Monthly Archives: অগাষ্ট 2013

মুরশিদ বিনে কী ধন আর আছে রে মন এ জগতে

মুরশিদ বিনে কী ধন আর আছে রে মন এ জগতে।
যে নাম স্মরণে মন রে, তাপিত অঙ্গ শীতল করে
ভববন্ধন জ্বালা যায় গো দুরে জপ ঐ নাম দিবারাতে।।

মুরশিদের চরণের সুধা, পান করিলে যাবে ক্ষুধা
করো না মন দেলে দ্বিধা, যেহি মুরশিদ সেহি খোদা
ভজ ওলিয়েম মুরশিদা আয়াত লেখা কোরানেতে।।

আপনি আল্লা আপনি নবি, আপনি হন আদম সফি
অনন্ত রূপ করে ধারণ, কে বোঝে সাইর লীলার করণ
নিরাকারে হাকিম নিরঞ্জন মুরশিদ রূপ ওই ভজন পথে।।

কুল্লে সাইন মোহিত আর, আল্লা কুল্লে সাইন কাদির
পড় কালাম নিহাজ কর তবে সে ভেদ জানতে পার
কেন লালন ফাঁকে ফের ফকির নাম পাড়াও মিছে।।

Posted from WordPress for Android


মুরশিদ জানায় যারে মরম সেই জানতে পায়

মুরশিদ জানায় যারে মরম সেই জানতে পায়।
জেনে শুনে রাখে মনে সে কি কারো কয়।।

নিরাকার কয় অচিন দেশে
আকার ছাড়া চলে না সে
নিরন্তর সাই, অন্ত যার নাই
যে যা ভাবে তাই সে হয়।।

মুনশি লোকের মুনশিগিরি
কাজ নয় তার ফষ্টিগিরি
আকার নাই যার, বরজখ আকার
বলে সর্বদাই।।

নূরেতে কুল আদম পয়দা
আবার কয় পানির কথা
নূর কি পানি, বস্তু জানি
লালন ভাবে তায়।।

Posted from WordPress for Android


মুখের কথায় কি চাঁদ ধরা যায় রসিক না হলে

মুখের কথায় কি চাঁদ ধরা যায় রসিক না হলে।
সে চাঁদ দেখলে অমনি ত্রিজগৎ ভোলে।।

শম্ভু-রসের উপাসনা
না জানিলে রসিক হয় না
গজমতি গোরোচনা
নানা শস্য যাতে ফলে।।

মন-মোহিনীর মনহরা
যে রসে পড়েছে ধরা
জানতে পারে রসিক যারা
অহিমুণ্ডে উভয় ধীর হলে।।

নিগূঢ় প্রেম রস-রতির কথা
জেনে মুড়াও মনের মাথা
কেন লালন ঘুরছো বৃথা
শুদ্ধ সহজ রাগের পথ ভুলে।।

Posted from WordPress for Android


মুখে পড় রে সদা লা-ইলাহা ইল্লাল্লা

মুখে পড় রে সদা লা-ইলাহা ইল্লাল্লা।।
আইন ভেজিলেন রাসুলউল্লা।।

নামের সহিত রূপ
ধিয়ানে রাখিয়া জপ
বেনিশানায় যদি ডাক
চিনবি কীরূপ কে আল্লা।।

লা-শরিক জানিয়া তাকে
পড় কালাম দেলে মুখে
মুক্তি পাবি থাকবি সুখে
দেখবি রে নূর তাজেল্লা।।

লা ইলাহা নফি সে হয়
ইল্লাল্লা সেই দীন দয়াময়
নফি-এজবাত যাহারে কয়
সেহিতো এবাদতউল্লা।।

বলেছে সাই আল্লা নূরি
এই জেকেরের দরজা ভারি
সিরাজ সাই তাই কয় পুকারি
শোন রে লালন বেলেল্লা।।

Posted from WordPress for Android


মানুষ ধরো নেহারে রে

মানুষ ধরো নেহারে রে।
উহার মন-নয়নে যোগাযোগ করে।।

নেহারায় চেহারা বন্দী কর রে কর একান্তি
সাড়ে চব্বিশ জেলায় খাটাও পান্তি
পালাবে সে কোন শহরে;
ত্বরায় দারোগা হয়ে কর বাতাবন্দী
স্বরূপ মন্দিরে।।

স্বরূপে আসন যাহার পবন হিল্লোলে বিহার
পক্ষান্তরে দেখ এবার
দিব্যচক্ষু প্রকাশ করে;
দু’পক্ষেতে খেলছে খেলা
নরনারী রূপ ধরে।।

অমাবস্যে পূর্ণমাসী, তাহে মহাযোগ প্রকাশি
ইন্দ্র চাঁদ বায়ু বরুণ আদি
সে যোগের বাঞ্ছিত আছে রে;
সিরাজ সাই বলে রে লালন
মানুষ সাধ প্রেমনীরে।।

Posted from WordPress for Android


মানুষতত্ত্ব যার সত্য হয় মনে

মানুষতত্ত্ব যার সত্য হয় মনে।
সেকি অন্য তত্ত্ব মানে।।

মাটির ঢিবি কাঠের ছবি
ভূত ভাবি সব দেবাদেবী
ভোলে না সে অন্যরূপী
মানুষ ভজে দিব্যজ্ঞানে।।

নরই সরই নূলা ঝুলা
পেচ পেচী আলাভোলা
তাতে নয় সে ভোলনেওয়ালা
যেজন মানুষ রতন চেনে।।

ফেয়ো ফেপী ফ্যাকসা যারা
ভাকা ভোকায় ভোলে তারা
লালন তেমনি চটা মারা
ঠিক দাঁড়ায় না একখানে।।

Posted from WordPress for Android


তুমি তো গুরু স্বরূপের অধীন

তুমি তো গুরু স্বরূপের অধীন।
আমি ছিলাম সুখে ঊর্ধ্ব দেশে
অধে এনে করলে আমায় হীন।।

তুমি মাতা তুমি পিতা
তুমি হও জ্ঞানদাতা
তুমি চক্ষু দান দিয়ে
দেখাও আমায় শুভদিন।।

আমি গুরুর করবো ভজন
তাতে বাদী হলো ছয়জন
ও সে দশে ছয়ে ষোলআনা
হলো না মোর সেইদিন।।

ভক্তি নইলে কি মন
গুরুচরণ হয় শরণ
অধীন লালন ভেবে কয়
কেমনে শুধিব গুরুঋণ।।

Posted from WordPress for Android