Monthly Archives: জুন 2015

দেল-দরিয়ায় ডুবিলে কি সে ধড়ের খবর পায়

দেল-দরিয়ায় ডুবিলে কি সে ধড়ের খবর পায়।
নইলে পুথি পড়ে পণ্ডিত হইলে কি হয়।।

স্বয়ং রূপ সৃষ্টি করে
দিব্যজ্ঞানী যারা ভাবে বোঝে তারা
মানুষ ভজে কার্য সিদ্ধি করে যায়।।

একেতে হয় তিনটি আকার
অযোনী সহজ সংস্কার
যদি ভাবতরঙ্গে তর মানুষ চিনে ধর
দিনমণি গেলে কি হবে উপায়।।

মূল হইতে হয় ডালের সৃজন
ডাল ধরে পায় মূল অন্বেষণ
অমনি রূপ হইতে স্বরূপ তারে ভেবে বেরূপ
অবোধ লালন সদাই নিরূপ ধরতে চায়।।


দেখে শুনে ঘোর গেল না

দেখে শুনে ঘোর গেল না।
কী করিতে কী করিলাম দুগ্ধেতে মিশিল চোনা।।

মদন-রাজার ডাঙ্গা ভারি
হলাম তার আজ্ঞাকারী
যার মাটিতে বসত করি
চিরদিন তারে চিনলাম না।।

রাগের আশ্রয় নিলে তখন
কী করিতে পারে মদন
আমার হলো কামলোভী মন
মদন রায়ের গাঁটরি টানা।।

উপর হাকিম একদিনে
কৃপা করতো নিজ গুণে
দিনের অধীন লালন ভণে
যেত মনের দোটানা।।


দেহের খবর বলি শোন রে মন

দেহের খবর বলি শোন রে মন।
দেহের উত্তর দিকে আছে বেশি দক্ষিণেতে আছে কম।।

দেহের খবর না জানিলে
আপ্ততত্ত্ব কিসে মেলে
লাল জরদ ছিয়া ছফেদ
বাহান্ন বাজার এই চারিকোণ।।

আগে খুঁজে ধর তারে
নাসিকাতে চলে ফেরে
নাভিপদ্মের মূল দুয়ারে
বসে আছে সর্বক্ষণ।।

আঠারো মোকামে মানুষ
যে না জানে সেহি তো বেহুশ
লালন বলে থাক রে হুশ
আদ্য মোকামে তার আসন।।


ধন্য ভাব গোপীর ভাব আ মরি মরি

ধন্য ভাব গোপীর ভাব আ মরি মরি।
যাতে বাঁধা ব্রজের শ্রীহরি।।

ছিল কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা এমন
যে তারে যে করে ভজন
তাইতে হয় তারি;
সে প্রতিজ্ঞার না রহিল আর
করল গোপীর ভাবে মন চুরি।।

ধর্মাধর্ম নাই সে বিচার
কৃষ্ণসুখের সুখ গোপীকার
হয় নিরাত্তরি;
তাইতে দয়াময় গোপীর সদাই
মনের ভ্রমে তা জানতে নারি।।

গোপীকার সামান্য বুঝে
হরিকে না পেল ভজে
শ্রী নারায়ণি;
লালন কয় এমন আছে কত জন
বলতে হয় দিন আখেরি।।


ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে

ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে।
এমন বয়সে নিমাই ঘর ছেড়ে ফকিরি নিলে।।

ধন্য রে ভারতী যিনি
সোনার অঙ্গে দেয় কোপনি
শিখায়েছিল হরিধবনি
করেতে করঙ্গ দিলে।।

ধন্য পিতা বলি তারি
ঠাকুর জগন্নাথ মিশ্রি
ঘরে যার গৌরাঙ্গ হরি
মানুষরূপে জন্মাইলে।।

ধন্য রে নদীয়াবাসী
হেরিল গৌরাঙ্গ শশী
যে বলে জীব সন্ন্যাসী
লালন কয় সে ফ্যারে প’লে।।


ধর গো ধর গৌরাঙ্গচাঁদেরে

ধর গো ধর গৌরাঙ্গচাঁদেরে।
গৌর যেন পড়ে না বিভোর হয়ে ভূমের পরে।।

ভাবে গৌর হয়ে মত্ত
বাহু তুলে করে নৃত্য
কোথায় হস্ত কোথায় পদ
ঠাহর নাই অন্তরে।।

কার ভাবে গৌরহরি
দু’নয়নে বহে বারি
থর থর তনু তারি
বুঝি পড়া মাত্র যায় মরে।।

কার ভাবে আজ শচীসূতা
হালছে বেহাল গলে ক্যাঁথা
লালন বলে ব্রজের কথা
বুঝি জড়েছে মনের দ্বারে।।


ধন্য রে রূপ সনাতন জগৎমাঝে

ধন্য রে রূপ সনাতন জগৎমাঝে।
উজিরানা ছাড়িয়ে সে না ডোর-কোপিন সার করেছে।।

শাল দোশালা তেজে সনাতন
কৌপীন ক্যাঁথা করিল ধারণ
অন্ন বিনে শাক ভোজন
জীবন রক্ষা করিয়েছে।।

ছাড়িয়ে লোক আলাপন
একা প্রভুর বনপথে গমন
বনপশুরে শুধায় ডেকে
কোন পথে আজ যায় ব্রজে।।

হা হা প্রভু বলিতে আকুল হয়
অঘাটা অপথে পড়িয়া রয়
লালন বলে এমনি হালে
গুরুর দয়া হয়েছে।।