Category Archives:

রাসুলের সব খলিফা কয় বিদায়কালে

রাসুলের সব খলিফা কয় বিদায়কালে।
গায়েবি খবর আর কি পাব তুমি রাসুল গেলে।।

মহাপ্যাঁচ আইন তোমার
বুঝে ওঠা সাধ্য বা কার
কী করিতে কী করি আর
সহি না পেলে।।

কোরানের ভিতরে সে তো
মুকাত্তিয়াত হরফ কত
মানে কও তার ভালমত
ফেলো না গোলে।।

আহাদ নামেতে আপি
মিম দিয়ে মিম করে নফি
ইহার মানে কও নবিজি
লালন তাই বলে।।

Posted from WordPress for Android


রে মন যে পথে সাইর আসা-যাওয়া

রে মন যে পথে সাইর আসা-যাওয়া।
তাতে নাই মাটি আর হাওয়া।।

আলিপুরে করে কাচারি
তার উপরে নি:শব্দপুরী
জীবের সাধ্য কি
তার উল্‍ পাওয়া।।

নিগুম ঠাঁই সতত থাকে
যথা যে যা করে সব সে দেখে
দেখতে না রে চর্মচোখে
কেউ দেখে না তার কায়া।।

মন যায় মনের উপরে
তবে অধর সাইকে ধরতে পারে
অধীন লালন বিনয় করে
কে জানে তাহা।।

Posted from WordPress for Android


রসের রসিক না হলে কে গো জানতে পায়

রসের রসিক না হলে কে গো জানতে পায়।
কোথা সে অটলরূপ বারাম দেয়।।

শূন্য ভরে শয্যা করে
পাতালপুরে
শয়ন দেয়;
অরসিক বেড়ায় ঘুরে
ঘোর ধাঁধায়।।

মনচোরা চোর সেই যে নাগর
তলে আসে তলে যায় উপর উপর
খুঁজে জীব সবাই;
মাটি ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে
আসমানে গিয়ে হাত বাড়ায়।।

পড়ে সে ফাঁকের ঘরে
শেষ খানায় তলে পরে তলে ধুড়ে
তবে সে ফল প্রাপ্ত হয়;
লালন কয় উচা মনের কার্য নয়।।

Posted from WordPress for Android


রূপের ঘরে অটল রূপ নেহারে চেয়ে দেখ না তোরা

রূপের ঘরে অটল রূপ নেহারে চেয়ে দেখ না তোরা।
ফণি মণি জিনি রূপের বাখানি দুই রূপে আছে সেইরূপ হল করা।।

যে-জন অনুরাগী হয় রাগের দেশে যায়
রাগের তালা খুলে সে রূপ দেখতে পায়
রাগেরি কিরণ বিধি বিস্মরণ
নিত্য নীলের ও পার নেহারা।।

ও সে অটলরূপ সাই ভেবে দেখ তাই
সে রূপের কভু নিলে নিত্য নাই
যে-জন পঞ্চতত্ত্ব যজে, নিলে রূপে মজে
সে কি জানে অটলরূপ কী ধারা।।

আছে রূপের দরজায় শ্রীরূপ মহাশয়
রূপের তালা ছোড়ান তার হাতে সদাই
যে-জন শ্রীরূপে গত হবে তালার ছোড়ান পাবে
অধীন লালন বলে অধর ধরবে তারা।।

Posted from WordPress for Android


রাখিলেন সাই কূপজল করে আন্ধেলা পুকুরে

রাখিলেন সাই কূপজল করে আন্ধেলা পুকুরে।
কবে হবে সজল বরষা, রেখেছি মন সেই ভরসা
আমার এ ভগ্নদশা যাবে করদিন পরে
এবার যদি না পাই চরণ আবার কি পড়ি ফ্যারে।।

নদীর জল কূপজল হয়, বলবাঁওড়ে পড়ে রয়
সাধ্য কি সে গঙ্গাতে যায়, গঙ্গা না এলে পরে
তেমনি জীবের ভজন বৃথা তোমার দয়া নাই যারে।।

যন্তর পড়িয়ে অন্তর রয় যদি লক্ষ বছর
যন্ত্রিক বিহনে যন্ত্র কভু না বাজিতে পারে
আমি যন্ত্র তুমি যন্ত্রী সুবোল বলাও মোরে।।

শাস্ত্রে শুনেছি খাঁটি, পতিতপাবন নামটি
পতিতকে না তরাও যদি, কে ডাকবে ওই নাম ধরে
লালন বলে তরাও গো সাই এই ভব-কারাগারে।।

Posted from WordPress for Android


রাগ-অনুরাগ বাঁধা আছে যার

রাগ-অনুরাগ বাঁধা আছে যার
সোনার মানুষ উজ্জ্বল হৃদকমলে।
বেদ-পুরাণ আদি রাগের অনুবাদি
নব অনুরাগী তা দেয় রে ফেলে।।

অনুরাগের মন যেদিকে ফিরায়
পূর্ণচন্দ্র রূপ ঝলক দেখতে পায়
ক্ষণেক হাসে মন, ক্ষণেক সচেতন
ক্ষণেক ব্রহ্মাণ্ডের পর যায় রে চলে।।

অনুরাগের মন করে একান্ত
মনিহারা রূপ ফণীর মত
দেখলে তাহার মুখ, হৃদয়ে বাড়ে সুখ
পরশিলে অঙ্গ প্রেম উজ্জ্বলে।।

অনুরাগের যে সদাই করে আশা
অনুরাগে হয় তার দশম দশা
লালন ফকির কয় অনুরাগ যার নাই
কার্য সিদ্ধ হয় তার কোনকালে।।

Posted from WordPress for Android


রাসুলকে চিনলে পরে খোদা চিনা যায়

রাসুলকে চিনলে পরে খোদা চিনা যায়।
গেল রূপ ভাড়ায়ে দেশ বেড়ায়ে সেই দয়াময়।।

জন্ম যাহার এই মানবে
ছায়া তার পড়ে না ভূমে
দেখ দেখি তায় বর্তমানে
কে এলো এই মদিনায়।।

মাঠে ঘাটে রাসুলেরে
মেঘে রইতো ছায়া ধরে
দেখ দেখি তাই নিহাজ করে
জীবের কি সেই দরজা হয়।।

আহাম্মদ নাম লিখিতে
মিম হরফ হয় নফি করতে
সিরাজ সাই কয় লালন তাতে
কিছু নজির দেখায়।।

Posted from WordPress for Android