Category Archives:

ও মন কর সাধনা মায়ায় ভুল না

ও মন কর সাধনা মায়ায় ভুল না।
নইলে আর সাধন হবে না।।

সিংহের দুগ্ধ স্বর্ণপাত্রে রয়
মেটেপাত্রে দিলে ও মন কেমন দেখায়
মনপাত্র হলে মেটে, কী করবি কেদে কেটে
আগে কর সেই পাত্রের ঠিকানা।।

চেতনগুরুর সঙ্গে কর ভগ্নাংশ শিক্ষা
বীজগণিতে পূর্ণমান হবে তাতে পাবি রক্ষা
মনমতি ভাল হও, দীক্ষা-শিক্ষা লও
মানসাংক কষতে যেন ভুল কর না।।

বাংলা শিক্ষা কর মন আগে
ইংরাজিতে মন তোমার রাখ বিভাগে
বাংলা না শিখিয়ে, ইংরাজিতে মন দিয়ে
লালন বলে করছ পাসের ভাবনা।।


ওমা যশোদে তায় আর বললে কী হবে

ওমা যশোদে তায় আর বললে কী হবে।
গোপালকে যে এটো দেয় মা মনে যে ভাব ভেবে।।

কান্ধে চড়ায় কান্ধে চড়ি
যে ভাব ধরায় সে ভাব ধরি
এইসব বাসনা তারি
বুঝে ছিলাম পূর্বে।।

মিঠার জন্যে এটো দিই মা
পাপ-পুণ্যের জ্ঞান থাকে না
গোপাল খেলে হই সান্ত্বনা
পাপ-পুণ্য কে ভাবে।।

গোপালের সঙ্গে যে ভাব
বলতে আকুল হয় মা তা সব
লালন বলে পাপ-পুণ্য লাভ
ভুল হয় গোপালকে সেবে।।


ও তোর ঠিকের ঘরে ভুল পড়েছে মন

ও তোর ঠিকের ঘরে ভুল পড়েছে মন।
কী সে চিনবি রে মানুষরতন।।

আপন খবর নাই আপনারে
বেড়াও পরের খবর করে
মন রে আপনারে চিনলে পরে
পরকে চেনা যায় তখন।।

ছিলি কোথা আলি কোথা
স্মরণ কিছু হলো না তা
কী বুঝে মুড়ালি মাথা
পথের নাহি অন্বেষণ।।

যার সাথে এই দেশে এলি
তারে আজ কোথায় হারালি
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয়, পেট শাখালি
তাই লয়ে পাগল লালন।।


ও গৌরের ভাব রাখিতে সামান্যে কি পারবি তোরা

ও গৌরের ভাব রাখিতে সামান্যে কি পারবি তোরা।
কুলশীলে ইস্তফা দিয়ে হতে হবে জ্যান্ত মরা।।

থেকে থেকে গোরার হৃদয়
কত না ভাব হয় গো উদয়
ভাব জেনে ভাব নিতে সদাই
জানবি কঠিন কেমন ধারা।।

পুরুষ নারীর ভাব থাকিতে
পারবি কিসে ভাব রাখিতে
আপনার আপনি হয় ভুলিতে
যেজন গৌর রূপ নিহারা।।

গৃহে ছিলি ভালই ছিলি
কেন গৌরহাটায় মরতে এলি
লালন বলে কী আর বলি
দুকূল যেন হসনে হারা।।


ও গো বিন্দে ললিতে

ও গো বিন্দে ললিতে।
আমি কৃষ্ণহারা হলাম এ জগতে।।

ও সখিরে চল আমরা বনে যাই
বন্ধুর দেখা নাই
বৃন্দাবন আছে কত দূরে ;
ছাড়িয়া ভাবের মায়া দেহ করিলাম পদছায়া
ললিতে তার পায়ের ধবনি শুনিতে।।

আগে সখি , পাছে সখি
শত সখি দেখি
সব সখিরে কর্ণে সোনা রে ;
নদীর কূলে বাজায় বাশি , কপালী তিল তোরসী
রাধিকার বন্ধু হয় কোন জনাতে।।

বনেরও পশু যারা
আমার থেকে ভাল তারা
সঙ্গে লয়ে থাকে আপন পতিরে ;
তারা পতির সঙ্গে করে আহার , পতির সঙ্গে করে বিহার
লালন বলে মজে থাকে আপনার পিরিতে।।


ও গো ব্রজ নীলে একি নীলে

ও গো ব্রজ নীলে একি নীলে।
কৃষ্ণ গোপিকারে জানাইলে।।

যারে নিজ শক্তিতে গঠলে নারায়ণ
আবার গুরু বলে ভজলে তার চরণ
একি ব্যবহার শুনে চমৎকার
জীবের বোঝা ভার ভূমণ্ডলে।।

নীলে দেখিয়ে কম্পিত ব্রজধাম
নারীর মান ঘুচাইতে যোগী হলে শ্যাম
দুর্জয় মানের দায় . বাঁকা শ্যামরায়
নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।।

ত্রিজগতের চিন্তা শ্রীহরি
আজ কি নারীর চিন্তা হলেন গো হরি
অসম্ভব বচন , ভেবে কয় লালন
রাধার দাসখতে শ্যাম বিকালে।।


ওগো রাইসাগরে নামলো শ্যামরায়

ওগো রাইসাগরে নামলো শ্যামরায়।
তোরা ধর গো হরি ভেসে যায়।।

রাইপ্রেমের তরঙ্গ ভারি
তাতে থাই দিতে কি পারবে হরি
ছেড়ে রাজস্ব প্রেমে উদ্দিশ্য
কৃষ্ণের চিত্তে ক্যাথা ওড়ে গায়।।

ওগো চার যুগেতে ঐ কেলে সোনা
তবু শ্রীরাধার দাস হইতে পারলে না
যদি হতো দাস যেত অভিলাষ
ওরে আসবে কেন নদীয়ায়।।

তিনটি বাঞ্ছা অভিলাষ করে
হরি জন্ম নিলে শচীর ঘরে
সিরাজ সাইর চরণ ভেবে কয় লালন
সে ভাব জানলে প্রেমে রসিক হয়।।