Category Archives:

দেখবি যদি সোনার মানুষ দেখে যারে মন পাগলা

দেখবি যদি সোনার মানুষ দেখে যারে মন পাগলা।
অষ্টাঙ্গ গোলাপি বর্ণ পূর্ণ কায়া ষোল কলা।।

ময়ূরীর কেশ ফিঙ্গেরি নাক
দেখবি যদি তাকিয়ে দেখ
ঐ রূপ দেখে চুপ মেরে থাক
বংশহীন তার হংসগলা।।

দুটি উরোত কলারি বোগ দেখতে গোল
সিংহমাজা দেখি কেবল
তাহাতে রয়েছে যুগল
অনাদি কালা।
বুকস্থলে চাঁদের ছটা
নাভিমূলে ঘোরে লেটা
দুটি বাহু বেলল কাঁটা
দুটি হস্ত জবাফুল।।

যে দেখে সে মহাযোগী
সে হয় না অন্যভোগী
লালন বলে সেই তো ত্যাগী
হয়েছে তার পূর্ণকলা।।


দেল-দরিয়ায় ডুবে দেখ না

দেল-দরিয়ায় ডুবে দেখ না।
অতি অজান খবর যাবে জানা।।

ত্রিবেণীর পিছল ঘাটে
বিনে হাওয়ায় মৌজা ওঠে
উত্তরায় পানি নাই, ভিটে ভেসে যায়
শুনলে কি পাবি কারখানা।।

আলখানার শহর ভারি
তাহে আজব কারিগিরি
বোবায় কথা কয়, কালায় শুনতে পায়
আন্ধলায় পরখ করছে সোনা।।

কইবার যোগ্য নয় কথা
সাগরে ভাসে জগৎমাতা
লালন বলে মার উদরে, পিতা জন্মে
পত্নীর দুগ্ধ খেল সে না।।


দেল-দরিয়ায় ডুবিলে কি সে ধড়ের খবর পায়

দেল-দরিয়ায় ডুবিলে কি সে ধড়ের খবর পায়।
নইলে পুথি পড়ে পণ্ডিত হইলে কি হয়।।

স্বয়ং রূপ সৃষ্টি করে
দিব্যজ্ঞানী যারা ভাবে বোঝে তারা
মানুষ ভজে কার্য সিদ্ধি করে যায়।।

একেতে হয় তিনটি আকার
অযোনী সহজ সংস্কার
যদি ভাবতরঙ্গে তর মানুষ চিনে ধর
দিনমণি গেলে কি হবে উপায়।।

মূল হইতে হয় ডালের সৃজন
ডাল ধরে পায় মূল অন্বেষণ
অমনি রূপ হইতে স্বরূপ তারে ভেবে বেরূপ
অবোধ লালন সদাই নিরূপ ধরতে চায়।।


দেখে শুনে ঘোর গেল না

দেখে শুনে ঘোর গেল না।
কী করিতে কী করিলাম দুগ্ধেতে মিশিল চোনা।।

মদন-রাজার ডাঙ্গা ভারি
হলাম তার আজ্ঞাকারী
যার মাটিতে বসত করি
চিরদিন তারে চিনলাম না।।

রাগের আশ্রয় নিলে তখন
কী করিতে পারে মদন
আমার হলো কামলোভী মন
মদন রায়ের গাঁটরি টানা।।

উপর হাকিম একদিনে
কৃপা করতো নিজ গুণে
দিনের অধীন লালন ভণে
যেত মনের দোটানা।।


দেহের খবর বলি শোন রে মন

দেহের খবর বলি শোন রে মন।
দেহের উত্তর দিকে আছে বেশি দক্ষিণেতে আছে কম।।

দেহের খবর না জানিলে
আপ্ততত্ত্ব কিসে মেলে
লাল জরদ ছিয়া ছফেদ
বাহান্ন বাজার এই চারিকোণ।।

আগে খুঁজে ধর তারে
নাসিকাতে চলে ফেরে
নাভিপদ্মের মূল দুয়ারে
বসে আছে সর্বক্ষণ।।

আঠারো মোকামে মানুষ
যে না জানে সেহি তো বেহুশ
লালন বলে থাক রে হুশ
আদ্য মোকামে তার আসন।।


দেখ না আপন দেল-মন ধুড়ে

দেখ না আপন দেল-মন ধুড়ে।
দিন-দোনের মালিক সে যে আছে ধড়ে।।

আপনি ঘর সে আপনি ঘরি
আপনি করে চৌকিদারি
আপনি সে করে চুরি
আপন ঘরে।।

আপনি ফানা আপনি ফকির
আপনি করে আপনার জিকির
বুঝবে কে রে আলেক ফিকির
বেদ-ভাষ পড়ে।।

নানা স্থানে নানান মায়ায়
আমি আমি শব্দ কে কয়
লালন কয় ছন্দি যে পায়
ঘোর যায় ছেড়ে।।

Posted from WordPress for Android


দিল-দরিয়ার মাঝে দেখলাম আজব কারখানা

দিল-দরিয়ার মাঝে দেখলাম আজব কারখানা।
ডুবলে পরে রতন পাবে ভাসলে পরে পাবে না।।

দেহের মাঝে বাড়ি আছে
সেই বাড়িতে চোর লেগেছে
ছয়জনাতে সিদ কাটিছে
চুরি করে একজনা।।

দেহের মাঝে নদী আছে
সেই নদীতে নৌকা চলছে
ছয়জনাতে গুন টানিছে
হাল ধরেছে একজনা।।

দেহের মাঝে বাগান আছে
নানা জাতের ফুল ফুটেছে
সৌরভে জগৎ মেতেছে
লালনের প্রাণ মাতলো না।।

Posted from WordPress for Android


দিব্যজ্ঞানে দেখ রে মনুরায়

দিব্যজ্ঞানে দেখ রে মনুরায়।
ঝরার খালে বাঁধ বাঁধিলে রূপের পুলক ঝলক দেয়।।

পূর্বদিকে রত্নবেদী
ডালিম্বের পুষ্পজ্যোতি
তাহে খেলছে রূপ আকৃতি
বিজলী চটকের ন্যায়।।

তথায় ক্ষীরোদ রসে
অখণ্ড শিখর ভাসে
রত্নবেদীর ঊর্ধ্ব পাশে
কিশোর-কিশোরী রাই।।

শ্রীরূপের আশ্রিত যারা
সব খবরের জবর তারা
লালন বলে অধর ধরা
ফাঁদ পেতে ত্রিবেণী রয়।।

Posted from WordPress for Android


দিবানিশি থাক রে মন বাহুশারি

দিবানিশি থাক রে মন বাহুশারি।
রাসুল বলে এ দুনিয়া মিছে ঝাকমারি।।

পড়িলে আউজবিল্লা
দূরে যায় তার লানতুল্লা
মুরশিদরূপ যে করে হিল্লা
শঙ্কা যায় তারি।।

অসত অভক্তজনা
তারে গুপ্তভেদ বলো না
বলিলে সে মানিবে না
করবে অহংকারী।।

ব্যক্ত কথা সব ছফিনায়
গুপ্ত ভেদ সব দিলাম ছিনায়
অমনি মত তোমরা সবাই
দিও সবারি।।

খলিফা আউলিয়া রইলে
যে যা বোঝে দিও বলে
লালন বলে নিদানকালে
নবির নছিহত জারি।।

Posted from WordPress for Android


দিনের দিন হল আমার দিন আখেরি

দিনের দিন হল আমার দিন আখেরি।
আমি ছিলাম কোথা এলাম হেথা
আবার যাব কোথা সদাই ভেবে মরি।।

বাল্যকাল খেলাতে গেল
যৌবনে কলঙ্ক হ’ল
বৃদ্ধকাল সামনে এল
মহাকাল এসে করল অধিকারী।।

বসত করি দিবারাতে
ষোলজন বোম্বেটের সাথে
আমায় যেতে দেয় না সরল পথে
কাজে কামে করে দাগাদারী।।

যে আশায় এই ভবে আসা
আশায় প’লো ভগ্নদশা
লালন বলে হায় কী দশা
আমার উজান যেতে ভেটে প’লো তরী।।