Monthly Archives: অক্টোবর 2014

নৈরেকারে ভাসছে রে এক ফুল

নৈরেকারে ভাসছে রে এক ফুল।
সে যে ব্রহ্মাবিষ্ণু হর, আদি পুরন্দর
তাদের সে-ফুল হয় মাতৃকুল।।

বলবো কি সেই ফুলের গুণবিচার
পঞ্চমুখে সীমা দিতে না রে নর
যারে বলি মূলাধার, সেহি তো অধর
ফুলের সঙ্গ ধরা তার সমতুল।।

নীলে অন্ত নাই স্থিতি সে ফুলে
সাধকের মূল বস্তু এই ভূমণ্ডলে
বেদের অগোচর, সে ফুলের নাগর
সাধুজনা ভেবে করেছে তার উল্‍।।

কোথা বৃক্ষ কোথা রে তার ডাল
তরঙ্গে পড়ে ফুল ভাসছে চিরকাল
কখন এসে অলি, মধু খায় ফুলি
লালন বলে চাইতে গেলে দেয় রে ভুল।।

Posted from WordPress for Android


পাগল দেওয়ানের মন কী ধন দিয়ে পাই

পাগল দেওয়ানের মন কী ধন দিয়ে পাই।
বলি আমার আমার কী ধন আমার
সদাই মনে মনে ভাবি তাই।।

দেহ-মন-ধন দিতে হয়
সেও ধন তারই আমার নয়
আমি মুটে মুট চালাই;
আবার ভেবে দেখি, আমি বা কী
ও গো তাও তো আমার হিসাব নাই।।

ও সে পাগলা বেটার পাগলা খিজি
নয় সামান্য ধনে রাজি
কোন ভাবে কোন ভাব মিশাই;
পাগলার ভাব না জেনে, যদি যায় শ্মশানে
পাগল হয় কি অঙ্গে মাখলে ছাই।।

ও সে পাগল ভেবে পাগল হ’লাম
সেই পাগল কই সরল
আপন তো ভুলি নাই;
অধীন লালন বলে, আপনার আপনি ভুলে
ঘটে প্রেমপাগলের এমনি বাই।।

Posted from WordPress for Android


পাপধর্ম যদি পূর্বে লেখা যায়

পাপধর্ম যদি পূর্বে লেখা যায়।
কর্মে লিখন কাজ করিলে দোষগুণ কী হয়।।

রাজার আজ্ঞায় দিয়ে ফাঁসি
ফাঁসিকার হয় গো দোষী
জীব করায় সব নরকবাসী
খোদ কি দয়াময়।।

শুনতে পাই সাধু সমাচার
পূর্বে থাকলে পরে হয় তার
পূর্বে না থাকিলে এবার
তাহার কী আশায়।।

কর্মের দোষ কি কাজকে দোষাই
কোন্‍ কথাটি গিরে দেই ভাই
লালন বলে আমার বোধ নাই
শুধাবো কোথায়।।

Posted from WordPress for Android


পাপ-পুণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই

পাপ-পুণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই।
এই দেশে যা পাপ গণ্য অন্য দেশে পুণ্য তাই।।

তিব্বত নিয়ম অনুসারে
এক নারী বহু পতি ধরে
এই দেশেতে হলে পরে
ব্যভিচারী দণ্ড হয়।।

শূকর গরু দুইটি পশু
খাইতে বলেছেন যিশু
তবে কেন মুসলমান হিন্দু
পিছেতে হটায়।।

দেশ সমস্যা অনুসারে
ভিন্ন বিধান হতে পারে
সূক্ষ্ম জ্ঞানের বিচার করে
পাপপুণ্যের নাই বালাই।।

পাপ হলে ভবে আসি
পুণ্য হলে স্বর্গবাসী
লালন বলে নমি উর্বশী
নিত্য নিত্য তার প্রমাণ পাই।।

Posted from WordPress for Android


পাপীর ভাগ্যে এমন দিন কি আর হবে রে

পাপীর ভাগ্যে এমন দিন কি আর হবে রে।
দেখ দেখ মনরায় হয়েছে উদয়
কী আনন্দময় এই সাধবাজারে।।

যথা রে সাধুর বাজার
তথা সাঁইর বারাম নিরন্তর
এনে সাধ-সভায়, তবে মন আমায়
আবার যেন ফ্যারে ফেলাস না রে।।

সাধুগুরু কি মহিমা
দেবে দিতে নাই রে সীমা
হেন পদে যার, নিষ্ঠা না হয় তার
না জানি কপালে কী আছে রে।।

সাধুর বাতাসের মন
বনের কাষ্ঠ হয় রে চন্দন
লালন বলে মন, খোঁজ কি আর ধন
সাধুর সঙ্গে রঙ্গে দেশ করবে।।

Posted from WordPress for Android


পার কর দয়াল আমায় কেশে ধরে

পার কর দয়াল আমায় কেশে ধরে।
পড়েছি এবার আমি ঘোর সাগরে।।

ভবকূপেতে আমি
ডুবে হলাম পাতালগামী
অপারের কাণ্ডারী তুমি
নাও কিনারে।।

মন্ত্রী ছয়জনা সদাই
অশেষ কুকাণ্ড বাধায়
ডুবালো ঘাট অঘাটায়
আজ আমারে।।

আমি বা কার কে বা আমার
বুঝেও বুঝলাম না এবার
সারকে ভাবিয়ে অসার
প’লাম ফেরে।।

হারায়ে সকল উপায়
শেষকালে তোর দিলাম দোহাই
লালন কয় ও দয়াল সাঁই
বুঝবো তোরে।।

Posted from WordPress for Android


পার কর হে দয়ালচাঁদ আমারে

পার কর হে দয়ালচাঁদ আমারে।
ক্ষম হে অপরাধ আমার এ ভব-কারাগারে।।

পাপী অধম জীব হে তোমার
তুমি যদি না কর পার
দয়া প্রকাশ করে;
পতিতপাবন পতিতনাশা
বলবে কে আজ তোমারে।।

না হইলে তোমার কৃপা
সাধনসিদ্ধি কোথা বা
কে করতে পারে;
আমি পাপী তাইতে ডাকি
ভক্তি দাও মোর অন্তরে।।

জলে স্থলে সর্ব জায়গায়
তোমারই সব কীর্তিময়
ত্রিবিধ সংসারে;
তাই না বুঝে অবোধ লালন
প’লো বিষম ঘোরতরে।।

Posted from WordPress for Android


পার নিহেতু সাধনা করিতে

পার নিহেতু সাধনা করিতে।
যাও না ছেড়ে জ্বরামৃত্যু নাই যে দেশেতে।।

নিহেতু সাধক যারা
জবান খাঁটি করণ খাড়া
উপসর্গ কাটিয়ে তারা
চলেছে পথে।।

মুক্তিপথ ত্যজিয়ে সদাই
ভক্তিপদ রেখে হৃদয়
শুদ্ধ ভক্তির হবে উদয়
সাঁই রাজি যাতে।।

সমঝে সাধন কর ভবে
এবার গেলে আর না হবে
লালন বলে পড়বি তবে
লক্ষ যোনীতে।।

Posted from WordPress for Android


পাখি কখন যেন উড়ে যায়

পাখি কখন যেন উড়ে যায়।
বদ হাওয়া লেগে খাঁচায়।।

খাঁচার আড়া প’লো ধসে
পাখি আর দাঁড়াবে কীসে
ওই ভাবনা ভাবছি বসে
চমকজ্বরা বইছে গায়।।

ভেবে অন্ত নাহি দেখি
কার বা খাঁচায় কে বা পাখি
আমার এ আঙ্গিনায় থাকি
আমারে মজাতে চায়।।

আগে যদি যেতো জানা
জংলা কভু পোষ মানে না
উহার সঙ্গে প্রেম করতাম না
লালন ফকির কেঁদে কয়।।

Posted from WordPress for Android


পাবি রে মন স্বরূপের দ্বারে

পাবি রে মন স্বরূপের দ্বারে।
খুঁজে দেখ না রে মন বরজখ পরে নেহার করে।।

দেখ না মন ব্রহ্মাণ্ড পরে
সদাই বসে বিরাজ করে
অখণ্ড রূপ নিহার করে
থাক তো বসে নিরিখ ধরে।।

লেখা আছে কুদরত কালাম
জানাই তারে হাজার সালাম
লেখা নাই ভেদ সফিনায়
আলেক সাঁইজী আছে আলের পরে।।

ছাড় রে মন ছলচাতুরী
তকব্বরি গুণ জাহিরী
লালন কয় আহা মরি
ডুব দিয়ে গভীর নীরে।।

Posted from WordPress for Android