Category Archives:

শূন্যেতে এক আজব বৃক্ষ দেখতে পাই

শূন্যেতে এক আজব বৃক্ষ দেখতে পাই।
আড়ে দীঘে কত হবে কল্পনা করবা সাধ্য নাই।।

সেই বৃক্ষের দুই অপূর্ব ডাল
তার এক ডালে প্রেম আর এক ডালে কাল
চার যুগেতে আছে সে ফুল
নাই টলাটল রতিময়।।

বলবো কীসে বৃক্ষের কথা
ফুলে মধু ফলে সুধা
এমন বৃক্ষ মানে যেবা
তার বলিহারি যায়।।

বিনা বীজে সেই যে বৃক্ষ
ত্রিজগতের উপলক্ষ
শাস্ত্রেতে আছে ঐক্য
লালন ভেবে বলে তায়।।

Posted from WordPress for Android

Advertisements

শুন্য ভরে ছিলেন যখন গুপ্ত জ্যোতির্ময়

শুন্য ভরে ছিলেন যখন গুপ্ত জ্যোতির্ময়।
লা-শরিকালা কালুবালা ছিলেন লুকায়।।

রাগের ধুমায় কুওকারময়
সুখনাল ঝরে নৈরাকার হয়
আপনার রসে আপনি ভাসে
ডিম্বকার দেখায়।।

অন্ধকারে রতিদানে
ছিল সে না পতির রূপদর্পণে
হ’ল সেই না পতির সঙ্গে গতি
নীরে পদ্মময়।।

তার আগাগলি ডিম্ব ছোটে
চৌদ্দ ভুবন তাইরি পেটে
সিরাজ সাঁই কয় অবোধ লালন
এ ভেদ বুঝতে পারলে হয়।।

Posted from WordPress for Android


শিরনি খাওয়ার লোভ যার আছে

শিরনি খাওয়ার লোভ যার আছে।
সে কি চেনে মানুষরতন দরগাতলায় মন মজেছে।।

সাধুর হাটে সে যদি যায়
আঁট বসে না কোন কথায়
মন থাকে তার দরগাতলায়
বুদ্ধি তার পেঁচোয় পেয়েছে।।

প্রতিমা গড়ে ভাস্করে
মনপ্রাণ প্রতিষ্ঠা করে
আবার গুরু বলে তারে
এমন পাগল কে দেখেছে।।

মাটির পুতুল গড়ে  নাচায়
আপনি মারে আপনি বাঁচায়
তাই জেনে স্বয়ং হতে চায়
লালন কয় তার সকল মিছে।।

Posted from WordPress for Android


শুনি নবির অঙ্গে জগৎ পয়দা হয়

শুনি নবির অঙ্গে জগৎ পয়দা হয়।
সেই যে আকার কী হল তার কে করে নির্ণয়।।

আব্দুল্লার ঘরেতে বলো
সেই নবির জন্ম হ’ল
মূল দেহ তার কোথায় ছিল
কারে বা শুধায়।।

কী রূপে সেই নবির জান
বাবার বীজে যুক্ত হন
আবহায়াত নামটি লিখন
হাওয়া নাই সেথায়।।

একজনে দুই কায়া ধরে
কেউ পাপ কেউ পুণ্যি করে
কী হবে তার রোজ হাসরে
নিকাশের বেলায়।।

নবির ভেদ পেলে এক ক্রান্তি
ঘুচে যেত মনের ভ্রান্তি
দৃষ্টি হত আলেকপান্তি
লালন ফকির কয়।।

Posted from WordPress for Android


শুদ্ধ প্রেমের প্রেমিক মানুষ যেজন হয়

শুদ্ধ প্রেমের প্রেমিক মানুষ যেজন হয়।
মুখে কথা কো’ক বা না কো’ক নয়ন দেখলে চিনা যায়।।

রূপে নয়ন করে খাঁটি
ভুলে যায় সে নামমন্ত্রটি
চিত্রগুপ্ত পাপপুণ্যটি
তার কী লিখবেন খাতায়।।

মণিহারা ফণী যেমন
প্রেমরসিকের দুটি নয়ন
কী করতে কী করে সে জন
অন্ত নাহি বোঝা যায়।।

সিরাজ সাঁই কয় বারে বারে
শোন রে লালন বলি তোরে
মদনরসে বেড়াও ঘুরে
সে ভাব তোমার কই দাঁড়ায়।।

Posted from WordPress for Android


শুদ্ধ প্রেমরাগে ডুবে থাক রে আমার মন

শুদ্ধ প্রেমরাগে ডুবে থাক রে আমার মন।
স্রোতে গা ঢালান দিও না রাগে বেয়ে যাও উজান।।

নিবারিয়ে মদনজ্বালা
ওহিমুণ্ডে কর গা খেলা
উদয় নিহার ঊর্ধ্বতালা
প্রেমের এই লক্ষণ।।

একটি সাপের দুটি ফণী
দুই মুখে কামড়ালেন তিনি
প্রেমবাণে বিক্রম যিনি
তার সঙ্গে দাও রণ।।

মহারস মুদিত কমলে
প্রেমশৃঙ্গারে লও গো তুলে
আপ্ত সাবধান সেই রণকালে
কয় ফকির লালন।।

Posted from WordPress for Android


শুদ্ধ প্রেম সাধলো যারা কামরতি রাখিল কোথা

শুদ্ধ প্রেম সাধলো যারা কামরতি রাখিল কোথা।
বল গো রসিক রসের মাফিক ঘুচাও আমার মনের ব্যথা।।

আগে উদয় কামের রতি
রস আগমন তাইরি গতি
সেই রসে হয়ে স্থিতি
খেলছে রসিক প্রেমদাতা।।

মন জানেনা রসের করণ
জানে না সে প্রেমের ধরন
জল ছেঁচে হয় রে মরণ
কথায় কেবল বাজি জিতা।।

মনের অবাধ্য যে জন
আপনার আপনি ভোলে সে জন
ভেবে কয় ফকির লালন
ডাকলে সে তো কয় না কথা।।

Posted from WordPress for Android