহর লুটছে সদাই ।
আসা-যাওয়া কেমন রাহা কে দেখেছ বলো আমায় ।।

শহর বেড়ে অঘাত দোরে
মাঝখানে ভাবের মন্দিরে
সেই নিগুম জায়গায়
তার পবনদ্বারে চৌকি ফেরে
এমন ঘরে চোর আসে যায় ।।

এক শহর চব্বিশ জেলা
ডাক কামান ছাড়ে দু’বেলা
বলিয়ে জয় জয়
ধন্য চোরে এ ঘর মারে
রাখে না কাহার ভয় ।।

মন বুদ্ধির অগোচর চোরা
আজ বললে কি পাবি তোরা
আমার এই কথায়
লালন বলে ভাবুক হলে
চোরের ধাক্কা লাগে তারি গায় ।।


একাকারে হুহুংকার মেরে আপনি সাঁই রাব্বানা

একাকারে হুহুংকার মেরে আপনি সাঁই রাব্বানা ।
অন্ধকার, ধন্দকার, কুওকার, নৈরেকার সব লিনা ।।

কুন্ বলে এক শব্দ করে
সেই শব্দে দূর ঝরে
ছটি গুটি হল তাতে
শোন গো তার বর্ণনা ।।

সেই ছয় গুটি হতে
ছয়টি জিনিস পয়দা তাতে
আসমান জমিন সৃজিতে
মনে তার বাসনা ।।

ছয়েতে তসবি হল
সেই তসবি জপ করিল
কোরানেতে প্রমাণ রল
লালন কয় শোন তার ঠিকানা ।।