Category Archives:

ধ্যানে যারা পায় না মহামণি

ধ্যানে যারা পায় না মহামণি।
আছে এক অচিন মানুষ মীনরূপে সে ধরে পানি।।

জগৎ জোড়া মীন সেহি রে
খেলছে মান-সরোবরে
দেখা সাধ হয় গো তারে
দেখ ধরে রসিক সন্ধানী।।

নদীর গভীরে থাকে নির্জন
করিতে হয় নীর অন্বেষণ
যোগ পেলে ভাটি উজন
ধায় আপনি।।

যায় সে মহামীনকে ধরা
বাঁধতে পারলে নদীর ধারা
কঠিন সেই বাঁধাল করা
লালন তাতে খেলো চুবানি।।


না পড়িলে দায়েমি নামাজ সে কি রাজি হয়

না পড়িলে দায়েমি নামাজ সে কি রাজি হয়।
কোথায় খোদা কোথায় সেজদা করছো সদাই।।

বলেছে তার কালাম কিছু
আন্তা আবুদু ফান্তা রাহু
বুঝিতে হয় বোঝ কেহ
দিন তো বয়ে যায়।।

এক আয়েতে কয় তাফাক্কারুন
বোঝ তাহার মানে কেমন
কলুর বলদের মতন
ঘুরার কার্য নয়।।

আঁধার ঘরে সর্প ধরা
আছে সাপ নয় প্রত্যয় করা
লালন তেমনি বুদ্ধিহারা
পাগলের প্রায়।।


নজর একদিক দিলে আর একদিক অন্ধকার হয়

নজর একদিক দিলে আর একদিক অন্ধকার হয়।
নীরে নূরে দুটি নিহার কেমনে ঠিক রাখা যায়।।

আইন করল জগতজোড়া
সেজদা হারাম খোদা ছাড়া
মুরশিদ বরজোখ সামনে খাড়া
সেজদার সময় থুই কোথায়।।

শোগল রাবেতা বলে
বরজোখ লিখলে দলিলে
কারে থুয়ে কারে নিলে
দুই মনে এক কই দাঁড়ায়।।

বিলায়েতে হত বিচার
ঘুচে যেত ঘোর অন্ধকার
লালন ফকির এধার ওধার
দোধারে খাবি খায়।।


না হলে মন সরলা কি ধন মেলে কোথায় ঢুঁড়ে

না হলে মন সরলা কি ধন মেলে কোথায় ঢুঁড়ে।
হাতে হাতে বেড়াও কেবল তওবা পড়ে।।

মুখে যে পড়ে কালাম, তাইরি সুনাম
হুজুর বাড়ে;
ও যার মন খাঁটি নয় বাঁধলে কী হয়
বনে কুঁড়ে।।

মক্কা মদিনা যাবি, ধাক্কা খাবি
মন না মুড়ে;
হাজি নাম পাড়ানোর লভ্য কেবল
জগৎ জুড়ে।।

মন যার হয়েছে খাঁটি, মুখে যদি
গলদ পড়ে;
তাতে খোদা নারাজ নয় রে
লালন ভেড়ে।।


না বুঝে মজো না পিরিতে

না বুঝে মজো না পিরিতে।
বুঝে-সুঝে কর পিরিত শেষ ভাল দাঁড়ায় যাতে।।

ভবের পিরিত ভূতের কীর্তন
ক্ষণেক বিচ্ছেদ ক্ষণেক মিলন
অবশেষে বিপাকে মরণ
তেমাথা পথে।।

পিরিতি যদি হয় বাসনা
সাধুর কাছে জান গে বেনা
লোহা যেমন পরশে সোনা
হবে সেই মতে।।

এক পিরিতের বিভাগ চলন
কেউ স্বর্গে কেউ নরকে গমন
দেখে শুনে বলছে লালন
এই জগতে।।


নানারূপ শুনে শুনে প্রেমে শূন্য পলাম খাতায়

নানারূপ শুনে শুনে প্রেমে শূন্য পলাম খাতায়।
বুঝিতে বুঝিতে বোঝা চাপিল মাথায়।।

যা শুনিতে হয় বাসনা
শুনলে মনে আঁট বসে না
তার বড় শুনিয়ে মনা
দৌড়ায় সেথায়।।

একবার বলি যাই কাশীতে
আবার সাজি পেঁড়োয় যেতে
দিন গেল মোর দোটানাতে
যাই বা কোথায়।।

এক জেনে যে এক ধরিল
সেই সে পাড়ি সেরে গেল
লালন বার তালে প’লো
শেষ অবস্থায়।।


নাম পাড়ালাম রসিক ভেয়ে

নাম পাড়ালাম রসিক ভেয়ে।
না জেনে সেই রসের ভিয়ান মরতে হ’ল গরল খেয়ে।।

গোঁসাই লীলা চমৎকারা
বিষেতে অমৃত পুরা
অসাধ্যকে সাধ্য করা
ছুলে বিষ ওঠে ধেয়ে।।

দুগ্ধে যেমন থাকে ননী
ভিয়ানে বিভিন্ন জানি
সুধামৃত রস তেমনি
গরলে আছে ঢাকিয়ে।।

দুগ্ধ জলে যদি মিশায়
হংস হলে সে বেছে খায়
লালন বলে আমি সদাই
আমোদ করি জল হুদলায়ে।।


নামটি আমার সহজ মানুষ সহজ দেশে বাস করি

নামটি আমার সহজ মানুষ সহজ দেশে বাস করি।
বলি সদা রাধা রাধা রাধার প্রেমে ঘুরিফিরি।।

আমি ক্ষণেক থাকি স্বরূপ দেশে
আবার বেড়াই হাওয়ায় মিশে
ভক্তের উদ্দেশ্যে শতদলে মিশে
ঘৃত ছানা পান করি।।

আমি অযোধ্যার রাম গোপীগণের শ্যাম
যে ভাবে যখন ডাকে সে ভাবে পুরাই মনোস্কাম
ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছি তাই
শান্তিরসে ভোর করি।।

আমাকে ধরা সহজ নয় আমি যশোদার কানাই
ভক্তের মন রক্ষা করতে গো ধেনু চরাই
ভক্ত ছাড়া নাই কো আমি
সুবাতাসেতে ঘুরি।।

আমি রাই হৃদরসে ভক্তে থাকি মিশে
ভক্তির পরীক্ষা হলে পায় সে আয়াসে
ফকির লালন হলো অপদার্থ
চরণ ভিক্ষা দেও এসে।।


নারীর এত মান ভাল নয় গো রাই কিশোরী।

নারীর এত মান ভাল নয় গো রাই কিশোরী।
যত সাধে শ্যাম আরও মান বাড়াও ভারি।।

ধন্য তোর বুকের জোর
কাঁদালে জগৎ ঈশ্বর
করে মান জারি;
ইহার প্রতিশোধ কি
না নিবেন সেই হরি।।

ভাবেতে বুঝলাম দড়
শ্যাম হইতে মান বড়
হল তোমারি;
থাক থাক রাই দেখবো তোমার
সব ভারিভুরি।।

দেখেছ কে কোথায়
পুরুষকে পায়ে ধরায়
সে কোন নারী;
লালন কয় বিন্দে
মান কি তোর এতই ভারি।।


নিগূঢ় প্রেমকথাটি তাই আজ আমি শুধাই কার কাছে

নিগূঢ় প্রেমকথাটি তাই আজ আমি শুধাই কার কাছে।
কোন প্রেমে আল্লা নবি মিশলো মিয়ারাজে।।

মিয়ারাজ সেই প্রেমের ভুবন
গুপ্ত ব্যক্ত আলাপ করে দুইজন
তার কেবা পুরুষ কে প্রকৃতি
প্রমাণ তার কি লিখেছে।।

কোন প্রেমের প্রেমিক ফাতেমা
সাঁই কে করে পতি ভজনা
কোন প্রেমের দায়, ফাতেমাকে সাঁই
মা বোল্‍ বলে ডেকেছো।।

কোন প্রেমে হয় গুরু ভাবতরী
কোন প্রেমে হয় শিষ্য কাণ্ডারী
না বুঝে লালন প্রেমের অন্বেষণ
ভবে পিরিত করে মিছে।।