Category Archives:

ধন্য ভাব গোপীর ভাব আ মরি মরি

ধন্য ভাব গোপীর ভাব আ মরি মরি।
যাতে বাঁধা ব্রজের শ্রীহরি।।

ছিল কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা এমন
যে তারে যে করে ভজন
তাইতে হয় তারি;
সে প্রতিজ্ঞার না রহিল আর
করল গোপীর ভাবে মন চুরি।।

ধর্মাধর্ম নাই সে বিচার
কৃষ্ণসুখের সুখ গোপীকার
হয় নিরাত্তরি;
তাইতে দয়াময় গোপীর সদাই
মনের ভ্রমে তা জানতে নারি।।

গোপীকার সামান্য বুঝে
হরিকে না পেল ভজে
শ্রী নারায়ণি;
লালন কয় এমন আছে কত জন
বলতে হয় দিন আখেরি।।


ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে

ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে।
এমন বয়সে নিমাই ঘর ছেড়ে ফকিরি নিলে।।

ধন্য রে ভারতী যিনি
সোনার অঙ্গে দেয় কোপনি
শিখায়েছিল হরিধবনি
করেতে করঙ্গ দিলে।।

ধন্য পিতা বলি তারি
ঠাকুর জগন্নাথ মিশ্রি
ঘরে যার গৌরাঙ্গ হরি
মানুষরূপে জন্মাইলে।।

ধন্য রে নদীয়াবাসী
হেরিল গৌরাঙ্গ শশী
যে বলে জীব সন্ন্যাসী
লালন কয় সে ফ্যারে প’লে।।


ধর গো ধর গৌরাঙ্গচাঁদেরে

ধর গো ধর গৌরাঙ্গচাঁদেরে।
গৌর যেন পড়ে না বিভোর হয়ে ভূমের পরে।।

ভাবে গৌর হয়ে মত্ত
বাহু তুলে করে নৃত্য
কোথায় হস্ত কোথায় পদ
ঠাহর নাই অন্তরে।।

কার ভাবে গৌরহরি
দু’নয়নে বহে বারি
থর থর তনু তারি
বুঝি পড়া মাত্র যায় মরে।।

কার ভাবে আজ শচীসূতা
হালছে বেহাল গলে ক্যাঁথা
লালন বলে ব্রজের কথা
বুঝি জড়েছে মনের দ্বারে।।


ধন্য রে রূপ সনাতন জগৎমাঝে

ধন্য রে রূপ সনাতন জগৎমাঝে।
উজিরানা ছাড়িয়ে সে না ডোর-কোপিন সার করেছে।।

শাল দোশালা তেজে সনাতন
কৌপীন ক্যাঁথা করিল ধারণ
অন্ন বিনে শাক ভোজন
জীবন রক্ষা করিয়েছে।।

ছাড়িয়ে লোক আলাপন
একা প্রভুর বনপথে গমন
বনপশুরে শুধায় ডেকে
কোন পথে আজ যায় ব্রজে।।

হা হা প্রভু বলিতে আকুল হয়
অঘাটা অপথে পড়িয়া রয়
লালন বলে এমনি হালে
গুরুর দয়া হয়েছে।।


ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে

ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে।
সেকি সামান্য চোরা ধরবি কোনা-কান্‍চিতে।।

পাতালে চোরের বহর
দেখায় আসমানের উপর
তিন তারে হচ্ছে খবর
শুভাশুভ যোগমতে।।

কোথা ঘর কে বাসনা
কে করে তার ঠিক-ঠিকানা
হাওয়ায় তার লেনাদেনা
হাওয়া মূলাধার তাতে।।

চোর ধরে রাখবি যদি
হৃদগারদ কর গা খাঁটি
লালন কয় খুটিনাটি
থাকতে কি চোর দেয় ছুঁতে।।


ধর রে অধরচাঁদেরে অধরে অধর দিয়ে

ধর রে অধরচাঁদেরে অধরে অধর দিয়ে।
ক্ষীরোদ মৈথুনের ধারা, ধর রে রসিক নাগরা
যে রসেতে অধর ধরা, থেক রে সচেতন হয়ে।।

অরসিকের ভোলে ভুলে, ডুবিস নে কূপনদীর জলে
কারণবারির মধ্যস্থলে, ফুটেছে ফুল অচিন দলে
চাঁদ-চকোরা তাহে খেলে, প্রেমবাণে প্রকাশিয়ে।।

নিত্য ভেবে নিত্য থেক, লীলাবাসে যেয়ো নাকো
সেই দেশেতে মহাপ্রলয়, মায়েতে পুত্র ধরে খায়
ভেবে বুঝে দেখ মনুরায়, সে দেশে তোর কাজ কি যেয়ে।।

পঞ্চবাণের ছিলে কেটে, প্রেম যাজো স্বরূপের হাটে
সিরাজ সাঁই বলে রে লালন, বৈদিক বাণে করিস নে রণ
বাণ হারায়ে পড়বি যখন রণ খেলাতে হুবড়ি খেয়ে।।


ধোঁড় আজাজিল সেজদা বাঁকি রেখেছে কোনখানে

ধোঁড় আজাজিল সেজদা বাঁকি রেখেছে কোনখানে।
কর রে মন কর সেজদা সেই জায়গা চিনে।।

জগৎ জুড়ে করিল সেজদা
তবু ঘটলো দুরবস্থা
ঈমান না হল পোস্তা
খোড়াই জমিনে।।

এমন মাহিত্ম জায়গায়
সেজদা দিলে মকবুল হয়
আজাজিলের বিশ্বাস না হয়
নানতের তক্ত সেই জন্যে।।

ইবলিসের সেজদার উপর
সেজদা দিলে কী ফল তার
লালন কয় সেই বিচার
ত্বরায় লও জেনে।।