Category Archives:

দেখলাম কি কুদরতিময়

দেখলাম কি কুদরতিময়।
বিনা বীজে আজগুবি গাছ ফুল ধরেছে তাই।।

নাই সে গাছের আগাগোড়া
শূন্য ভরে আছে খাড়া
ফল ধরে তার ফুলটি ছাড়া
দেখে ধাঁধা হয়।।

বলবো কি সেই গাছের কথা
ফুল মধু ফলে সুধা
সৌরভে তার হরে ক্ষুধা
দরিদ্রতা যায়।।

জানলে গাছের অর্থ-বাণী
চেতনা বটে সেহি ধনি
গুরু বলে তারে মানি
লালন ফকির কয়।।


দেখলাম সেই অধরচাঁদের অন্ত নাই

দেখলাম সেই অধরচাঁদের অন্ত নাই।
নিকটে যার বারামখানা হেটলে মূঢ় নাইকো উপায়।।

জলে যেমন চাঁদ দেখি
ধরতে গেলে সকল ফাঁকি
অমনি সেই অধরচাঁদটি
চাঁদের আভা নিকট দূরে ঠাঁই।।

হয়ে গগন চন্দ্রের প্রমাণ
সবাই দেখে বর্তমান
যে যেখানে চাঁদ সেখানে
ধরতে কারো সাধ্য নাই।।

ঘাট অঘাটায় জানিবা
তখনি যেন চাঁদের আভা
গুরু বিনে তাই কি চেনে
লালন কয় গুরুপদ্ম উপায়।।


দেখবি যদি সেই চাঁদেরে

দেখবি যদি সেই চাঁদেরে।
যা যা কারণ সমুদ্রের পারে।।

যাস্‍ নে রে মন সামান্য নৌকায়
সেই নদী বিষম তড়কায়
প্রাণে হবি নাশ, থাকবে অপযশ
পার হবি যদি সাজাও প্রেমের তরীরে।।

তারণ্য কারণ্য আড়ি
যেজন দিতে পারে পাড়ি
সেই বটে সাধক, এড়ায় ভবরোগ
বসতি হয় তার অমর নগরে।।

মায়ার গিরাপি কাট
ত্বরায় প্রেমতরীতে ওঠ
কারণ সমুদ্রের নাও, পার হয়ে হুজুর দাও
অধীন লালন যাবে এবার গুরুর বাক ধরে।।


দেখবি যদি সোনার মানুষ দেখে যারে মন পাগলা

দেখবি যদি সোনার মানুষ দেখে যারে মন পাগলা।
অষ্টাঙ্গ গোলাপি বর্ণ পূর্ণ কায়া ষোল কলা।।

ময়ূরীর কেশ ফিঙ্গেরি নাক
দেখবি যদি তাকিয়ে দেখ
ঐ রূপ দেখে চুপ মেরে থাক
বংশহীন তার হংসগলা।।

দুটি উরোত কলারি বোগ দেখতে গোল
সিংহমাজা দেখি কেবল
তাহাতে রয়েছে যুগল
অনাদি কালা।
বুকস্থলে চাঁদের ছটা
নাভিমূলে ঘোরে লেটা
দুটি বাহু বেলল কাঁটা
দুটি হস্ত জবাফুল।।

যে দেখে সে মহাযোগী
সে হয় না অন্যভোগী
লালন বলে সেই তো ত্যাগী
হয়েছে তার পূর্ণকলা।।


দেল-দরিয়ায় ডুবে দেখ না

দেল-দরিয়ায় ডুবে দেখ না।
অতি অজান খবর যাবে জানা।।

ত্রিবেণীর পিছল ঘাটে
বিনে হাওয়ায় মৌজা ওঠে
উত্তরায় পানি নাই, ভিটে ভেসে যায়
শুনলে কি পাবি কারখানা।।

আলখানার শহর ভারি
তাহে আজব কারিগিরি
বোবায় কথা কয়, কালায় শুনতে পায়
আন্ধলায় পরখ করছে সোনা।।

কইবার যোগ্য নয় কথা
সাগরে ভাসে জগৎমাতা
লালন বলে মার উদরে, পিতা জন্মে
পত্নীর দুগ্ধ খেল সে না।।


দেল-দরিয়ায় ডুবিলে কি সে ধড়ের খবর পায়

দেল-দরিয়ায় ডুবিলে কি সে ধড়ের খবর পায়।
নইলে পুথি পড়ে পণ্ডিত হইলে কি হয়।।

স্বয়ং রূপ সৃষ্টি করে
দিব্যজ্ঞানী যারা ভাবে বোঝে তারা
মানুষ ভজে কার্য সিদ্ধি করে যায়।।

একেতে হয় তিনটি আকার
অযোনী সহজ সংস্কার
যদি ভাবতরঙ্গে তর মানুষ চিনে ধর
দিনমণি গেলে কি হবে উপায়।।

মূল হইতে হয় ডালের সৃজন
ডাল ধরে পায় মূল অন্বেষণ
অমনি রূপ হইতে স্বরূপ তারে ভেবে বেরূপ
অবোধ লালন সদাই নিরূপ ধরতে চায়।।


দেখে শুনে ঘোর গেল না

দেখে শুনে ঘোর গেল না।
কী করিতে কী করিলাম দুগ্ধেতে মিশিল চোনা।।

মদন-রাজার ডাঙ্গা ভারি
হলাম তার আজ্ঞাকারী
যার মাটিতে বসত করি
চিরদিন তারে চিনলাম না।।

রাগের আশ্রয় নিলে তখন
কী করিতে পারে মদন
আমার হলো কামলোভী মন
মদন রায়ের গাঁটরি টানা।।

উপর হাকিম একদিনে
কৃপা করতো নিজ গুণে
দিনের অধীন লালন ভণে
যেত মনের দোটানা।।