Category Archives:

খোদে খোদার প্রেমিক যে জনা

খোদে খোদার প্রেমিক যে জনা।
মুর্শিদের রূপ হৃদয় রেখে কর ভজন সাধনা।।

আগে চায় রূপটি চেনা
তবে যাবে খোদাকে জানা
মুর্শিদকে না চিনলে পরে
হবে না তোর ভজনা।।

আগে মনকে নিষ্ঠা কর
নবি নামের মালা গাঁথ
অহর্নিশি চেতন থাক
কর কাল-যাপনা।।

সিরাজ সাঁইজীর চরণ ভুলে
অধীন লালন কেঁদে বলে
চরণ পাই যেন অন্তিমকালে
আমায় ফেল না।।

Posted from WordPress for Android


খোদে খোদার প্রেমিক যে জনা

খোদে খোদার প্রেমিক যে জনা।
মুর্শিদের রূপ হৃদয় রেখে কর ভজন সাধনা।।

আগে চায় রূপটি চেনা
তবে যাবে খোদাকে জানা
মুর্শিদকে না চিনলে পরে
হবে না তোর ভজনা।।

আগে মনকে নিষ্ঠা কর
নবি নামের মালা গাথ
অহর্নিশি চেতন থাক
কর কাল-যাপনা।।

সিরাজ সাইজীর চরণ ভুলে
অধীন লালন কেদে বলে
চরণ পাই যেন অন্তিমকালে
আমায় ফেল না।।


খেলছে মানুষ নীরে ক্ষীরে

খেলছে মানুষ নীরে ক্ষীরে।
আপন আপন ঘর খোঁজ
কেন হাতরে বেড়াও কোলের ঘরে।।

নীরসিন্ধু গভীর অতিকায়
ডুবলে কত আজব কাণ্ড দেখা যায়
নীরের ভাণ্ড, পুরা ব্রহ্মাণ্ড
কাণ্ড বলতে নয়ন ঝরে।।

শূন্যদেশে হয় মেঘের উদয়
নীরদ বিন্দু বারি বরিষণ তায়
ফলছে কত ফল, রঙ বেরঙের হল
আজব কুদরতি ফল ভাবের ঘরে।।

ইন্দ্র ডঙ্কা নাহি সে রাজ্যে
সহজ মানুষ ফেরে সহজে
সিরাজ সাইর বচন, মিথ্যা নয় লালন
ডুব দিয়ে দেখ স্বরূপ দ্বারে।।


খুলবে কেন সে ধন ও তার গাহেক বিনে

খুলবে কেন সে ধন ও তার গাহেক বিনে।
মুক্তামণি রেখেছে ধনি বোঝাই করে সেই দোকানে।।

সাধু-সওদাগর যারা
মালের মূল্য জানে তারা
মন দিয়ে মন, অমূল্য রতন
জেনে চিনে তারাই কেনে।।

মাকাল ফলের রূপ দেখে
সদাই যেমন নাচে কাকে
তেমনি মন মোর, চটকে বিভোর
সার পদার্থ নাহি চেনে।।

মন তোমার গুণ জানা গেল
পিতল কিনে সোনা বল
সিরাজ সাইর বচন, মিথ্যা নয় লালন
মূল হারালি তুই দিনে দিনে।।


খুঁজে ধন পাই কি মতে, পরের হাতে ঘরের কলকাঠি

খুঁজে ধন পাই কি মতে, পরের হাতে ঘরের কলকাঠি।
আবার শতেক তালা আটা ঘরে মাল কুঠি।।

শব্দ নি:শব্দের কুড়ে
সদাই তারা আছে জুড়ে
দিয়ে জীবের নজরে
ঘোর কাঠি।।

আপন ঘরে পরের কারবার
দেখলাম না তার বাড়িঘর
আমি বেহুঁশ মুটে বা কার
মোট খাটি।।

থাকতে রতন আপন ঘরে
একী বেহাত আজ আমারে
লালন বলে মিছে মন রে
এ ঘর-বাটি।।


খালি ভাড় থাকবে রে পড়ে

খালি ভাড় থাকবে রে পড়ে।
দিনে দিন কর্পূর তোর যাবে রে উড়ে।।

মন যদি গোলমরিচ হতো
তবে কি আর কর্পূর যেতো
তিলক আদি না থাকিত
সুসঙ্গ ছেড়ে।।

অমূল্য কর্পূর যাহা
ঢাকা দেওয়া আছে তাহা
কেমনে প্রবেশে হাওয়া
কর্পূরের ভাড়ে।।

সে ধন রাখিবার কারণ
নিলে না গুরুর স্মরণ
লালন বলে বেড়াই এখন
আগাড় ভাগাড়ে।।


খাকি আদমের ভেদ পশু কি বোঝে

খাকি আদমের ভেদ পশু কি বোঝে।
আদমের কালেবে খোদা খোদে বিরাজে।।

আদম শরীর আমার
ভাষায় বলেছে অধর, সাই নিজে;
নইলে কি তায় আদমকে সেজদা
ফেরেস্তা সাজে।।

শুনি আজাজিল খাসতন
খাকে আদমতন গঠন, গঠেছে সে;
সেই আজাজিল শয়তান হল
আদম না ভজে।।

আব-আতস-খাক-বাত-ঘর
গঠেছেন জান মালেক মুক্তার
সাই নিজে;
লালন বলে এ ভেদ জানলে
সব জানে সে যে।।