Monthly Archives: ডিসেম্বর 2013

সদা সে নিরঞ্জন নীরে ভাসে

সদা সে নিরঞ্জন নীরে ভাসে।
যে জানে সে নীরের খবর
নীরঘাটায় খুঁজলে তারে পায় অনাসে।।

বিনা মেঘে নীর বরিষণ
করিতে হয় তার অন্বেষণ
যাতে হ’ল ডিম্বুর গঠন
থাকিয়ে অবিম্বু শম্ভু বাসে।।

যথা নীরের হয় উতপত্তি
সেই আবেশে জন্মে শক্তি
মিলন হ’ল উভয় রতি
ভাসলে যখন নরেকারে এসে।।

নীরে নিরঞ্জন অবতার
নীরেতে সব করবে সংহার
সিরাজ সাঁই তাই কয় বারে বার
দেখ রে লালন আত্মতত্বে বসে।।

Posted from WordPress for Android


সদা মন থাকো বাহুঁশ ধর মানুষ রূপ নেহারে

সদা মন থাকো বাহুঁশ ধর মানুষ রূপ নেহারে।
আয়না-আঁটা রূপের ছটা চিলেকোঠায় ঝলক মারে।।

বর্তমানে দেখ ধরি
নরদেহে অটলবিহারী
মর কেন হরিবড়ি
কাঠের মালা টিপে হা রে।।

স্বরূপ রূপে রূপ কে জানা
সেই তো বটে উপাসনা
গাঁজায় দম চড়িয়ে মনা
বোম-কালী আর বলিও নারে।।

দেল ঢুঁড়ে দরবেশ যারা
রূপ নিহারে সিদ্ধি তারা
লালন কয় আমার খেলা
ডাণ্ডাগুলি সার হলো রে।।

Posted from WordPress for Android


সত্য বল সুপথে চল্‍ ও রে আমার মন

সত্য বল সুপথে চল্‍ ও রে আমার মন।
সত্য সুপথ না চিনিলে পাবি নে মানুষের দরশন।।

ফড়িয়া মহাজন যে-জন
তার বাটখারাতে কম
তারে কসুর করবে জম;
গদিয়ান মহাজন যে-জন
বসে কেনে প্রেম-রতন।।

পরের দ্রব্য পরের নারী হরণ কর না
পারে যেতে পারবে না
যতবার করিবে হরণ
ততবার হবে জনম।।

লালন ফকির আসলে মিথ্যে
ঘুরে বেড়ায় তীর্থে তীর্থে
সই হ’ল না একমন দিতে
আসলেতে প’লো কম।।

Posted from WordPress for Android


সকলি কপালে করে

সকলি কপালে করে
কপালের নাম গোপালচন্দ্র
কপালের নাম গুয়ে গোবরে।।

যদি থাকে এই কপালে
রত্ন এনে দেয় গোপালে
কপালে বিমতি হলে
দূর্বা বনে বাঘে মারে।।

কেউ রাজা কেউ ভিখারি
কপালের ফ্যার হয় সবারি
মনের ফ্যারে বুঝতে নারি
খেটে মরি অনাকারে।।

যার যেমন মনের বাসনা
তেমনি ফল পেয়েছে সে না
লালন বলে কাঁদলে হয় না
বিধির কলম আর কি ফেরে।।

Posted from WordPress for Android


সকল দিকধর্ম আমার বোষ্টমী

সকল দিকধর্ম আমার বোষ্টমী।
ইষ্ট ছাড়া কষ্ট পাই ঐটে আমার নষ্টামি।।

কেমন সুখ রান্নার জল আনা
তাই কেন কেউ করে দেখলে না
মুখের কথায় মন্ত্র দিয়ে
করেন ইষ্ট গোঁসাই ফষ্টামি।।

বৈষ্ণবী দেয় শীতের ক্যাঁথা
তখন ইষ্ট গোঁসাই থাকেন কোথা
কোন কালে পরকালে পাব
তাইতে ভজি গোস্বামী।।

বৈষ্ণবীর গুণ বিষ্ণু জানে
আর জানে ভাই বেদ-পুরাণে
লালন কয় বৈষ্ণবী রতন
হেঁসেলঘরের শালগেরামি।।

Posted from WordPress for Android


ষড়-রসিক বিনে কেবা তারে চেনে যার নাম অধরা

ষড়-রসিক বিনে কেবা তারে চেনে যার নাম অধরা।
শাক্ত-শৈব বুঝে, যেরূপে যে মজে বৈষ্ণবের বিষ্ণুরূপ নেহারা।।

বলে সপ্ত পান্তির মত, সপ্তরূপ ব্যাখ্যিত
রসিকের মন নয় তাতে রত
রসিকের মন রসেতে মগন
রূপরস জানিয়ে খেলছে তারা।।

হলে পঞ্চতত্ত্ব জ্ঞানী, পঞ্চরূপ বাখানি
রসিক বলে সেও তো নিলেন নিত্য গুণী
বেদ-বিধিতে যার, নীলের নাই প্রচার
নিগুম শহরে সাঁইজী মেরা।।

যে জন ব্রহ্মজ্ঞানী হয়, সে কি জানতে পায়
না দেখে নাম ব্রহ্ম সার করে হৃদয়
রসিক স্বরূপ রূপদর্পণে, রূপ দেখে নয়নে
লালন বলে রসিক দীপ্তকারা।।

Posted from WordPress for Android


শূন্যেতে এক আজব বৃক্ষ দেখতে পাই

শূন্যেতে এক আজব বৃক্ষ দেখতে পাই।
আড়ে দীঘে কত হবে কল্পনা করবা সাধ্য নাই।।

সেই বৃক্ষের দুই অপূর্ব ডাল
তার এক ডালে প্রেম আর এক ডালে কাল
চার যুগেতে আছে সে ফুল
নাই টলাটল রতিময়।।

বলবো কীসে বৃক্ষের কথা
ফুলে মধু ফলে সুধা
এমন বৃক্ষ মানে যেবা
তার বলিহারি যায়।।

বিনা বীজে সেই যে বৃক্ষ
ত্রিজগতের উপলক্ষ
শাস্ত্রেতে আছে ঐক্য
লালন ভেবে বলে তায়।।

Posted from WordPress for Android


শুন্য ভরে ছিলেন যখন গুপ্ত জ্যোতির্ময়

শুন্য ভরে ছিলেন যখন গুপ্ত জ্যোতির্ময়।
লা-শরিকালা কালুবালা ছিলেন লুকায়।।

রাগের ধুমায় কুওকারময়
সুখনাল ঝরে নৈরাকার হয়
আপনার রসে আপনি ভাসে
ডিম্বকার দেখায়।।

অন্ধকারে রতিদানে
ছিল সে না পতির রূপদর্পণে
হ’ল সেই না পতির সঙ্গে গতি
নীরে পদ্মময়।।

তার আগাগলি ডিম্ব ছোটে
চৌদ্দ ভুবন তাইরি পেটে
সিরাজ সাঁই কয় অবোধ লালন
এ ভেদ বুঝতে পারলে হয়।।

Posted from WordPress for Android


শিরনি খাওয়ার লোভ যার আছে

শিরনি খাওয়ার লোভ যার আছে।
সে কি চেনে মানুষরতন দরগাতলায় মন মজেছে।।

সাধুর হাটে সে যদি যায়
আঁট বসে না কোন কথায়
মন থাকে তার দরগাতলায়
বুদ্ধি তার পেঁচোয় পেয়েছে।।

প্রতিমা গড়ে ভাস্করে
মনপ্রাণ প্রতিষ্ঠা করে
আবার গুরু বলে তারে
এমন পাগল কে দেখেছে।।

মাটির পুতুল গড়ে  নাচায়
আপনি মারে আপনি বাঁচায়
তাই জেনে স্বয়ং হতে চায়
লালন কয় তার সকল মিছে।।

Posted from WordPress for Android


শুনি নবির অঙ্গে জগৎ পয়দা হয়

শুনি নবির অঙ্গে জগৎ পয়দা হয়।
সেই যে আকার কী হল তার কে করে নির্ণয়।।

আব্দুল্লার ঘরেতে বলো
সেই নবির জন্ম হ’ল
মূল দেহ তার কোথায় ছিল
কারে বা শুধায়।।

কী রূপে সেই নবির জান
বাবার বীজে যুক্ত হন
আবহায়াত নামটি লিখন
হাওয়া নাই সেথায়।।

একজনে দুই কায়া ধরে
কেউ পাপ কেউ পুণ্যি করে
কী হবে তার রোজ হাসরে
নিকাশের বেলায়।।

নবির ভেদ পেলে এক ক্রান্তি
ঘুচে যেত মনের ভ্রান্তি
দৃষ্টি হত আলেকপান্তি
লালন ফকির কয়।।

Posted from WordPress for Android