Author Archives: Ratan Sunder Parai

About Ratan Sunder Parai

be the change you wish to see in the world

কেন খুঁজিস মনের মানুষ বনে সদাই

কেন খুঁজিস মনের মানুষ বনে সদাই।
এবার নিজ আত্ম রূপ যে আছে দেখো সেই রূপ দীন দয়াময়।।

কারে বলি জীবাত্মা কারে বলি স্বয়ং কর্তা ।
আবার দেখি ছটা চোখে ভেল্কি লেগে মানুষ হারায়।।

বলবো কী তাঁর আজব খেলা আপনি গুরু আপনি চেলা।
পড়ে ভূত ভুবনের পন্ডিত যে জন আত্মতত্ত্বের প্রবর্ত নয়।।

পরমাত্মাকে রূপ ধরে জীবাত্মাকে হরণ করে।
লোকে বলে যায়রে নিদ্রে সে যে অভেদব্রহ্ম ভেবে লালন কয়।।


এস হে প্রভু নিরঞ্জন

এস হে প্রভু নিরঞ্জন ।
এ ভবতরঙ্গ দেখে আতঙ্কেতে যায় জীবন ।।

তুমি ভক্তি তুমি মুক্তি
অনাদির আদ্যাশক্তি
দাও হে আমার ভক্তির শক্তি
যাতে তৃপ্ত হয় ভবজীবন ।।

ধ্যান যোগে তোমায় দেখি
তুমি সখা আমি সখী
মম হৃদয় মন্দিরে থাকি
ঐরূপ দাও গো দরশন ।।

ত্রিগুণে সৃজিলে সংসার
লীলা দেখে কয় লালন তার
ছাদরাতুল মন তাহার উপর
নূর তাজেল্লার হয় আসন ।।


এস হে অপারের কান্ডারি

এস হে অপারের কান্ডারি ।
পড়েছি অকূল পাথারে দাও আমায় চরণতরী ।।

প্রাপ্ত পথ ভুলে হে এবার
ভবরোগে জ্বলবো কত আর
তুমি নিজগুণে শ্রীচরণ দাও
তবে কূল পেতে পারি ।।

ছিলাম কোথা এলাম হেথা
আবার আমি যাই যেন কোথা
তুমি মনোরথের সারথি হয়ে
স্বদেশে নাও মনেরি ।।

পতিতপাবন নাম তোমার সাঁই
পাপী তাপী তাইতে দেই দোহাই
লালন ভনে তোমা বিনে
ভরসা কারে করি ।।


এলাহি আলমিন গো আল্লা বাদশা আলমপনা তুমি

এলাহি আলমিন গো আল্লা বাদশা আলমপনা তুমি।
ডুবায়ে ভাসাইতে পার, ভাসায়ে কিনার দাও কার
রাখ মার হাত তোমার, তাইতে তোমায় ডাকি আমি ।।

নূহ নামে এক নবিরে, ভাসালে অকূল পাথারে
আবার তারে মেহের করে, আপনি লাগাও কিনারে
জাহের আছে ত্রিসংসারে আমায় দয়া কর স্বামী ।।

নিজাম নামে বাটপার সেত, পাপেতে ডুবিয়া রইত
তার মনে সুমতি দিলে, কুমতি তার গেল চলে
আউলিয়া নাম খাতায় লিখিলে, জানা গেল এই রহমি ।।

নবি না মানে যারা, মোয়াহেদ কাফের তারা
সেই মোয়াহেদ দায়মাল হবে, বেহিসাব দোজখে যাবে
আবার তারা খালাস পাবে, লালন কয় মোর কী হয় জানি ।।


এমন সুভাগ্য আমার কবে হবে

এমন সুভাগ্য আমার কবে হবে ।
দয়ালচাঁদ আসিয়ে আমায় পার করিবে ।।

সাধনের বল কিছুই নাই
কেমনে নেই পারে যাই
কুলে বসে দিচ্ছি দোহাই
অপার ভেবে ।।

পতিতপাবন নাম যে তার
তাই শুনে বল হয় গো আমার
আবার ভাবি এই পাপীর ভার
সেকি লবে ।।

গুরুপদে ভক্তিহীন
হয়ে রইলাম চিরদিন
লালন বলে কী করিতে
এলাম ভবে ।।


এমন মানবজনম আর কি হবে

এমন মানবজনম আর কি হবে ।
মন যা করো ত্বরায় করো এই ভবে ।।

অনন্ত রূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই
শুনি মানবের উত্তম কিছু নাই
দেব-দেবতাগণ করে আরাধন
জন্ম নিতে এই মানবে ।।

কত ভাগ্যের ফলে না জানি
পেয়েছ এই মানব-তরণী
বেয়ে যাও ত্বরায়, তোমার সুধারায়
যেন ভারা না ডোবে ।।

মানুষে করতে মাধুর্য ভজন
তাইতে মানবরূপ গঠলেন নিরঞ্জন
এবার ঠকলে আর না দেখি কিনার
লালন কয় কাতরভাবে ।।


এমন দিন কী হবে রে আর

এমন দিন কী হবে রে আর ।
খোদা সেই করে গেল রাসুল রূপে অবতার ।।

আদমের রূহ সেই
কিতাবে শুনলাম তাই
নিষ্ঠা যার হল রে ভাই
মানুষ মুর্শিদ করলে সার ।।

খোদ সুরাতে পয়দা আদম
এ জানা যায় অতি মরম
আকার নাই যার সুরাত কেমন
লোক বলবে তাও আমার ।।

আহাম্মদের নাম লিখিতে
মিম নফি হয় তার কিসেতে
সিরাজ সাঁই কয় লালন তাতে
কিঞ্চিৎ নজির দেখ তার ।।