Monthly Archives: অগাষ্ট 2013

মানুষ অবিশ্বাসে পাই না রে সে মানুষনিধি

মানুষ অবিশ্বাসে পাই না রে সে মানুষনিধি।
এই মানুষে মিলতো মানুষ চিনতাম যদি।।

অধরচাঁদের যতই খেলা
সর্ব-উত্তম নরলীলা
না বুঝে মন হলি ভুলা
মানুষ বিবাদী।।

যে অঙ্গের অভয় মানুষ
চিনলি না রে মন বেহুঁশ
মানুষ ছাড়া নাই রে মানুষ
মন আদির আদি।।

দেখে মানুষ চিনলাম না রে
চিরদিন মায়ার ঘোরে
লালন বলে এ দিন পরে
কী হবে গতি।।

Posted from WordPress for Android


জমির জরিপ একদিনেতে সারা

জমির জরিপ একদিনেতে সারা।
আগার পাগার আছে তোমার ঠিকেতে ঠিক করা।।

এই দেহে আঠার কালি
সে কথা এখন বলি
পণ্ডিতে পায় না খুঁজি
বুঝবে ভাবুক যারা।।

একেতে তিন ভাগ করিয়ে
বারগুণ আকার দিয়ে
অতিত-পতিত রয় বহিরে
ভিতরে বালুচরা।।

দুই পয়ারে এক চরে পাখি
জগতে নাই তাকিয়ে দেখি
একবার তার ফাঁকিফুকি
বুঝবি কিসে তোরা।।

চিকন ধারে নলটি ধরে
রাখে না জমিন জরিপ করে
মস্তক ছেদন করা দেখে
লালন দিশেহারা।।

Posted from WordPress for Android


তীরধারা বয় রে নদীর তীরধারা বয়

তীরধারা বয় রে নদীর তীরধারা বয়।
কোন ধারাতে কী ধন প্রাপ্তি হয়।।

তীরধারায় যোগানন্দ, কার সঙ্গে কী সম্বন্ধ
শুনলে ঘোচে মনের সন্দ, প্রেমানন্দ বাড়ে হৃদয়
শক্তিতত্ত্ব পরমতত্ত্ব সত্য সত্য যাহার হৃদয়।।

তারুণ্যে কারুণ্যে এসে, লাবণ্যেতে কখন মেশে
যার আছে এসব দিশে, সচেতন তারে বলা যায়
আমার হল মতিমন্দ, সেপথে ডোবে না মনুরায়।।

কখন হয় শুকনা নদী, কখন হয় বর্ষা অতি
কোনখানে তার কূলের স্থিতি, সাধকে করে নির্ণয়
আমি অভাগা লালন, না বুঝে ডুবি কিনারায়।।

Posted from WordPress for Android


মা তোমার গোপাল নেমেছে কালিদয়

মা তোমার গোপাল নেমেছে কালিদয়।
সে যে বাঁচে এমন সাধ্য নাই।।

কালকূটে কালনাগ যারা
কালিদয় আছে তারা
বিষে হল জরা জরা
তাইতে তার প্রাণ যায়।।

কালিদয় কমল তুলিতে
দিলি কেন গোপালকে যেতে
মরে সে নাগের হাতে
বিষ লেগে গোপালের গায়।।

দংশায় কমলের কারণ
কালিদয় মরিল নীলরতন
লালন বলে পুত্রের কারণ
বাঁচে না যশোদা মায়।।

Posted from WordPress for Android


ময়ূররূপে কে গাছের পরে

ময়ূররূপে কে গাছের পরে।
দুই ঠোঁটে তছবি জপ করে।।

গাছের গোড়ায় করিম রহিম শুনি
গাছের নাম রেখেছেন সাই রব্বানি
গাছের চারটি শাখা, দেখতে বাঁকা
কোন শাখায় কোন রঙ ধরে।।

তিপ্পান্ন হাজার সেই গাছের নাম
সেই নামটি হয় মারফতি মুকাম
ডাকলে একনাম ধরে, জীবের যত পাপ হরে
সাধ্য কি জীবে এত পাপ করে।।

সত্তর লাখ আঠারো হাজার সাল
নাম নিতে গেল এত কাল
সিরাজ সাই বলছে, লালন এসে
কী করলি ভবের পরে।।

Posted from WordPress for Android


মহাসন্ধির উপর ফেরে সে

মহাসন্ধির উপর ফেরে সে।
মন রে ফেরো সদাই যার তল্লাশে।।

ঘটে পটে সব জাগায়
আছে আবার নাই বলা যায়
চন্দ্র যে প্রকার, উদয় জলের পর
অমনি সে বিরাজে এই মানুষে।।

যদি হয় রসবিহারী
তবু আলোক হয় সবারি
কারো মরায় মরে না, ধরা সে দেয় না
ধরতে গেলে পলায় অচিন দেশে।।

সাই আমার অটল পদার্থ
নাই করে তার জরামৃত
যদি জরামৃত হয়, তবে অটল পদ না কয়
ফকির লালন বলে তা কয়জন বোঝে।।

Posted from WordPress for Android


পড়ে ভূত আর হোস্‍ নে মনরায়

পড়ে ভূত আর হোস্‍ নে মনরায়।
কোন হরফে কী ভেদ আছে নিহাজ করে জানতে হয়।।

আলেফ হে আর মিম দালেতে
আহাম্মদ নাম লিখা যায়
মিম হরফটি নফি করে
দেখ না খোদা কারে কয়।।

আকার ছেড়ে নিরাকারে
ভজলি রে আধেলার প্রায়
আহাদে আহাম্মদ হলো
করলি নে তার পরিচয়।।

জাতে ছেফাত ছেফাতে জাত
দরবেশে তায় জানিতে পায়
লালন বলে কেঠো মোল্লা
ভেদ না জেনে গোল বাধায়।।

Posted from WordPress for Android