Category Archives:

জ্যান্তে মরা প্রেম সাধন পারবি তোরা

জ্যান্তে মরা প্রেম সাধন পারবি তোরা।
যে প্রেমে কিশোর-কিশোরী হয়েছে হারা।।

শোসায় শোষে না ছাড়ে বাণ
ঘোর তুফানে বায় তরী উজান
ও তার কামনদীতে চর পড়েছে
প্রেমনদীতে জল পোরা।।

হাঁটতে মানা, আছে চরণ
মুখ আছে তার, খাইতে বারণ
ফকির লালন কয়, এ যে কঠিন মরণ
তা কি পারবি তোরা।।


জমির জরিপ একদিনেতে সারা

জমির জরিপ একদিনেতে সারা।
আগার পাগার আছে তোমার ঠিকেতে ঠিক করা।।

এই দেহে আঠার কালি
সে কথা এখন বলি
পণ্ডিতে পায় না খুঁজি
বুঝবে ভাবুক যারা।।

একেতে তিন ভাগ করিয়ে
বারগুণ আকার দিয়ে
অতিত-পতিত রয় বহিরে
ভিতরে বালুচরা।।

দুই পয়ারে এক চরে পাখি
জগতে নাই তাকিয়ে দেখি
একবার তার ফাঁকিফুকি
বুঝবি কিসে তোরা।।

চিকন ধারে নলটি ধরে
রাখে না জমিন জরিপ করে
মস্তক ছেদন করা দেখে
লালন দিশেহারা।।

Posted from WordPress for Android


জগতের মূল কোথা হতে হয়

জগতের মূল কোথা হতে হয়।
আমি একদিন চিনিলাম না তায়।।

কোথায় আল্লার বসতি
কোথা রাসুলের স্থিতি
পবন পানির কোথায় গতি
কিসে তা জানা যায়।।

কোন্‍ আসনে আল্লা আছে
কোন্‍ আসনে রাসুল বসে
কোন্‍ হিল্লোলে মীন মিশে
কোন্‍ রঙে রঙ ধরায়।।

দালে মিম বসালে যা হয়
সেই কি জগতে মূল কয়
কোথা বা আরশ কোথা বা মিম
এ কথা কারে শুধায়।।

আল্লা নবি যারে বলে
দেখতে পায় মন এক হলে
লালন বলে কাতর হালে
আমার কী হবে উপায়।।


জগৎ মুক্তিতে ভুলালেন সাঁই

জগৎ মুক্তিতে ভুলালে সাঁই।
ভক্তি দাও হে যাতে চরণ পাই।।

রাঙ্গাচরণ দেখব বলে
বাঞ্ছা সদাই হৃদকমলে
তোমার নামের মিঠায় মন মজেছে
রূপ কেমন তাই দেখতে চাই।।

ভক্তিপদ বঞ্চিত করে
মুক্তিপদ দিচ্ছে তারে
যাতে জীব ব্রহ্মাণ্ডে ঘোরে
কাণ্ড তোমার দেখি তাই।।

চরণের যোগ্য মন নয়
তথাপি মন ওই চরণ চাই
অধীন লালন বলে হে দয়াময়
দয়া কর আজ আমায়।।


জগৎ আলো করেছে সই ও ফুলে প্রেমের কলি

জগৎ আলো করেছে সই ও ফুলে প্রেমের কলি।
ফুটে কি শোভা হয়েছে ও তার বাগানে এক মালি।।

ফুলের নামটি নীল, লাল, জবা
ও তার ফুলে মধু ফলে সুধা
ও তার ভঙ্গি বাঁকা, সে ফুলে হয় সাধুর সেবা
ও কৃষ্ণ-বাঁকা-অলি।।

ফুল ফুটে হয় জগৎ আলো
ও তারে দেখে প্রাণ শীতল হলো
ফকির লালন বলে উপায় বলো
সাজছে সাধু দরবেশ অলি।।