Monthly Archives: অক্টোবর 2015

দেখ না এবার আপনার ঘর ঠাউরিয়ে

দেখ না এবার আপনার ঘর ঠাউরিয়ে।
আঁখির কোণে পাখির বাসা যায় আসে হাতের কাছ দিয়ে।।

সবে বলে পাখি একটা
সহস্র কুঠরি কোঠা
আছে আল সঙ্গত হয়ে;
নিগুমে তার, মূল একটি ঘর
অচিন হয় সেথা যেয়ে।।

ঘরে আয়না আঁটা চৌপাশে
মাঝখানে পাখি বসে
আছে আড়া পাতিয়ে;
দেখ না রে ভাই ধরার জো নাই
সামান্য হাত বাড়ায়ে।।

কেউ দেখতে যদি সাধ কর
সন্ধানীকে চিনে ধর
দেবে দেখায়ে;
সিরাজ সাঁই কয়, লালন তোমায়
বুঝাইতে দিন যায় বয়ে।।


দেখ না মন ঝকমারি এই দুনিয়াদারি

দেখ না মন ঝাকমারি এই দুনিয়াদারি।
পরিয়ে কোপনি ধব্জা মজা উড়ালো ফকিরি।।

বড় আশার বাসা এ ঘর
পড়ে রবে কোথা রে কার
ঠিক নাই তারি;
পিছে পিছে ঘুরছে শমন
কোনদিন হাতে দেবে ডুরি।।

দরদের ভাই বন্ধুজনা
মলে সঙ্গে কেউ যাবে না
মন তোমারই;
খালি হাতে একা পথে
বিদায় করে দেবে তোরি।।

যা কর তাই কর রে মন
পিছের কথা রেখ স্মরণ
বরাবরই;
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয় শোন্‍ রে লালন
হোসনে কারো ইন্তেজারি।।

 


দেখ না রে মন পুনর্জনম কোথা হতে হয়

দেখ না রে মন পুনর্জনম কোথা হতে হয়।
মরে যদি ফিরে আসে স্বর্গনরক কে বা পায়।।

পিতার বীজে পুত্রের সৃজন
তাই তো পিতার পুনর্জনম
পঞ্চভূতে দেহের গঠন
আলেকরূপে ফেরে সাঁই।।

ঝিয়ের গর্ভে মায়ের জন্ম
এ বড় নিগূঢ় মর্ম
শোণিত শুক্র হলে গম্ভু
সব জানা যায়।।

শোণিত শুক্র হলে বিচার
জানতে পারবি কে জীব কে ঈশ্বর
সিরাজ সাঁই কয় লালন এবার
ঘুরে মলি কোলের ঘুরায়।।


দেখ রে আমার রাসুল যার কাণ্ডারি এই ভবে

দেখ রে আমার রাসুল যার কাণ্ডারি এই ভবে।
ভবনদীর তুফানে তার কি নৌকা ডোবে।।

ভুলো না মন কারো ধোঁকায়
চড় সে তরিকার নৌকায়
বিষম ঘোর তুফানের দায়
বাঁচবি তবে।।

তরিকার নৌকাখানি
ইশ্‍ক নাম তার বলে শুনি
বিনে বাওয়ায় চলছে অমনি
রাত্র দিবে।।

সেই নৌকাতে যে না চড়ি
কেমনে দিবে ভব পাড়ি
লালন বলে এই ঘড়ি
দেখ মন ভেবে।।


দেখ রে মন দিন-রজনী কোথা হতে হয়

দেখ রে মন দিন-রজনী কোথা হতে হয়।
কোন্‍ পাকে দিন আসে কোন্‍ পাকে রজনী হয়।।

রাত্রদিনের খবর নাই যার
কীসের একটা ভজন সাধন তার
নাম গোয়ালা পাঁজি ভক্ষণ
ফকিরি নাম তেমনি পায়।।

কয় দমে দিন চালাচ্ছে বারি
কয় দমে রজনী আখেরি
আপন ঘরের নিকাশ করি
যে জানে সে মহাশয়।।

সামান্যেতে কি যাবে জানা
কারিগরের কী গুণপনা
লালন বলে তিনটি তারে
অনন্তরূপ কল খাটায়।।


দেখ না রে ভাবনগরে ভাবের ঘরে ভাবের কিস্তি

দেখ না রে ভাবনগরে ভাবের ঘরে ভাবের কিস্তি।
জলের ভিতরে ও মন জ্বলছে বাতি।।

ভাবের মানুষ ভাবের খেলা
ভাবে বসে দেখ নিরালা
নীরে ক্ষীরেতে ভেলা
বায় কি জুতি।।

রতিতে জ্যোতির উদয়
সামান্যে কি তাই জানা যায়
তাতে কত রূপ দেখা যায়
হীরে লালমতি।।

নি:শব্দে শব্দ খাবে
ভাবের খেলা ভেঙ্গে যাবে
লালন কয় দেখবি তবে
হয় কি গতি।।


দেখলাম এ সংসার ভোজবাজি প্রকার

দেখলাম এ সংসার ভোজবাজি প্রকার
দেখতে দেখতে অমনি কেবা কোথা যায়।
মিছে এ ঘর-বাড়ি মিছে ধন টাকা-কড়ি
মিছে দৌড়াদৌড়ি করি কার মায়ায়।।

কীর্তিকর্মার কীর্তি কে বুঝিতে পারে
সে বা জীবকে নেয় কোথা ধরে
এ কথা আমি শুধাব কারে
নিগূঢ় তত্ত্ব অর্থ কে বলবে আমায়।।

যে করে এই লীলে, তারে চিনলাম না
আমি আমি বলি, আমি কোন্‍ জনা
মরি কী আজব কারখানা
গুণে পড়ে কিছু ঠাহর না রে হয়।।

ভয় ঘোচে না আমার দিবা-রজনী
কার সঙ্গে কোন্‍ দেশে যাব না রে জানি
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয় বিষম কার গণি
পাগল হয় রে লালন যথায় বুঝতে চায়।।


দেখলাম কি কুদরতিময়

দেখলাম কি কুদরতিময়।
বিনা বীজে আজগুবি গাছ ফুল ধরেছে তাই।।

নাই সে গাছের আগাগোড়া
শূন্য ভরে আছে খাড়া
ফল ধরে তার ফুলটি ছাড়া
দেখে ধাঁধা হয়।।

বলবো কি সেই গাছের কথা
ফুল মধু ফলে সুধা
সৌরভে তার হরে ক্ষুধা
দরিদ্রতা যায়।।

জানলে গাছের অর্থ-বাণী
চেতনা বটে সেহি ধনি
গুরু বলে তারে মানি
লালন ফকির কয়।।


দেখলাম সেই অধরচাঁদের অন্ত নাই

দেখলাম সেই অধরচাঁদের অন্ত নাই।
নিকটে যার বারামখানা হেটলে মূঢ় নাইকো উপায়।।

জলে যেমন চাঁদ দেখি
ধরতে গেলে সকল ফাঁকি
অমনি সেই অধরচাঁদটি
চাঁদের আভা নিকট দূরে ঠাঁই।।

হয়ে গগন চন্দ্রের প্রমাণ
সবাই দেখে বর্তমান
যে যেখানে চাঁদ সেখানে
ধরতে কারো সাধ্য নাই।।

ঘাট অঘাটায় জানিবা
তখনি যেন চাঁদের আভা
গুরু বিনে তাই কি চেনে
লালন কয় গুরুপদ্ম উপায়।।


দেখবি যদি সেই চাঁদেরে

দেখবি যদি সেই চাঁদেরে।
যা যা কারণ সমুদ্রের পারে।।

যাস্‍ নে রে মন সামান্য নৌকায়
সেই নদী বিষম তড়কায়
প্রাণে হবি নাশ, থাকবে অপযশ
পার হবি যদি সাজাও প্রেমের তরীরে।।

তারণ্য কারণ্য আড়ি
যেজন দিতে পারে পাড়ি
সেই বটে সাধক, এড়ায় ভবরোগ
বসতি হয় তার অমর নগরে।।

মায়ার গিরাপি কাট
ত্বরায় প্রেমতরীতে ওঠ
কারণ সমুদ্রের নাও, পার হয়ে হুজুর দাও
অধীন লালন যাবে এবার গুরুর বাক ধরে।।