Category Archives:

আয় দেখে যা নতুন ভাব এনেছে গোরা

আয় দেখে যা নতুন ভাব এনেছে গোরা ।
মুড়িয়ে মাথা গলে ক্যাঁথা কটিতে কৌপীন পরা ।।

গোরা হাসে-কাঁদে ভাবের অন্ত নাই
সদাই দীনদরদী বলে ছাড়ে হাই
ও সে জিজ্ঞাসিলে কয় না কথা
হয়েছে কী ধনহারা ।।

গোরা হাল ছেড়ে বেহাল হয়েছে
আপনি মেতে জগৎ মাতিয়েছে
মরি হায় কী নীলে কলিকালে
বেদবিধি চমৎকারা ।।

সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি হয়
গোরা তার মাঝে এক দিব্য যুগ দেখায়
লালন বলে সে ভাব জানে
ওই ভাবের ভাবুক যারা ।।


আলেফ লাম মিমেতে

আলেফ লাম মিমেতে
কোরান তামাম শোধ লিখেছে ।।

আলেফে আল্লাজি, মিম মানে নবি
লামের হয় দুই মানে
এক মানে হয় শরায় প্রচার
আরেক মানে মারফতে ।।

দরময়ানে লাম, আছে ডানি বাম
আলেফ মিম দুইজনে
যমন গাছ বীজ অঙ্কুর, এই মতো ঘুর
আমি না পারি বুঝিতে ।।

ইশারায় বচন কোরানে যেমন
হিসাব কর দেলেতে
পাবি লালন সব অন্বেষণ
ঘুরিস নে ঘোর-পথে ।।


আর তো কালার সে ভাব নাই কো সই

আর তো কালার সে ভাব নাই কো সই ।
সে না ত্যজিয়ে মদন প্রেমপাথারে খেলছে সদাই প্রেম-ঝাঁপাই ।।

আগর চন্দন ভূষিত সদাই
সেই কালাচাঁদ ধুলোতে লুটায়
থেকে থেকে বলছে সদাই
সাঁই দরদী কই গো কই ।।

সংসার বিরিঞ্চি আদি যার
আঁচলা ঝুলা করুয়া কোপীন সার
প্রভু শেষ লীলে করলেন প্রচার
আনকা আইন বিচার ওই ।।

বেদবিধি ত্যজিয়ে দয়াময়
কী নতুন ভাব আনলেন নদীয়ায়
লালন বলে আমি সে তো
ভাব জানিবার যোগ্য নই ।।


আর কি বসবো এমন সাধুর সাধবাজারে

আর কি বসবো এমন সাধুর সাধবাজারে ।
না জানি কোন সময় কী দশা হয় আমারে ।।

সাধুর বাজার কি আনন্দময়
অমাবস্যায় পূর্ণচন্দ্র উদয়
ভক্তির নয়ন যার, সে চাঁদ দৃষ্ট হয় তার
ভববন্ধন জ্বালা যায় গো দূরে ।।

দেবের দুর্লভ পদ সে
সাধু নাম যার শাস্ত্রে ভাসে
ওসে গঙ্গাজননী, পতিতপাবনী
সাধুর চরণ সেও তো বাঞ্ছা করে ।।

আমি দাসের দাস দাসের যোগ্য নই
কী ভাগ্যতে এলাম এই সাধ-সভায়
লালন বলে মোর, ভক্তিশূন্য মন
আবার বুঝি পলাম কদাচারে ।।


আর কি গৌর আসবেন ফিরে

আর কি গৌর আসবেন ফিরে ।
মানুষ ভজে যে যা কর গৌরচাঁদ গিয়েছে সরে ।।

একবার প্রভু এই নদীয়ায়
মানুষ রূপে হইয়ে উদয়
প্রেম বিলায়ে যথা তথায়
গেল প্রভু নিজপুরে ।।

চার যুগের ভজনাদি
বেদেতে রাখিয়া বিধি
ব্রজের নিগূঢ় রসপান্তি
সঁপে গেলেন শ্রীরূপেরে ।।

আর কিরে সেই অদ্বৈত গোঁসাই
আনবেন গৌর এই নদীয়ায়
লালন বলে সেই দয়াময়
মেলে কারো ভাগ্যশিরে ।।


আর কি আসবে সেই গৌরচাঁদ এই নদীয়ায়

আর কি আসবে সেই গৌরচাঁদ এই নদীয়ায় ।
সে-চাঁদ দেখলে গো সখি তাপিত প্রাণ শীতল হয় ।।

চাতকরূপ পাখি যেমন
করে সে প্রেম নিরূপণ
আছি তেমন প্রায়, কারে বা শুধায়
সে-চাঁদের উদ্দিশ কে কয় ।।

একদিন সে-চাঁদ গৌরাঙ্গ
গোপীনাথতলায় গেল
হারায় সেথায়, সোনার নদীয়ায়
সেই হতে অন্ধকার হয় ।।

গৌরচাঁদ এই স্বচক্ষে
যে জনা একবার দেখে
দুঃখ দূরে যায়, ভজনহীন তায়
লালন কি তা জনতে পায় ।।


আর কি আসবে সেই কেলে সোনা এই গোকুলে

আর কি আসবে সেই কেলে সোনা এই গোকুলে ।
তারে চেনে না নন্দরানী কি ভোলে ।।

ননীচোরা বলে অমনি
মারল তারে নন্দরানী
আরো কতরূপ অপমানি
করিলে ।।

অনাদির আদি সেই গৌরাঙ্গ
তারে রাখাল বানায় নন্দ
আরো কত রাখালগণ
কান্ধে চড়িলে ।।

হারাইলে চায় পেলে নেয় না
ভবজীবের ভ্রান্তি যায় না
লালন কয় দৃষ্টি হয় না
এই নর নীলে ।।


আর আমারে মারিস নে মা

আর আমারে মারিস নে মা ।
বলি মা তোর চরণ ধরে ননী চুরি আর করব না ।।

ননীর জন্যে আজ আমারে
মারলি গো মা বেঁধে ধরে
দয়া নাই মা তোর অন্তরে
স্বল্পেতে গেল জানা ।।

পরে মারে পরের ছেলে
কেঁদে যেয়ে মাকে বলে
সেই জননী নিঠুর হলে
কে বোঝে শিশুর বেদনা ।।

ছেড়ে দে মা হতের বাঁধন
যায় যেদিকে যায় দুই নয়ন
পরের মাকে ডাকব এখন
তোর গৃহে আর থাকব না ।।

যে না বোঝে ছেলের বেদন
সেই ছেলের মার বৃথা জীবন
বিনয় করে বলছে লালন
কাঁদছে সে করে করুণা ।।


আর আমার বলিস না রে ছিদাম ব্রজের কথা

আর আমার বলিস না রে ছিদাম ব্রজের কথা ।
যার কারণে পেয়েছি রে ভাই প্রাণে ব্যথা ।।

ছিল মনের তিনটি বাঞ্ছা
নদেয় সাধব আছে ইচ্ছা
প্রেমঋণে গাঁথা ;
সেই কারণে নদে ভুবনে
জাগে হৃদয়লতা ।।

ছিদাম রে ভাই বলি তোরে
ফিরে যা ভাই আপন ঘরে
কে বোঝে এ প্রাণের ব্যথা ;
মনের কথা প্রাণের ব্যথা
আর বলবো না তা ।।

যার কারণে বই রে বাদা
শোন বলি রে ছিদাম দাদা
ও সে নন্দ পিতা ;
গুরু ভেবে বলছে লালন
ধন্য রে যশোদা ।।

 


আয় গো যাই নবির দীনে

আয় গো যাই নবির দীনে ।
নবির ডঙ্কা বাজে শহর মক্কা-মদিনে ।।

তারিক দিচ্ছে নবি জাহের বাতুনে
যথাযোগ্য লায়েক জেনে
রোজা আর নামাজ, ব্যক্ত এহি কাজ
গুপ্ত পথ মেলে ভক্তির সন্ধানে ।।

অমূল্য দোকান খুলেছেন নবি
যে ধন চাবি সে ধন পাবি
বিনে কড়ির ধন, সেধে দেয় এখন
না লইলে আখেরে পস্তাবি মনে ।।

নবির সঙ্গে ছিল ইয়ার চারিজন
নূর নবি চারকে দিলেন চার যাজন
ও সে নবি বিনে পথে, গোল হল চার মতে
লালন বলে যেন গোলে পড়িনে ।।