Monthly Archives: মার্চ 2014

বল রে বলাই তোদের ধরন কেমন হা রে

বল রে বলাই তোদের ধরন কেমন হা রে।
তোরা সব বলিস রাখাল ঈশ্বর
এই গোপালকে মানিস কৈ রে।।

বনে যেয়ে বনফল পাও
এঁটো করে গোপালকে দাও
তোদের এ কেমন ধর্ম, বল সেই মর্ম
আজ আমারে।।

গোষ্ঠে গোপাল যে দুঃখ পায়
কেঁদে কেঁদে বলে আমায়
তোরা ঈশ্বর বলিস যার, কাঁধে চড়িস তার
কোন বিচারে।।

আমারে বুঝা রে বলাই
তোদের তো সে ভাব দেখি নাই
লালন বলে তার, ভাব বুঝা ভার
এ সংসারে।।

Posted from WordPress for Android


আর কি হবে এমন জনম বসবো সাধুর মেলে

আর কি হবে এমন জনম বসবো সাধুর মেলে।
হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায় ঘিরে নিল কালে।।

কত কত লক্ষ যোনী
ভ্রমণ করে জানি
মানবকুলে মন রে তুমি
এসে কী করিলে।।

মানবকুলেতে আসায়
কত দেব-দেবতা বাঞ্ছিত হয়
হেন জনম দীন-দয়াময়
দিয়েছে কোন ফলে।।

ভুলো না রে মনরসনা
সমঝে কর বেচাকেনা
লালন বলে কূল পাবা না
এবার ঠকে গেলে।।

Posted from WordPress for Android


আমার মন-বিবাগী ঘোড়া বাগ ফিরাতে পারি নে দিবারাতে

আমার মন-বিবাগী ঘোড়া বাগ ফিরাতে পারি নে দিবারাতে।
মুর্শিদ আমার বুটের দানা খায় না ঘোড়ায় কোন মতে।।

বিসমিল্লায় দিয়ে লাগাম
একশ’ ত্রিশ তাহার পালান
হাদিস মতে কশনি কসে
চড়লাম ঘোড়ায় সোয়ার হতে।।

বিসমিল্লার গম্ভু ভারি
নামাজ রোজা তাহার সিঁড়ি
খায় রাতে দিনে পাঁচ আড়ি
ছিঁড়ল দড়া আচম্বিতে।।

লালন সাঁই কয় রয়ে সয়ে
কত ঘোড়সোয়ারি যাচ্ছে বেয়ে
পার যাব কি আছি বসে
শুধু আমার কোড়া হাতে।।

Posted from WordPress for Android


ভাল জল-ছেঁচা কল পেয়েছ মনা

ভাল জল-ছেঁচা কল পেয়েছ মনা।
ডুবারু যেজন পায় সে রতন তোর কপালে ঢনঢনা।।

মান সরোবর নামটি তার
লালমতি আছে অপার
ডুবতে পারলে না;
ডুবতে যেয়ে খাবি খেয়ে
সুখটা বোঝ শেষখানা।।

ইন্দ্রদ্বারে কপাট দেয়
সেই বটে ডুবারু হয়
নইলে হবে না;
আপা ছেঁচা কাদা খচা
কী অদ্ভুতের কারখানা।।

জল ছেঁচে নদী শুকায়
কার বা এমন সাধ্য হয়
কে পায় পরশখানা;
লালন বলে ছন্দি পেলে
যায় সমুদ্দুর লঙ্ঘনা।।

Posted from WordPress for Android


ভুলো না মন কারো ভোলে

ভুলো না মন কারো ভোলে।
রাসুলের দিন সত্য মান ডাক তারে আল্লা বলে।।

খোদা প্রাপ্তি মূল সাধনা
রাসুল বিনা আর কেউ জানে না
জাহের বাতুন উপাসনা
রাসুল হইতে প্রকাশিলে।।

অপরকে বুঝাইতে তামাম
করেন রাসুল জাহেরা কাম
বাতুনে মশগুল মুদাম
কারো কারো জানাইলে।।

দেখাদেখি সাধিলে যোগ
বিপদ ঘটবে বাড়িবে রোগ
যে জনা হয় শুদ্ধ সাধক
নবিজির ফরমানে চলে।।

যেরূপ মুরশিদ সেইরূপ রাসুল
ইহাতে নেই কোন ভুল
সিরাজ সাঁই কয় লালন কি কুল
পাবি মুরশিদ না ভজিলে।।

Posted from WordPress for Android


ভাবের উদয় যেদিন হবে

ভাবের উদয় যেদিন হবে।
হৃদকমলে সে রূপ ঝলক দিবে।।

ভাবশূন্য হইলে হৃদয়
বেদ পড়িলে কী ফল হয়
ভাবের ভাবি থাকলে সদাই
গুপ্ত-ব্যক্ত নীলা সব জানা যাবে।।

দ্বিদলে সহস্র দল
একরূপে সাঁই করে আলো
সেইরূপে যে নয়ন দিল
মহাকাল শমন তার কী করিবে।।

অদেখা ভজনা করা
আঁধার ঘরে সর্প ধরা
লালন বলে ভাবুক যারা
জ্ঞানের বাতি জ্বেলে চরণ পাবে।।

Posted from WordPress for Android


ভবের গোলা আসমানে

ভবের গোলা আসমানে।
মুক্তামণি বিকিকিনি মহাজন তার কোনখানে।।

সেই গোলা আসমানে
রসের খেলা রাত্রদিনে
ধর্মদুষি আর চুরাশী
পরশ হয় তার পরশনে।।

পেলে মন পৈতৃক সে ধন
বিলালো তারে আপন মন
কারণে করণ যার সে ধরন
দিচ্ছে পুঁজি তাই জেনে।।

সেই ধনের আশায় যারা
ভাব ত্রিপিনে দেয় পাহারা
পেয়ে মহাযোগ এড়ায় ভবরোগ
লালন ম’ল মনের গুণে।।

Posted from WordPress for Android


ভবে মানুষ-গুরু নিষ্ঠা যার

ভবে মানুষ-গুরু নিষ্ঠা যার।
সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার।।

নদী কিংবা বিল বাওড় খাল
সর্বস্থলে একই সে জল
একা মেরে সাঁই, ফেরে সর্ব ঠাঁই
মানুষে মিশে হয় বেদান্তর।।

নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে
আকার সাকার হইল সে
যেজন দিব্যজ্ঞানী হয়, সেহি জানতে পায়
কলি যুগে হ’ল মানুষ অবতার।।

বহুতর্কে দিন বয়ে যায়
বিশ্বাসে ধন নিকটে পায়
সিরাজ সাঁই ডেকে বলে লালনকে
কুতর্কের দোকান খুলিস নে আর।।

Posted from WordPress for Android


ভবে নামাজি হও যে জনা

ভবে নামাজি হও যে জনা।
নুক্তা চিনে কর ঠিকানা।।

নুক্তার জন্ম হয় কিসে, এ কথা মানুষের কাছে
জের-জবর তসদিক দিয়ে, ভেজেছেন কোরানখানা
নবিজি তার করেছে মানে
মুল্লারা তা জানে না।।

যার নুক্তা নিরূপণ, দিয়ে প্রেমের দুই নয়ন
ঘড়ি ঘড়ি হচ্ছে নামাজ ঠিক আছে মন
নুক্তা নিরিখ হইল ঠিক
ওয়াক্ত নফল লাগবে না।।

আল্লা বলে হাম, নবি তোমারই এসব কাম
দশ হরফ বাতুন রেখে ভেজিলে কোরান
দশ হরফের মানে না জানিলে
লালন কয় সে ফকির না।।

Posted from WordPress for Android