Monthly Archives: অক্টোবর 2014

পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়

পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়।
রূপকাষ্ঠের নৌকাখানি নাই ডুবার ভয়।।

বে-সরা নেয়ে যারা
তুফানে যাবে মারা
একই ধাক্কায়;
কী করিবে বদর গাজি
থাকবে কোথায়।।

নবি না মানে যারা
মোয়াহেদ কাফের তারা
এই দুনিয়ায়;
ভজনে তার নাই মজুরি
দলিলে ছাপ লেখা যায়।।

যেহি মুরশিদ সেই তো রাসুল
ইহাতে নাই কোন ভুল
খোদাও সে হয়;
লালন কয় না এমন কথা
কোরানে কয়।।

Posted from WordPress for Android


প্রেম-পাথারে যে সাঁতারে তার মরণের ভয় কী আছে

প্রেম-পাথারে যে সাঁতারে তার মরণের ভয় কী আছে।
স্বরূপ মরণে সদা মত্ত যারা ঐ কাজে।।

শুদ্ধ প্রেম রসিকের ধর্ম
মানে না বেদবিধির কর্ম
রসরাজ রসিকের মর্ম
রসিক বৈ আর কে জেনেছে।।

শব্দ স্পর্শ রূপ রস গন্ধ
এই পঞ্চে হয় নিত্যানন্দ
যার অন্তরে সদা আনন্দ
নিরানন্দ জানে না সে।।

পাগল পায় পাগলের ধারা
দুই নয়নে বহে ধারা
যেন সুরধনীর ধারা
লালন কয় ধারায় ধারা মিশে আছে।।

Posted from WordPress for Android


পারে লয়ে যাও আমায়

পারে লয়ে যাও আমায়।
আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময়।।

নাই আমার ভজন-সাধন
চিরদিন কুপথে গমন
নাম শুনেছি পতিতপাবন
তাই তো দেই দোহাই।।

আমি একা রইলাম ঘাটে
ভানু সে বসিল পাটে
তোমা বিনে ঘোর সংকটে
না দেখি উপায়।।

অগতির না দিলে গতি
ওই নামে রহিবে ক্ষতি
লালন কয় অকুলের পতি
কে বলবে তোমায়।।

Posted from WordPress for Android


পিরীতি অমূল্যনিধি

পিরীতি অমূল্যনিধি।
বিশ্বাস মতে কারো কারো হয় যদি।।

এক পিরিত শক্তিপদে
মজেছিল চণ্ডীচাঁদে
পারলে সে ভাব মনকে বেঁধে
ঘুচে যেত পথের বিধি।।

এক পিরিত ভবানীর সনে
করেছিল পঞ্চাননে
নাম রটিল এ ভুবনে
কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব সিদ্ধি।।

এই পিরিত রাধা অঙ্গ
পরশিয়ে শ্যাম গৌরাঙ্গ
লালনের কর্ম মন্দ
সিরাজ সাঁই কয় নিরবধি।।

Posted from WordPress for Android


পারে কে যাবি তোরা আয় না জুটে

পারে কে যাবি তোরা আয় না জুটে।
নিতাইচাঁদ হয়েছে নেয়ে ভবের ঘাটে।।

হরিনামের তরী আর
রাধানামের বাদাম তার
পারে যেতে ভয় কিরে আর
নায়ে উঠে।।

নিতাই বড় দয়াময়
পারের কড়ি নাহি লয়
এমন দয়াল মিলবে কি আর
এই ললাটে।।

ভাগ্যবান যে ছিল
সেই তরীতে পার হ’ল
লালন ঘোর তুফানে প’লো
ভক্তি চটে।।

Posted from WordPress for Android


পূর্ণচন্দ্র উদয় কখন কর মন বিবেচনা

পূর্ণচন্দ্র উদয় কখন কর মন বিবেচনা।
আগমে আছে প্রকাশে ষোলকলাই পূর্ণশশী
পনেরই পূর্ণমাসী শুনে মনের ঘোর গেল না।।

সাতাইশ নক্ষত্র সাঁইত্রিশ যোগেতে
কোন সময় চলে সাঁইত্রিশেতে
যোগের এমনি লক্ষণ, অমৃতফল স্থানে জানতো যদি দরিদ্রমন
অশুসার কিছু রইত না।।
পূর্ণিমার যোগাযোগ হলে, শুকনা নদী উজান চলে
ত্রিবেণীর পিছল ঘাটে নি:শব্দে বন্যা ছোটে
চাঁদ-চকোরের ভাটার চোটে
বাঁধ ভেঙ্গে যায় ততক্ষণা।।

নিচের চাঁদ রাহুতে ঘেরা, গগন চাঁদ কি পাব ধরা
যখন হয় রে অমাবস্যে, তখন চন্দ্র রয় কোন দেশে
লালন ফকির হারায় দিশে
চোখ থাকতে হয়ে কানা।।

Posted from WordPress for Android


পেঁড়োর ভূত হয় যে জনা শোন রে মনা

পেঁড়োর ভূত হয় যে জনা শোন রে মনা
কোন দেশে সে মুক্তি পায়।।
ফয়তায় ভূত সেরে যায় পেঁড়োর দরগায়।।

মক্কায় মুনি শয়তান আছে
ভূত হয় জানি পেঁড়োর মাঝে
সে-কথা পাগলে বোঝে
দেখ এই দুনিয়ায়।।

মুরদার নামে ফয়তা দিলে
মুরদা কি পায় সেখানে গেলে
তবে কেন পিতা-পুত্রে
দোজখে যায়।।

মরার আগে ম’লে পরে
আপন ফয়তা আপনি করে
তবে আখের হতে পারে
হীন লালন কয়।।

Posted from WordPress for Android


প্রেম জানে না প্রেমের হাটের বুলবুলা

প্রেম জানে না প্রেমের হাটের বুলবুলা।
কথায় করি ব্রহ্ম আলাপ মনে খাই মনকলা।।

বেশ করে বৈষ্ণবগিরি
রস নাই তার ফষ্টি ভারি
হরি নামের ঢু ঢু তারি
তিনগাছি জপের মালা।।

খান্দা বান্দা ভূত চালানি
সেইটা বটে গণ্য জানি
সাধুর হাটে ঘুসঘুসানি
কী বলিতে কী বলা।।

মন মাতোয়ারা মদনরসে
সদাই থাকে কামাবেশে
লালন বলে সকল মিছে
লব-লবানি প্রেমতালা।।

Posted from WordPress for Android


প্রাণ গৌররূপ দেখতে যামিনী

প্রাণ গৌররূপ দেখতে যামিনী।
কত কুলের কন্যে, গোরার জন্যে হয়েছে পাগলিনী।।

সকাল বেলা যেতে ঘাটে
গৌরাঙ্গ রূপ উদয় পাটে
করুয়া ধারণ তার করেতে
কোটিতে ডোর-কোপিনী।।

আনন্দ আর মন মিলে
কুল মজালে এই দু’জনে
তারা ঘরে রইতে না দিলে
করেছে পাগলিনী।।

ব্রজে ছিল কালো ধারণ
নদেয় এসে গৌর বরণ
লালন বলে রাগের করণ
দরশনে রূপ ঝাপিনী।।

Posted from WordPress for Android


প্যারী ক্ষম অপরাধ আমার

প্যারী ক্ষম অপরাধ আমার।
মান-তরঙ্গে কর পার।।

তুমি রাধে কল্পতরু
ভাব প্রেমে রসের গুরু
তোমা বিনে অন্য কারু
না জানি জগতে আর।।

পূর্বরাগ অবধি যারে
আশ্রয় দিলে নরেকারে
অল্প দোষে এ দাসেরে
ত্যজিলে কি পৌরুষ তোমার।।

ভালমন্দ যতই করি
তবু প্রেমদাস তোমারি
লালন বলে মরি মরি
হরির একি ঋণস্বীকার।।

Posted from WordPress for Android