Category Archives:

যেতে সাধ হয় রে কাশী কর্মফাঁসি বাধলো গলায়

যেতে সাধ হয় রে কাশী কর্মফাঁসি বাধলো গলায়।
আমি আর কতদিন ঘুরবো এমন নাগরদোলায়।।

হলো রে একি দশা
সর্বনাশা
মনের ভোলায়;
ডুবলো ডিঙ্গা নিশ্চয়
বুঝি জন্মনালায়।।

বিধাতা দেয় বাজি
কিবা মনপাজি
ফ্যারে ফেলায়;
বাও না বুঝে বাই
তরণী ক্রমে তলায়।।

কলুর বলদ যেমন
ঢাকে নয়ন
পাকে চালায়;
অধীন লালন প’লো তেমনি পাকে
হেলায় হেলায়।।

Posted from WordPress for Android

Advertisements

যেদিন ডিম্ব ভরে ভেসেছিল সাই

যেদিন ডিম্ব ভরে ভেসেছিল সাই।
কে ছিল তার আগে তখন কারে বা শুধাই।।

পয়ার রূপ ধরিয়ে সে যে
দেখা দিল ঢেউতে ভেসে
কী নাম তার পাই নে দিশে
আগমেতে বলে কহে তাই।।

সৃষ্টি না করেছিল যখন
কে ছিল তার আগে তখন
শুনতে সেই অসম্ভব বচন
একের কুদরতে দুইজন তারাই।।

তারে না চিনতে পারি
অধরে কেমনে ধরি
লালন বলে সেহি নূরি
খোদার ছোট নবির বড় কয়।।

Posted from WordPress for Android


যেখানে সাইর বারামখানা

যেখানে সাইর বারামখানা।
শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা।।

যা ছুঁইলে প্রাণে মরি
এ জগতে তাইতে তরি
বুঝেও তা বুঝতে নারি
কীর্তিকর্মার কী কারখানা।।

আপ্ততত্ত্ব যে জেনেছে
দিব্যজ্ঞানী সে-ই হয়েছে
কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে
আমার মনের ঘোর গেল না।।

যে ধনে উতপত্তি প্রাণধন
সেই ধনের হ’ল না যতন
অকালের ফল পাকায় লালন
দেখে শুনে জ্ঞান হ’ল না।।

Posted from WordPress for Android


যেও না আন্দাজি পথে মন-রসনা

যেও না আন্দাজি পথে মন-রসনা।
কুপথে কুপ্যাঁচে প’লে প্রাণে বাঁচবে না।।

পথের পরিচয় করে
যাও না মনের সন্ধ মেরে
লাভ-লোকসান বুদ্ধির দ্বারে
যায় গো জানা।।

উজন ভেটেন পথ দুটি
দেখ নয়ন করে খাঁটি
দেও যদি মন গড়াভাটি
কূল পাবা না।।

অনুরাগ তরণী করো
ধার চিনে উজন ধরো
লালন কয় সে করতে পারো
মূল ঠিকানা।।

Posted from WordPress for Android


যে প্রেমে শ্যাম গৌর হয়েছে

যে প্রেমে শ্যাম গৌর হয়েছে।
সামান্যে তার মর্ম জানা কার সাধ্য আছে।।

না জেনে সেই প্রেমের তত্ত্ব
আন্দাজি প্রেম করছে কত
মরণফাঁসি নিচ্ছে সে-তো
পস্তাবে শেষে।।

মারে মতস্য না ছোঁয় পানি
হাওয়া ধরে বয় তরণী
তেমনি যেন প্রেম করণি
রসিকের কাছে।।

গোপীর অনুগত যারা
ভাব জেনে প্রেম করছে তারা
লালন ফকির পাগলপারা
ইন্দ্র লালসে।।

Posted from WordPress for Android


যে সাধন জোরে কেটে যায় কর্মফাঁসি

যে সাধন জোরে কেটে যায় কর্মফাঁসি।
জানবি সে সাধনের খেলা হও যেয়ে গুরুর দাসী।।

স্ত্রীলিঙ্গ পুংলিঙ্গ আর
নপুংসকে শাসিত কর
যে লিঙ্গ ব্রহ্মাণ্ডের পর
কর প্রকাশি।।

মারে মতস্য না ছোঁয় পানি
রসিকের তেমন করণি
আকর্ষণে আনে টানি
ক্ষিরোদ-শশী।।

কারণ সমুদ্রের পারে
গেলে পায় অধরচাঁদে রে
লালন বলে নইলে ঘুরে
মরবি চুরাশী।।

Posted from WordPress for Android


যে রূপে সাই আছে মানুষে

যে রূপে সাই আছে মানুষে।
শুদ্ধ রসের রসিক না হইলে খুঁজে পাবা না দিশে।।

বেদী ভাই বেদ পড়ে সদাই
আসলে গোলমাল বাধায়
রসিক ভেয়ে ডুবে হৃদয়
রতন পায় রসে।।

তালার উপরে তালা
তার ভিতরে আছে কালা
ঝলক দেয় সে দিনের বেলা
রসেতে ভেসে।।

লা-মুকামে আছে নূরি
এ কথা অকৈতব ভারি
লালন বলে দ্বারের দ্বারী
আদ্য মাতা সে।।

Posted from WordPress for Android