Category Archives:

সোনার মানুষ ভাসছে রসে

সোনার মানুষ ভাসছে রসে।
যে জেনেছে রসপান্তি সেই দেখিতে পায় অনাসে।।

তিনশো ষাট রসের নদী
বেগে ধায় ব্রহ্মাণ্ড ভেদি
তার মাঝে রূপ নিরবধি
ঝলক দিচ্ছে এই মানুষে।।

মাতাপিতার নাই ঠিকানা
অচিন দেশে বসতখানা
আজগুবি তার আওনা-যাওনা
কারণবারির যোগ বিশেষে।।

অমাবস্যায় চন্দ্র উদয়
দেখিতে যার বাসনা হৃদয়
লালন বলে থেকো সদাই
ত্রিপিনের ঘাটে বসে।।

Posted from WordPress for Android


সোনার মানুষ ঝলক দেয় দ্বিদলে

সোনার মানুষ ঝলক দেয় দ্বিদলে।
যেমন মেঘেতে বিজলী খেলে।।

দল নিরূপণ হয় যদি
জানা যায় সেরূপ নিধি
মানুষের করণ হবে সিদ্ধি
সেইরূপ দেখিলে।।

গুরু কৃপার তুল্য যারা
নয়ন তাদের দীপ্তকারা
রূপে আশ্রিত হয়ে তারা
ভবপারে যায় চলে।।

স্বরূপ রূপে রূপের গমন
স্বর্গমর্ত্য পাতালভুবন
সিরাজ সাঁই কয় অবোধ লালন
চেয়ে দেখ নয়নে।।

Posted from WordPress for Android


সোনার মান গেল রে ভাই বেঙ্গা এক পিতলের কাছে

সোনার মান গেল রে ভাই বেঙ্গা এক পিতলের কাছে।
শাল পটকের কপালের ফের কুষ্টার বানাত দেশ জুড়েছে।।

বাজিল কলির আরতি
প্যাঁচ প’লো ভাই মানীর প্রতি
ময়ূরের নৃত্য দেখি
প্যাঁচায় পেখম ধরতে বসে।।

শালগ্রামকে করে নোড়া
ভূতের ঘরে ঘণ্টা নাড়া
কলির তো এমনি দাঁড়া
স্থুলে কাজে সব ভুল পড়েছে।।

সবাই কেনে পিতলদানা
জহরের তো উল্‍ হলো না
লালন কয় গেল জানা
চটকে জগৎ মেতেছে।।

Posted from WordPress for Android


সে তো রোগীর মত পাচন গিলা হয়

সে তো রোগীর মত পাচন গিলা হয়।
যারে সাধনভক্তি বলা যায়।।

অরুচিতে আহার করা
জানতে পায় সে সব ধারা
পেট ফুলে হয় গো সারা
উচ্ছিষ্ট সেবা সেহি প্রায়।।

উপরোধের কাজ ঢেঁকির মত
গিলা কঠিন হয় কত
সাধনে যার নাই একান্ত
তাইরি তেমনি হয়।।

এমনি মত বারে বারে
কতই আর বুঝাব হা রে
লালন বলে ভক্তির জোরে
সাঁইকে বাঁধে সর্বদাই।।

Posted from WordPress for Android


সে কি আমার কবার কথা আপন বেগে আপনি মরি

সে কি আমার কবার কথা আপন বেগে আপনি মরি।
গৌর এসে হৃদয়ে বসে করলো আমার মন-চুরি।।

কিবা গৌর রূপ লম্পটে
ধৈর্যের ডুরি দেয় গো কেটে
লজ্জা ভয় সব যায় গো ছুটে
যখন ওই রূপ মনে করি।।

গৌর দেখা দিয়ে ঘুমের ঘোরে
চেতন হয়ে পাই নে তারে
লুকাইল কোন শহরে
নব রূপের রসবিহারী।।

মেঘে যেমন চাতকেরে
দেখা দিয়ে ফাঁকে ফেলে
লালন বলে তাই আমারে
করলো গৌর বরাবরই।।

Posted from WordPress for Android


সেই গোরা এসেছে নদীয়ায়

সেই গোরা এসেছে নদীয়ায়।
রাধারানীর ঋণের দায়।।

ব্রজে ছিল কানাই বলাই
নদীয়াতে নাম পাড়ালো গৌর নিতাই
ব্রহ্মাণ্ড যার ভাণ্ডেতে রয়
সে কি ভোলে দই-চিড়ায়।।

ব্রজে খেয়ে মাখন ছানা
পোরে নি আশায়;
নদীয়াতে দই-চিড়াতে ভুলেছে কানাই।
যার বেণুর স্বরে, ধেনু ফেরে
যমুনার জল উজান ধায়।।

আয় নাগরি দেখরে তোরা
নবরসের নব গোরা
দেখবে প্রাণ জুড়ায়;
লালন বলে অন্তিমকালে
চরণ দিবেন সিরাজ সাঁই।।

Posted from WordPress for Android


সেই কালাচাঁদ নদেয় এসেছে

সেই কালাচাঁদ নদেয় এসেছে।
ও সে বাজিয়ে বাঁশি ফিরছে সদাই কুলবতীর কুলনাশে।।

মজবি যদি কালার পিরিতি
জান গে যা তার কেমন রীতি
উহার প্রেম করা নয় প্রাণে মারা
অনুমানে বুঝিয়েছে।।

যদি ওই পদে কেউ রাজ্য দেয়
তবু কালার মন নাহি পাওয়া যায়
রাধা বলে কানছে এখন
তারে কত কাঁদিয়েছে।।

ব্রজে ছিল জলদ কাল
প্রেমসাধনে গৌর হ’ল
লালন বলে চিহ্ন কেবল
দুই নয়ন বাঁকা আছে।।

Posted from WordPress for Android