Category Archives:

অন্তিমকালের কালে ও কি হয় না জানি

অন্তিমকালের কালে ও কি হয় না জানি ।
কী মায়াঘোরে কাটালি হারে দিনমণি ।।

এনেছিলে বসে খেলে
উপার্জন কই কী করিলে
নিকাশের বেলা, খাটবে না ভোলা
আউলো বাণী ।।

জেনেশুনে সোনা ফেলে
মন মজালে রাং পিতলে
এ লাজের কথা, বলবো কোথা
মন এখনি ।।

ঠকে গেলাম কাজে কাজে
ঘিরিল ঊনপঞ্চাশে
লালন বলে মন, কী হবে এখন
বল রে শুনি ।।


অবোধ মন তোরে আর কী বলি

অবোধ মন তোরে আর কী বলি।
পেয়ে ধন সে ধন সব হারালি ।।

মহাজনের ধন এনে
ছড়ালি তুই উলুবনে
কী হবে নিকাশের দিনে
সে ভাবনা কই ভাবিলি ।।

সই করিয়ে পুজিঁ তখন
আনলি রে তিন রতি এক মণ
ব্যাপার করা যেমন তেমন
আসলে খা’দ মিশালি ।।

করলি ভালো বেচাকেনা
চিনলি না মন রাং কি সোনা
লালন বলে মন রসনা
কেন সাধুর হাটে আ’লি ।।


অপারের কান্ডারি নবিজী আমার

অপারের কান্ডারি নবিজী আমার
ভজনসাধন বৃথা নবি না চিনে ।
নবি আউল-আখের বাতেন-জাহের
কখন কোন রূপ ধারণ করেন কোনখানে ।।

আল্লা নবি দুটি অবতার
গাছ বীজ দেখি যে প্রকার
সুবুদ্ধিতে কর তার বিচার
এবার গাছ বড় কি ফলটি বড় নাও জেনে ।।

আসমান জমিন জলধি পবন
যে নবির নূরে হয় সৃজন
বলো কিসে ছিল সে নবির আসন
নবি পুরুষ কি প্রকৃতি আকার তখনে ।।

আপ্ততত্ত্বে ফাজেল যে জনা
সেই জানে সাঁইজির নিগৃঢ় কারখানা
রাসুল রূপে প্রকাশ রব্বানা
লালন বলে দরবেশ সিরাজ সাঁইর গুণে ।।


অনেক ভাগ্যের ফলে সে চাঁদ কেউ দেখিতে পায়

অনেক ভাগ্যের ফলে সে চাঁদ কেউ দেখিতে পায় ।
অমাবস্যা নাই সে চাঁদে দ্বিদ্বলে আর কিরণ উদয় ।।

যেথা রে সেই চন্দ্রের ভুবন
দিবারাত্রি নাই অন্বেষণ
কোটি চন্দ্র জিনি কিরণ
বিজলী সঞ্চারে সাদাই ।।

বিন্দু মাঝে সিন্ধুবারি
মাঝখানে তার স্বর্ণগিরি
অধরচাঁদের স্বর্গপুরী
সেহি তো তিল প্রমাণ জাগায় ।।

দরশনে দুঃখ হরে
পরশনে সোনা করে
এমনি সে চাঁদের সহিমে
লালন ডুবে ডোবে না তায় ।।


অনুরাগের ঘরে মার গা চাবি

অনুরাগের ঘরে মার গা চাবি
যদি রূপনগরে যাবি ।।

শুন মন তোমায় বলি
তুই আমারে ডুবাইলি
পরের ধনে লোভ করিলি
সে ধন কয়দিন খাবি ।।

নিরঞ্জনের নাম নিরাকার
নাই্কো তার আকার-সাকার
বিনা বীজে উৎপত্তি তার
দেখলে মানুষ পাড়ল হবি ।।

সিরাজ সাঁই দরবেশে বলে
গাছ রয়েছে অগাধ জলে
ঢেউ খেলিছে ফুলে ফলে
লালন বাঞ্ছা করলে দেখতে পাবি।।


অনুরাগ নইলে কি সাধন হয়

অনুরাগ নইলে কি সাধন হয় ।
সে তো শুধু মুখের কথা নয় ।।

বনের পশু হনুমান
রাম বিনে তার নাই ধিয়ান
কইট্ মনে মুদে নয়ন
অন্যরূপ না ফিরে চায় ।।

তার সাক্ষী দেখ চাতকেরে
তৃষ্ণায় জীবন যায় মরে
তবু অন্য বারি খায় না রে
থাকে মেঘের জল আশায় ।।

রামদাস মুচির ভক্তিতে
গঙ্গা এল চাম-কেঠোতে
সে-রূপ সাধল কত মহতে
কেবল লালন কূলে কূলে বায় ।।


অনাদির আদি শ্রীকৃ্ষ্ণনিধি তার কি আছে কভু গোষ্ঠখেলা

অনাদির আদি শ্রীকৃ্ষ্ণনিধি তার কি আছে কভু গোষ্ঠখেলা ।
ব্রহ্মরূপে সে অটলে বসে লীলাকারি তার অংশকলা ।।

সত্য সত্য শরণ বেদ-আগমে কয়
সচ্চিদানন্দ রূপে পূর্ণব্রহ্ম হয়
জন্মমৃত্যু যার নাই ভবের পর
সে তো নয় স্বয়ং প্রভু নন্দলালা ।।

পূর্ণচন্দ্র কৃষ্ণ রসিক সেজন
শক্তিতে উদয় শক্তিতে সৃজন
মহাভাবের সর্বচিত্ত আকর্ষণ
বৃহদাগমে তারে বিষ্ণু বলা ।।

গুরুকৃপা বলে কোন ভাগ্যবান
দেখেছে সে রূপ পেয়ে চক্ষুদান
সে রূপ হেরিয়ে সদা যে অজ্ঞান
লালন বলে সে তো প্রেমের ভোলা ।।