জ্যান্তে মরা প্রেম সাধন পারবি তোরা

জ্যান্তে মরা প্রেম সাধন পারবি তোরা।
যে প্রেমে কিশোর-কিশোরী হয়েছে হারা।।

শোসায় শোষে না ছাড়ে বাণ
ঘোর তুফানে বায় তরী উজান
ও তার কামনদীতে চর পড়েছে
প্রেমনদীতে জল পোরা।।

হাঁটতে মানা, আছে চরণ
মুখ আছে তার, খাইতে বারণ
ফকির লালন কয়, এ যে কঠিন মরণ
তা কি পারবি তোরা।।


তোমরা আর আমায় কালার কথা বল না

তোমরা আর আমায় কালার কথা বল না।
ঠেকে শিখলাম গো কালো রূপ আর হেরবো না।।

পরলাম কলঙ্কের হার
তবু তো ও কালার
মন তো পেলাম না;
যেমন রূপ কালা
অমনি উহার মন কালা।।

প্রেমের কি এই শিক্ষে
বেড়ায় ব্যঞ্জন চেখে
লজ্জা গণে না;
ঘৃণায় মরে যাই
এমন প্রেম আর করবো না।।

যেমন চন্দ্রাবলি
অমনি রাখাল অলি
থাক সে দুইজনা;
শুনে রাধার বোল
লালনের বোল সরে না।।


তোমার ঠিকের ঘরে ভুল পড়েছে মন

তোমার ঠিকের ঘরে ভুল পড়েছে মন।
কীসে চিনবি রে মানুষরতন।।

আপন খবর নাই আপনারে
বেড়াও পরের খবর করে
আপনারে চিনলে পরে
পরকে চিনা যায় তখন।।

ছিলি কোথা আলি হেথা
স্মরণ কিছু হল না তা
কী দেখে মুড়ালি মাথা
পথের নাই অন্বেষণ।

যার সঙ্গে এই ভবে আলি
তারে আজ কোথায় হারালি
সিরাজ সাঁই কয় পেট শাখালি
তাই লয়ে পাগল লালন।।


তোমার মত দয়াল বন্ধু আর পাব না

তোমার মত দয়াল বন্ধু আর পাব না।
দেখা দিয়ে ওহে রাসুল ছেড়ে যেও না।।

তুমি তো খোদার দোস্ত
অপারের কাণ্ডারী সত্য
তোমা বিনে পারের লক্ষ্য
আর তো দেখি না।।

আসমানি এক আইন দিয়ে
আমাদের সব আনলে রাহে
এখন মোদের ফাঁকি দিয়ে
ছেড়ে যেও না।।

আমরা সব মদিনাবাসী
ছিলাম যেমন বনবাসী
তোমা হতে জ্ঞান পেয়েছি
আছি সান্ত্বনা।।

তুমি বিনে এরূপ শাসন
কে করবে আর দীনের কারণ
লালন বলে আর তো এমন
বাতি জ্বলবে না।।


তোর ছেলে যে গোপাল সে সামান্য নয় মা

তোর ছেলে যে গোপাল সে সামান্য নয় মা।
আমরা চিনেছি তারে বলি মা তোরে তুই ভাবিস যা।।

কার্য দ্বারা জ্ঞান হয় যে
অটলচাঁদ নেমেছে ব্রজে
নইলে বিষম কালিদয় বিষের জ্বালায়
বাঁচিত না।।

যে ধন বাঞ্ছিত সদাই
তোর ঘরে মা সে দয়াময়
নইলে কি গো তার, বাঁশির স্বরে ধার
ফেরে গঙ্গা।।

যেমন ছেলে গোপাল তোমার
অমন ছেলে আর আছে কার
লালন বলে যে গোপালের অঙ্গে
গোপাল হয় মা।।


তোরা কেউ যাস নে ও পাগলের কাছে

তোরা কেউ যাস নে ও পাগলের কাছে।
তিন পাগলে হলো মেলা নদে’ এসে।।

একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে
দৌড়ে যেয়ে;
তার জেতের বোল, এমন পাগল
কে দেখেছে।।

একটা নারকেলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা
করঙ্গ সে;
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে
ধূলোর মাঝে।।

পাগলের নামটি এমন
বলিতে অধীন লালন
হয় তরাসে;
ও সে চৈতে নিতে অদ্বে পাগল
নাম ধরেছে।।


তোরা দেখ না রে মন দিব্যনজরে

তোরা দেখ না রে মন দিব্যনজরে।
চারিচাঁদ দিচ্ছে ঝলক মণিকোঠার ঘরে।।

হলে সে চাঁদের সাধন
অধরচাঁদ হয় দরশন
হয় রে;
ও সে চাঁদেতে চাঁদের আসন
রেখেছে ফিকিরে।।

চাঁদে চাঁদে ঢাকা দেওয়া
চাঁদে দেয় চাঁদের খেওয়া
দেয় রে;
জমিনেতে ফলছে মেওয়া
ঐ চাঁদের সুধা ঝরে।।

নয়নচাঁদ প্রসন্ন যার
সকল চাঁদ দৃষ্ট হয় তার
হয় রে;
অধীন লালন বলে বিপদ আমার
গুরুচাঁদ ভুলে রে।।


দেখ না এবার আপনার ঘর ঠাউরিয়ে

দেখ না এবার আপনার ঘর ঠাউরিয়ে।
আঁখির কোণে পাখির বাসা যায় আসে হাতের কাছ দিয়ে।।

সবে বলে পাখি একটা
সহস্র কুঠরি কোঠা
আছে আল সঙ্গত হয়ে;
নিগুমে তার, মূল একটি ঘর
অচিন হয় সেথা যেয়ে।।

ঘরে আয়না আঁটা চৌপাশে
মাঝখানে পাখি বসে
আছে আড়া পাতিয়ে;
দেখ না রে ভাই ধরার জো নাই
সামান্য হাত বাড়ায়ে।।

কেউ দেখতে যদি সাধ কর
সন্ধানীকে চিনে ধর
দেবে দেখায়ে;
সিরাজ সাঁই কয়, লালন তোমায়
বুঝাইতে দিন যায় বয়ে।।


দেখ না মন ঝকমারি এই দুনিয়াদারি

দেখ না মন ঝাকমারি এই দুনিয়াদারি।
পরিয়ে কোপনি ধব্জা মজা উড়ালো ফকিরি।।

বড় আশার বাসা এ ঘর
পড়ে রবে কোথা রে কার
ঠিক নাই তারি;
পিছে পিছে ঘুরছে শমন
কোনদিন হাতে দেবে ডুরি।।

দরদের ভাই বন্ধুজনা
মলে সঙ্গে কেউ যাবে না
মন তোমারই;
খালি হাতে একা পথে
বিদায় করে দেবে তোরি।।

যা কর তাই কর রে মন
পিছের কথা রেখ স্মরণ
বরাবরই;
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয় শোন্‍ রে লালন
হোসনে কারো ইন্তেজারি।।

 


দেখ না রে মন পুনর্জনম কোথা হতে হয়

দেখ না রে মন পুনর্জনম কোথা হতে হয়।
মরে যদি ফিরে আসে স্বর্গনরক কে বা পায়।।

পিতার বীজে পুত্রের সৃজন
তাই তো পিতার পুনর্জনম
পঞ্চভূতে দেহের গঠন
আলেকরূপে ফেরে সাঁই।।

ঝিয়ের গর্ভে মায়ের জন্ম
এ বড় নিগূঢ় মর্ম
শোণিত শুক্র হলে গম্ভু
সব জানা যায়।।

শোণিত শুক্র হলে বিচার
জানতে পারবি কে জীব কে ঈশ্বর
সিরাজ সাঁই কয় লালন এবার
ঘুরে মলি কোলের ঘুরায়।।