Monthly Archives: অগাষ্ট 2013

মা তোমার গোপাল নেমেছে কালিদয়

মা তোমার গোপাল নেমেছে কালিদয়।
সে যে বাঁচে এমন সাধ্য নাই।।

কালকূটে কালনাগ যারা
কালিদয় আছে তারা
বিষে হল জরা জরা
তাইতে তার প্রাণ যায়।।

কালিদয় কমল তুলিতে
দিলি কেন গোপালকে যেতে
মরে সে নাগের হাতে
বিষ লেগে গোপালের গায়।।

দংশায় কমলের কারণ
কালিদয় মরিল নীলরতন
লালন বলে পুত্রের কারণ
বাঁচে না যশোদা মায়।।

Posted from WordPress for Android


ময়ূররূপে কে গাছের পরে

ময়ূররূপে কে গাছের পরে।
দুই ঠোঁটে তছবি জপ করে।।

গাছের গোড়ায় করিম রহিম শুনি
গাছের নাম রেখেছেন সাই রব্বানি
গাছের চারটি শাখা, দেখতে বাঁকা
কোন শাখায় কোন রঙ ধরে।।

তিপ্পান্ন হাজার সেই গাছের নাম
সেই নামটি হয় মারফতি মুকাম
ডাকলে একনাম ধরে, জীবের যত পাপ হরে
সাধ্য কি জীবে এত পাপ করে।।

সত্তর লাখ আঠারো হাজার সাল
নাম নিতে গেল এত কাল
সিরাজ সাই বলছে, লালন এসে
কী করলি ভবের পরে।।

Posted from WordPress for Android


মহাসন্ধির উপর ফেরে সে

মহাসন্ধির উপর ফেরে সে।
মন রে ফেরো সদাই যার তল্লাশে।।

ঘটে পটে সব জাগায়
আছে আবার নাই বলা যায়
চন্দ্র যে প্রকার, উদয় জলের পর
অমনি সে বিরাজে এই মানুষে।।

যদি হয় রসবিহারী
তবু আলোক হয় সবারি
কারো মরায় মরে না, ধরা সে দেয় না
ধরতে গেলে পলায় অচিন দেশে।।

সাই আমার অটল পদার্থ
নাই করে তার জরামৃত
যদি জরামৃত হয়, তবে অটল পদ না কয়
ফকির লালন বলে তা কয়জন বোঝে।।

Posted from WordPress for Android


পড়ে ভূত আর হোস্‍ নে মনরায়

পড়ে ভূত আর হোস্‍ নে মনরায়।
কোন হরফে কী ভেদ আছে নিহাজ করে জানতে হয়।।

আলেফ হে আর মিম দালেতে
আহাম্মদ নাম লিখা যায়
মিম হরফটি নফি করে
দেখ না খোদা কারে কয়।।

আকার ছেড়ে নিরাকারে
ভজলি রে আধেলার প্রায়
আহাদে আহাম্মদ হলো
করলি নে তার পরিচয়।।

জাতে ছেফাত ছেফাতে জাত
দরবেশে তায় জানিতে পায়
লালন বলে কেঠো মোল্লা
ভেদ না জেনে গোল বাধায়।।

Posted from WordPress for Android


ফেরেব ছেড়ে করো ফকিরি

ফেরেব ছেড়ে করো ফকিরি।
দিন তোমার হেলায় হেলায় হল আখেরি।।

ফেরেব ফকিরের ধারা
দরগা নিশান ঝাণ্ডাগাড়া
গলায় বেধে হড়ামড়া
শিরনি খাওয়ার ফিকিরি।।

আসল ফকিরি মতে
বাহ্য আলাপ নাহি তাতে
চলে শুদ্ধ সহজ পথে
অবোধের চটক ভারি।।

নাম-গোয়ালা কাজি ভক্ষণ
তোমার দেখি তেমনি লক্ষণ
সিরাজ সাই কয় অবোধ লালন
কর সাধুর খাতায় জুয়াচুরি।।

Posted from WordPress for Android


বল গো সজনী আমার কেমন সেই গৌর গুণমণি

বল গো সজনী আমার কেমন সেই গৌর গুণমণি।
জগৎ-জনার মন রূপে করে পাগলিনী।।

একবার যদি দেখতাম তারে
রাখতাম সে রূপ হৃদয়পুরে
রোগ-শোক সব যেত দূরে
শীতল হত মহাপ্রাণী।।

মন-মোহিনীর মনহরা
দেখি নি কোথা সে গোরা
আমায় লয়ে চল গো তোরা
দেখে শীতল হই ধনি।।

নদেবাসীর ভাগ্য ছিল
গৌর হেরে মুক্তি পেল
অধীন লালন ফেরে
না পেয়ে চরণ দু’খানি।।

Posted from WordPress for Android


বল রে নিমাই বল আমারে

বল রে নিমাই বল আমারে।
রাধা বলে আজগুবি আজ
কাদলি কেন ঘুমের ঘোরে।।

সেই যে রাধার কী মহিমা
বেদে দিতে নারে সীমা
ধ্যানে যারে পায় না ব্রহ্মা
তুই কেমনে জানলি তারে।।

রাধে তোমার কী হয় নিমাই
সত্য করে বল আমায়
এমন বালক সময়
এ বোল কে শেখাল তোরে।।

তুমি শিশু ছেলে আমার
মা হয়ে ভেদ পাই নে তোমার
লালন কয় এই শচীর কুমার
জগৎ করলো চমৎকেরে।।

Posted from WordPress for Android


ভজ মুরশিদের কদম এই বেলা

ভজ মুরশিদের কদম এই বেলা।
চার পিয়ালা হৃদ্‍-কমলা ক্রমে হবে উজ্জ্বলা।।

নবিজির খানদানেতে
পিয়ালা চারিমতে
জেনে নাও দিন থাকিতে
ও রে আমার মনভোলা।।

কোথা রে আবহায়াত নদী
ধারা বয় নিরবধি
সে ধারা ধরবি যদি
দেখবি রে অটলের খেলা।।

এপারে কে আনিল
ওপার কে নেবে বলো
লালন কয় তারে ভোল
করে অবহেলা।।

Posted from WordPress for Android


ঐ গোরা কি শুধুই গোরা ওগো নাগরী

ঐ গোরা কি শুধুই গোরা ওগো নাগরী।
দেখ দেখ চেয়ে দেখ কেমন রূপছিরি।।

শ্যাম অঙ্গে গৌরাঙ্গ মাখা
নয়ন দুটি আকাঁ-বাঁকা
মন বুঝে দিচ্ছে দেখা
ঐ ব্রজের বংশীধারী।।

না জানি কোন ভাব লয়ে
এসেছে শ্যাম গৌর হয়ে
আর কয়দিন রাখবে ছাপায়ে
নিজ রূপ মাধুরী।।

যে হোক সে হোক নাগরা
করবে কুলের কুলহারা
লালন কয় দেখলো যারা
সৌভাগ্য কপাল তারি।।


ও মন কর সাধনা মায়ায় ভুল না

ও মন কর সাধনা মায়ায় ভুল না।
নইলে আর সাধন হবে না।।

সিংহের দুগ্ধ স্বর্ণপাত্রে রয়
মেটেপাত্রে দিলে ও মন কেমন দেখায়
মনপাত্র হলে মেটে, কী করবি কেদে কেটে
আগে কর সেই পাত্রের ঠিকানা।।

চেতনগুরুর সঙ্গে কর ভগ্নাংশ শিক্ষা
বীজগণিতে পূর্ণমান হবে তাতে পাবি রক্ষা
মনমতি ভাল হও, দীক্ষা-শিক্ষা লও
মানসাংক কষতে যেন ভুল কর না।।

বাংলা শিক্ষা কর মন আগে
ইংরাজিতে মন তোমার রাখ বিভাগে
বাংলা না শিখিয়ে, ইংরাজিতে মন দিয়ে
লালন বলে করছ পাসের ভাবনা।।