Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি 2014

ভবপারে যাবি কিরে গুরুর চরণ স্মরণ কর আগে

ভবপারে যাবি কিরে গুরুর চরণ স্মরণ কর আগে।
পিতৃধন তোর নিল চোরে পারে যাবি কোন রাগে।।

আছে ঘাটে যার রাজা সেই তো তার প্রজা
কর সাব্যস্ত করে আগে সাজাও গে ডিঙ্গে
নইলে পড়বে ধোঁকা সারবে দফা
মৃণালের দুইভাগে।।

আগে মৃণালের কোণে ভেবে দেখ নয়নে
ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা পড়ে সেই ভাগে
কত নায়ের মাঝি হারায়ে পুঁজি
কলকলে নদীর ঘোরপাকে।।

সিরাজ সাঁই বলে রে লালন, স্বরূপ রূপে দিলে নয়ন
পার হয়ে যাবি তখন, পলাবে শমন ভেগে
পারবি নে সাধন বিনে সেই ত্রিপিনে
ভুগি মনে ভবের ভোগে।।

Posted from WordPress for Android


ভজা উচিৎ বটে ছড়ার হাঁড়ি

ভজা উচিৎ বটে ছড়ার হাঁড়ি।
যাতে শুদ্ধ করে ঠাকুরবাড়ি।।

চণ্ডীমণ্ডপ আর
হেঁসেলঘর
কেবল শুদ্ধ করে
ছড়ার নূড়ি।।

ছড়ার হাঁড়ির জল
ক্ষণেক পরশ ফল
ক্ষণেক ছুঁস নে বলে
কর চেগুড়ি।।

ছড়ার হাঁড়ির মত
আছে আর এক তত্ত্ব
লালন বলে জাগাও
বুদ্ধির নাড়ি।।

Posted from WordPress for Android


ভজ রে জেনে শুনে

ভজ রে জেনে শুনে।
নবি কলমা কলেন্দা আলি হালদাতা
ফাতেমা দাতা কি ধন দানে
নিলে ফতেমার স্মরণ, ফতে হয় করণ
আছে ফরমান সাঁইর জবানে।।

সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করলেন সবারি
যুগে যুগে মাতা হন যোগেশ্বরী
সুযোগ না বুঝে, কুযোগে মজে
মারা গেল এ জীব ঘোর তুফানে।।

শুনেছি মা তুমি অবিম্বধারী
বেদান্তের উপর গম্ভু তাহারি
তারে চেনা  হ’ল ভার, ও রে মন আমার
ভুলে র’লি ভবের ভাব-ভূষণে।।

সাড়ে সাত পান্তি পথের দাঁড়া
আদ্য পান্তি তার আদ্য মূল গোড়া
সিরাজ সাঁইর চরণ ভুলে রে মন
অঘাটে মারা যাচ্ছ কেনে।।

Posted from WordPress for Android


ভজনের নিগূঢ় কথা যাতে আছে

ভজনের নিগূঢ় কথা যাতে আছে।
ব্রহ্মার বেদ-ছাড়া ভেদ বিধান সে যে।।

চার বেদে দিক নিরূপণ
অষ্ট বেদ বস্তুর কারণ
রসিক হইলে জানে সে জন
আর ঠাঁই মিছে।।

অপরূপ সেই বেদ দেখি
পাঠক তার অষ্ট সখি
ষড়তত্ত্ব অনুরাগি
সে জেনেছে।।

মুক্তিরাগ নাস্তি কর
ব্যক্তিপদ শিরে ধর
শক্তিসার তন্ত্র পড়
ঘোর যাক ঘুচে।।

সাঁইর ভজন হেতু শূন্য
ঐ বেদে করি গণ্য
লালন কয় ধন্য ধন্য
যে তাই খোঁজে।।

Posted from WordPress for Android


ভজ রে আনন্দের গৌরাঙ্গ

ভজ রে আনন্দের গৌরাঙ্গ।
যদি তরিতে বাসনা থাকে ধর রে মন সাধুর সঙ্গ।।

সাধুর গুণ যায় না বলা
শুদ্ধ চিত্ত অন্তর খোলা
সাধুর দরশনে যায় মনের ময়লা
পরশে প্রেমতরঙ্গ।।

সাধুজনার প্রেমহিল্লোলে
কত মানিক-মুক্তা ফলে
সাধু যারে কৃপা করে
প্রেমময়ে দেয় প্রেমঅঙ্গ।।

একরসে হয় প্রতিবাদী
একরসে ঘুরছে নদী
একরসে নৃত্য করে
নিত্যরসের গৌরাঙ্গ।।

সাধুর সঙ্গগুণে রঙ ধরবে
পূর্ব শোভার দূরে যাবে
লালন বলে পাইবে প্রাণের গোবিন্দ
করবে সতসঙ্গ।।

Posted from WordPress for Android


হীরে লালমতির দোকানে গেলে না

হীরে লালমতির দোকানে গেলে না।
সদাই কিনলি রে মন পিতলদানা।।

চটকে ভুলে রে মন
হারালি অমূল্য রতন
হেরে বাজি কাঁদলে তখন
আর সারে না।।

পিছের কথা আগে ভেবে
উচিৎ বটে তাই জানিবে
গত কাজের বিধি কিরে
মন-রসনা।।

ব্যাপারে লাভ করলে ভাল
সে গুণপনা জানা গেল
লালন বলে মিছে হলো
আওনা-যাওনা।।

Posted from WordPress for Android


হা রে মন তোরে আর কী বলি

হা রে মন তোরে আর কী বলি।
পেয়ে ধন সে ধন হারালি।।

মহাজনের ধন এনে
ছড়ালি রে উলুবনে
ও তোর কী হবে নিকাশের দিনে
সে ভাবনা কই ভাবিলি।।

সই করিয়ে পুঁজি তখন
আনলি রে তিন রতি এক মন
তোর ব্যাপার করা যেমন তেমন
আসলে খাদ লাগালি।।

করলি ভাল বেচাকেনা
চিনলে নে রে রাঙ কি সোনা
অধীন লালন বলে মন-রসনা
কেন সাধুর হাটে এলি।।

Posted from WordPress for Android