Category Archives:

তোমরা আর আমায় কালার কথা বল না

তোমরা আর আমায় কালার কথা বল না।
ঠেকে শিখলাম গো কালো রূপ আর হেরবো না।।

পরলাম কলঙ্কের হার
তবু তো ও কালার
মন তো পেলাম না;
যেমন রূপ কালা
অমনি উহার মন কালা।।

প্রেমের কি এই শিক্ষে
বেড়ায় ব্যঞ্জন চেখে
লজ্জা গণে না;
ঘৃণায় মরে যাই
এমন প্রেম আর করবো না।।

যেমন চন্দ্রাবলি
অমনি রাখাল অলি
থাক সে দুইজনা;
শুনে রাধার বোল
লালনের বোল সরে না।।

Advertisements

তোমার ঠিকের ঘরে ভুল পড়েছে মন

তোমার ঠিকের ঘরে ভুল পড়েছে মন।
কীসে চিনবি রে মানুষরতন।।

আপন খবর নাই আপনারে
বেড়াও পরের খবর করে
আপনারে চিনলে পরে
পরকে চিনা যায় তখন।।

ছিলি কোথা আলি হেথা
স্মরণ কিছু হল না তা
কী দেখে মুড়ালি মাথা
পথের নাই অন্বেষণ।

যার সঙ্গে এই ভবে আলি
তারে আজ কোথায় হারালি
সিরাজ সাঁই কয় পেট শাখালি
তাই লয়ে পাগল লালন।।


তোমার মত দয়াল বন্ধু আর পাব না

তোমার মত দয়াল বন্ধু আর পাব না।
দেখা দিয়ে ওহে রাসুল ছেড়ে যেও না।।

তুমি তো খোদার দোস্ত
অপারের কাণ্ডারী সত্য
তোমা বিনে পারের লক্ষ্য
আর তো দেখি না।।

আসমানি এক আইন দিয়ে
আমাদের সব আনলে রাহে
এখন মোদের ফাঁকি দিয়ে
ছেড়ে যেও না।।

আমরা সব মদিনাবাসী
ছিলাম যেমন বনবাসী
তোমা হতে জ্ঞান পেয়েছি
আছি সান্ত্বনা।।

তুমি বিনে এরূপ শাসন
কে করবে আর দীনের কারণ
লালন বলে আর তো এমন
বাতি জ্বলবে না।।


তোর ছেলে যে গোপাল সে সামান্য নয় মা

তোর ছেলে যে গোপাল সে সামান্য নয় মা।
আমরা চিনেছি তারে বলি মা তোরে তুই ভাবিস যা।।

কার্য দ্বারা জ্ঞান হয় যে
অটলচাঁদ নেমেছে ব্রজে
নইলে বিষম কালিদয় বিষের জ্বালায়
বাঁচিত না।।

যে ধন বাঞ্ছিত সদাই
তোর ঘরে মা সে দয়াময়
নইলে কি গো তার, বাঁশির স্বরে ধার
ফেরে গঙ্গা।।

যেমন ছেলে গোপাল তোমার
অমন ছেলে আর আছে কার
লালন বলে যে গোপালের অঙ্গে
গোপাল হয় মা।।


তোরা কেউ যাস নে ও পাগলের কাছে

তোরা কেউ যাস নে ও পাগলের কাছে।
তিন পাগলে হলো মেলা নদে’ এসে।।

একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে
দৌড়ে যেয়ে;
তার জেতের বোল, এমন পাগল
কে দেখেছে।।

একটা নারকেলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা
করঙ্গ সে;
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে
ধূলোর মাঝে।।

পাগলের নামটি এমন
বলিতে অধীন লালন
হয় তরাসে;
ও সে চৈতে নিতে অদ্বে পাগল
নাম ধরেছে।।


তোরা দেখ না রে মন দিব্যনজরে

তোরা দেখ না রে মন দিব্যনজরে।
চারিচাঁদ দিচ্ছে ঝলক মণিকোঠার ঘরে।।

হলে সে চাঁদের সাধন
অধরচাঁদ হয় দরশন
হয় রে;
ও সে চাঁদেতে চাঁদের আসন
রেখেছে ফিকিরে।।

চাঁদে চাঁদে ঢাকা দেওয়া
চাঁদে দেয় চাঁদের খেওয়া
দেয় রে;
জমিনেতে ফলছে মেওয়া
ঐ চাঁদের সুধা ঝরে।।

নয়নচাঁদ প্রসন্ন যার
সকল চাঁদ দৃষ্ট হয় তার
হয় রে;
অধীন লালন বলে বিপদ আমার
গুরুচাঁদ ভুলে রে।।


তুমি তো গুরু স্বরূপের অধীন

তুমি তো গুরু স্বরূপের অধীন।
আমি ছিলাম সুখে ঊর্ধ্ব দেশে
অধে এনে করলে আমায় হীন।।

তুমি মাতা তুমি পিতা
তুমি হও জ্ঞানদাতা
তুমি চক্ষু দান দিয়ে
দেখাও আমায় শুভদিন।।

আমি গুরুর করবো ভজন
তাতে বাদী হলো ছয়জন
ও সে দশে ছয়ে ষোলআনা
হলো না মোর সেইদিন।।

ভক্তি নইলে কি মন
গুরুচরণ হয় শরণ
অধীন লালন ভেবে কয়
কেমনে শুধিব গুরুঋণ।।

Posted from WordPress for Android