Monthly Archives: জুন 2014

বিষয়-বিষে চঞ্চলা মন দিবা-রজনী

বিষয়-বিষে চঞ্চলা মন দিবা-রজনী।
মনকে বোঝালে বুঝ মানে না ধর্মকাহিনী।।

বিষয় ছাড়িয়ে কবে
মন আমার শান্ত হবে
আমি কবে সে চরণ করিব শরণ
যাতে শীতল হ’বে তাপিত প্রাণী।।

কোনদিন শ্মশানবাসী হ’ব
কী ধন সঙ্গে লয়ে যাব
কী করি কী কই, ভূতের বোঝা বই
একদিন ভাবলাম না গুরুর বাণী।।

অনিত্য দেহেতে বাসা
তাইতে এত আশার আশা
অধীন লালন বলে, দেহ নিত্য হলে
আর কতই কি না করতে জানি।।

Posted from WordPress for Android


বিনা মেঘে বর্ষে বারি

বিনা মেঘে বর্ষে বারি।
সুরসিক হলে মর্ম জানে তারি।।

মেঘ-মেঘিতে সৃষ্টির কারবার
তারাই সবে ইন্দ্ররাজার আজ্ঞাকারী
যেজন সুধাসিন্ধু পাশে, ইন্দ্ররাজার নয় সে
অধিকারী।।

সুরসে নিরস ঝরে, সবাই কি তাই জানতে পারে
সাঁইয়ের কারিকুরি
যার একবিন্দু পরশে, এ জীব অনা’সে
হয় অমরি।।

বারিতে হয় ব্রহ্মাণ্ডের জীবন
বারি হতে হয় জীবের পাপ বিমোচন
হয় সবারি।।

দরবেশ সিরাজ কয় লালন
চিনে সেই মহাজন
থাক নেহারি।।

Posted from WordPress for Android


বিষম রাগের করণ করা

বিষম রাগের করণ করা।
চন্দ্রকান্ত যোগ মাসান্ত জানে কেবল রসিক যারা।।

ফণীর মুখে রসিক বসিয়ে
আছে সদাই নির্ভয় হয়ে
হুতাশন শীতল করিয়ে
অনলেতে দিয়ে পারা।।

যোগমায়া যোগের স্থিতি
দ্বিদলে তার বসতি
জান যদি কোন ব্যক্তি
হও গে সে জ্যান্তে মরা।।

সিরাজ সাঁই দরবেশে বলে
লালন ডুবে থাক গা সিন্ধুজলে
তাতে অঙ্গ শীতল হবে
হবি চন্দ্রভেদি রসিক তোরা।।

Posted from WordPress for Android


বিনা পাকালে গড়িয়ে কাচি করছো নাচানাচি

বিনা পাকালে গড়িয়ে কাচি করছো নাচানাচি।
ভেবেছ কামার বেটারে ফাঁকিতে ফেলেছি।।

জানা যাবে এসব নাচন
কাচিতে কাটবে না যখন
কারে করবি দুষি;
বোঁচা অস্ত্র টেনে কেবল
মরছো মিছামিছি।।

পাগলের গো-বধ আনন্দ
মন তোমার আজ সেহি ছন্দ
দেখে ধন্দ আছি;
নিজ মরণ পাগলে বোঝে
তাও তোমার নাই বুঝি।।

জানা গেল এসব নীলে
আপন ফাঁকে আপনি প’লে
তাও তো মহাখুশি;
লালন বলে সঙ্গ গুণে
জ্ঞান হলো নৈরাশী।।

Posted from WordPress for Android


বিনা কার্যে ধন উপার্জন কে করিতে পারে

বিনা কার্যে ধন উপার্জন কে করিতে পারে।
গুরু গত না হলে প্রেমের প্রেমিক না হলে সে ধন পায় না রে।।

একই ইস্কুলে দশজনা পড়ে
গুরুমনের এই বাসনা, সব সমান করে
কেউ পিছে এসে আগে গেল
পরীক্ষায় চিনা যায় তারে।।

বাংলা কিতাব কতই জনে পড়ে
আরবি ফারসি নাগরি বুলি কে বুঝিতে পারে
আবার শিখবি যদি নাগরি বুলি
বাংলা নেও গা পাশ করে।।

বিষম্বর বিষ পান করে
তাড়কায় করে বাছা হজম কাকে কি পারে
ফকির লালন বলে রসিক হলে
বিষ খেয়ে হজম করে।।

Posted from WordPress for Android


বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে।
আমি একদিন না দেখিলাম তারে।।

গিরাম বেড়ে অগাধ পানি
ও তার নাই কিনারা নাই তরণী পারে
মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে
কেমনে সে গাঁয় যাই রে।।

বলবো কী সেই পড়শির কথা
ও তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা, নাই রে
ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে।।

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

Posted from WordPress for Android


বান্দা পুলসেরাতের কথা কিছু ভাবিও মনে

বান্দা পুলসেরাতের কথা কিছু ভাবিও মনে।
পার হতে অবশ্য একদিন হবে সেইখানে।।

বলবো কি সেই পারের দুস্কর
চক্ষু হবে ঘোর অন্ধকার
কেউ দেখবে না কারো আকার
কে যাবে কমনে।।

সে পথ ত্রিভঙ্গ বাঁকা
তাতে হীরের ধার চোখা
ঈমান আমান হলে পাকা
তরবি সেইখানে।।

ফাতেমা নবিজির ফরজন
তার দাউন ভরসা তখন
এখন মেয়ে দোষো লালন
দেখলে সামনে।।

Posted from WordPress for Android