Category Archives:

অসার ভেবে সার দিন গেল আমার

অসার ভেবে সার দিন গেল আমার
সার বস্তুধন এবার হলাম রে হারা ।
হাওয়া বন্ধ হলে সব যাবে বিফলে
দেখে শুনে লাল গেল না মারা ।।

গুরু যার সহায় আছে সংসারে
লোভে সাঙ্গ দিয়ে সেহি যাবে সেরে
অঘাটায় মরণ হল আমারে
জানলাম না গুরুর করণ কী ধারা ।।

মহতে কয় থাকলে পূর্ব সুকৃতি
দেখিতে শুনিতে হয় গুরুপদে মতি
সে সুকৃতি আমার থাকতো যদি
তবে কী আর আমি হতাম পামরা ।।

সময় ছাড়িয়া জানিলাম এখন
গুরু কৃপা বিনে বৃথা এ জীবন
বিনয় করে কয় ফকির লালন
আর কি আমি পাব অধরা ।।


অমৃত সে-বারি অনুরাগ নইলে কি যাবে ধরা

অমৃত সে-বারি অনুরাগ নইলে কি যাবে ধরা ।
সে-বারির পরশ হইলে হবে ভবের করণ সারা ।।

বারি নামে বার এলাহি
নাই রে তার তুলনা নাহি
সহস্রদল পদ্মে সেহি
মৃণাল-গতি বহে ধারা ।।

ছায়াহীন এক মহামুনি
বলবো কিরে তার করণি
প্রকৃতি হইয়া তিনি
হলেন বারি সেধে অমর গোরা ।।

আসমানে বরিষণ হলে
দাঁড়ায় জল মৃত্তিকাস্থলে
লালন ফকির ভেবে বলে
ও সে মাটি জিনবে ভাবুক যারা ।।


অমাবস্যার দিনে চন্দ্র যেয়ে থাকে কোন শহরে

অমাবস্যার দিনে চন্দ্র যেয়ে থাকে কোন শহরে ।
প্রতিপদে হয় সে উদয় দৃষ্টি হয় না কেন তারে ।।

মাসে মাসে চাঁদের উদয়
অমাবস্যা মাস অন্তে হয়
সূর্যের অমাবস্যা নির্ণয়
জানতে হবে  নিহাজ করে ।।

ষোলকলা হইলে শশী
তবে তো হয় পূর্ণমাসী
পনেরই পূর্ণিমা কিসি
পন্ডিতেরা কয় সংসারে ।।

জানতে পারলে দেহচন্দর
স্বর্ণচাঁদের পায় সে খবর
সিরাজ সাঁই কয় লালন তোর
মূল হারালি কলির ঘোরে ।।


অবোধ মন রে তোমার হলো না দিশে

অবোধ মন রে তোমার হলো না দিশে ।
এবার মানুষের করণ হবে কিসে ।।

কোনদিন আসবে যমের চেলা
ভেঙে যাবে ভবের খেলা
সেদিন হিসাব দিতে বিষম জ্বালা
ঘটবে শেষে ।।

উজান-ভেটেন দুটি পথ
ভক্তি-মুক্তির করণ সেতো
এবার তাতে যায় না জরা-মৃত
যমের ঘর সে ।।

যে পরশে পরশ হবি
সে করণ আর কবে করবি
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয় লালন রলি
ফাঁকে বসে ।।


অন্ধকারের আগে ছিল সাঁই রাগে

অন্ধকারের আগে ছিল সাঁই রাগে
আলকারেতে ছিল আলের উপর ।
ঝরেছিল একবিন্দু হইল গম্ভীর সিন্ধু
ভাসিল দীনবন্ধু নয় লাখ বৎসর ।।

অন্ধকার ধন্দকার নিরাকার কুওকার
তারপরে হল হুহুংকার
হুহুংকারের শব্দ হল, ফেনারূপ হয়ে গেল
নীর-গম্ভীরে সাঁই ভাসলেন নিরন্তর ।।

হুহুংকারে ঝংকার মেরে দীপ্তকার হয় তারপরে
ধন্ধ দোরে ছিলেন পরওয়ার
ছিলেন সাঁই রাগের পরে, সুরাগে আশ্রয় করে
তখন কুদরতিতে করিল নিহার ।।

যখন কুওকারে কুও ঝরে বাম অঙ্গ ঘর্ষণ করে
তাইতে হইল মেঘের আকার
মেয়ের রক্ত বিচে শক্ত হল, ডিম্বু তুলে কোলে নিল
ফকির লালন বলে লীলা চমৎকার ।।


অন্ধকারে রাগের পরে ছিল যখন সাঁই

অন্ধকারে রাগের পরে ছিল যখন সাঁই ।
কীসের পরে ভেসেছিল কে দিল আশ্রয় ।।

তখন কোন আকার ধরে
ভেসেছিল কোন প্রকারে
কোন সময় কোন কায়া ধরে
ভেসেছিল সাঁই ।।

পাক-পাঞ্জাতন হইল যারা
কীসের পরে ভাসল তারা
কোন সময় নূর সেতারা
ধরেছিল সাঁই ।।

সেতারা রূপ হল কখন
কী ছিল তার আগে তখন
লালন বলে সে কথা কেমন
বুঝা হলো দায় ।।


অন্তরে যার সদাই সহজরূপ জাগে

অন্তরে যার সদাই সহজরূপ জাগে ।
সে নাম বলুক না বলুক মুখে ।।

যাহার উৎপত্তি সংসার
নামের অন্ত নাহিকো তার
বলুক সে নাম ইচ্ছা হয় যার
নাম বলে যদি রূপ দেখে ।।

যে নেয় গুরু-রূপে আশ্রি
ভুবন জুড়ে ভুলায় তারি
ধন্য তাহার রূপ নেহারি
রূপ দেখে রয় ঠিক রাগে ।।

নামের চেয়ে রূপ নেহারা
সর্বজয় সাধক তারা
সিরাজ সাঁই কয় লালন ভেড়া
আ’লি-গেলি কিসের লেগে ।।