Monthly Archives: মে 2013

মনের কথা বলবো কারে

মনের কথা বলবো কারে।
মন জানে আর জানে মরম
মজেছি মন দিয়ে যারে।।

কটিতে কোপিন পরিব
করেতে করঙ্গ নিব
মনবাঞ্ছা পুরাইব
কর যোগাব মনের কিরে।।

মনের তিনটি বাসনা
নদেয় যেয়ে করবো সাধনা
নইলে মনের বিকার যায় না
তাইতে ছিদাম বলি তোরে।।

যে দায়ের দায় একা মোর মন
রসিক ভিন্ন জানে কোনজন
লালন বলে নন্দের নন্দন
জগৎ ফেললো চমৎকারে।।


মনের কথা বলবো কারে, কে আছে সংসারে

মনের কথা বলবো কারে, কে আছে সংসারে।
আমি ভাবি তাই, আর না দেখি উপায়
কার মায়ায় বেড়াই ঘুরে।।

মন আমার ভুলে তত্ব, হলি মত্ত
সার পদার্থ চিনলি না রে
হ’ল না গুরুর করণ, তাইতে মরণ
কোনদিনে মন যাবা গোরে।।

ছেড়ে মূল ভক্তিদাঁড়া, লক্ষ্মীছাড়া
কপালপোড়া দেখি তোরে
লেগে এই ভবের নেশা, তাইতে দশা
সর্বনাশা বেড়াই ঘুরে।।

মন আমার আপন বসে, মদনরসে
আপনি মিশে বেড়াই হা রে
লালন সাঁই বাক্য ছেড়ে, গলা নেড়ে
গোল গড়ে পাতালপুরে।।


মনে রে আর বুঝাই কিসে

মনে রে আর বুঝাই কিসে
ভব-যন্ত্রণা আমার জ্ঞানচক্ষু আঁধার
ঘিরিলো যেমন রাহুতে এসে।
যেমন বনে আগুন লাগে দেখে সর্বলোকে
মন-আগুন কে দেখে মনকুঠো ফেঁসে।।

গুণে আনি দেওয়া হয়ে যায় রে কুয়ো
তেমনি আমার সকল কর্ম ভুয়ো
কারে শুধাবো এ কথা, কে ঘুচাবে ব্যথা
মন-আগুনে মন দগ্ধ হতেছে।।

যে আশায় আমার ভবে আসা হ’ল
অসার ভাবিয়ে জনম ফুরাল
পূর্বে যে সুকৃতি ছিল, পেলাম সেহি ফল
আর না জানি কী হয় অবশেষে।।

এ ভুবনে বিধি বড় বল ধরে
কর্মফাঁসে বেঁধে মারছি আমারে
ভেবে লালন ফকির সদাই, দিচ্ছে গুরুর দোহাই
আর যেন আসি নে এমন দেশে।।


মনে না দেখলে নেহাজ করে মুখে পড়লে কি হয়

মনে না দেখলে নেহাজ করে মুখে পড়লে কি হয়।
মনের ঘোরে কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়।।

আহাম্মদ নামে দেখি
মিম হরফটি নফি দেখায়;
ওরে মিম গেলে সেকি হয়
দেখ পড়িয়ে সবায়।।

আহাদ আহাম্মদে
এক লায়েক সে মর্ম পায়;
আকার ছেড়ে নিরাকারে
সেজদা কে দেয়।।

জানাতে ভজন কথা
তাইতে খোদা
ওলিরূপ হয়;
লালন গেল ঘুলায় পড়ে
দাহরিয়ার ন্যায়।।


মনবিবাগী বাগ মানে না রে

মনবিবাগী বাগ মানে না রে।
যাতে অপমৃত্যু ঘটে তাই সদাই করে।।

কীসে হবে ভজন-সাধন
মন হ’ল না মনের মতন
দেখে শিমুল ফুল, সদাই ব্যাকুল
দুকূল হারালাম মনের ফেরে।।

মনের গুণে কেউ মহাজন হয়
ঠাকুর হয়ে কেউ নিত্য পূজা খায়
আমার মন তো, আমায় করলো হত
মনকে বুঝাইতে নারি জনম ভরে।।

মন কি মুনাই হাতে পেলাম না
কীরূপে আজ তারে করি সাধনা
লালন বলে আমি, হ’লাম পাতালগামী
কী করিতে এসে গেলাম কী করে।।


মন রে দিনের ভাব যেই ধারা

মন রে দিনের ভাব যেই ধারা
শুনলে রে জীবন অমনি হয় সারা
ও সে মরার সঙ্গ মরে ভাবসাগরে
ডুবতে যদি পারে স্বাভাবিক তারা।।

অগ্নি ঢাকা জৈছে ভস্মের ভিতরে
সুধা তেমনি আছে গরলে হল করে
ও কেউ সুধার লোভে যেয়ে মরে গরল খেয়ে
মন্থনে সু-তাক না জানে যারা।।

দুধে ননীতে মিলন সর্বদা
মন্থন দণ্ডে করে আলাদা আলাদা
মন রে তেমনি ভাবের ভাবে, সুধানিধি পাবে
মুখের কথা নয় রে সে ভাব করা।।

যে স্তনেতে দুগ্ধ খায় রে শিশুছেলে
জোকের মুখে সে তা রক্ত এসে মেলে
অধীন লালন ভেবে বলে বিচার করিলে
কুরসে সুরস মেলে সেই ধারা।।


মন রে সামান্যে কে তারে পায়

মন রে সামান্যে কে তারে পায়।
শুদ্ধ প্রেম ভক্তিরস সেই তো দয়াময়।।

বাঞ্ছা থাকলে সিদ্ধি মুক্তি
তারে বলে হেতু ভক্তি
নিহেতু ভক্তি রতি
সবেমাত্র দীননাথের পায়।।

কৃষ্ণের আনন্দপুরে
কামি লোভী যেতে নারে
শুদ্ধ ভক্তি ভক্তের দ্বারে
সে চরণকমল নিকটে রয়।।

ব্রজের নিগুঢ় তত্ব গোঁসাই
শ্রীরূপের সব জানালে তাই
লালন বলে মোর বোধ নাই
সাধলে রসিক মহাশয়।।


মন রে তুই ভড়ুয়া বাঙ্গাল জ্ঞানছাড়া

মন রে তুই ভড়ুয়া বাঙ্গাল জ্ঞানছাড়া।
সদরে সাজ করছো ভালো পাছবাড়িতে নাই বেড়া।।

কোন কোনায় কী হচ্ছে ঘরে
একদিন তা দেখলি না রে
পিতৃধন তোর নিল চোরে
হলি রে মন ফোকতাড়া।।

কোথা বস্তু কোথায় সে ধন
চৌকি পাহারা দাও হামেশক্ষণ
কাজ দেখি পাগলের মতন
কথায় যেমন কাঠফাড়া।।

পাছবাড়ি আটেলা কর
মনচোরা রে চিনে ধর
লালন বলে নইলে তোর
থাকবে না মূল এককড়া।।


মন রে কবে ভবে সূর্যের যোগ হয় কর বিবেচনা

মন রে কবে ভবে সূর্যের যোগ হয় কর বিবেচনা।
চন্দ্রকান্তি যোগ মাসান্ত ভবে আছে জানা।।

যে জাগে সেই যোগের সাথে
অমূল্য ফল পাইবে হাতে
ক্ষুধা-তৃষ্ণা যাইবে তাতে
এমন ধন খুঁজলে না।।

চন্দ্রগতি সূর্যকান্তি
ধরে আছে আলেকপন্থী
যুগলেতে হও একান্তি
হবে উপাসনা।।

অখণ্ড উদ্ভাব রতি
রসিকের প্রাণরসের প্রতি
লালন ভেবে কয় সম্প্রতি
এমন ধন চিনলে না।।


মন রে আপ্ততত্ব না জানিলে

মন রে আপ্ততত্ব না জানিলে।
ভজন হবে না পড়বি গোলে।।

আগে জান গে কালুল্লা
আইনাল হক আল্লা
যারে মানুষ বলে;
পড়ে ভূত মন আর হস্‍ নে বারংবার
একবার দেখ না প্রেমনয়ন খুলে।।

আপনি সাঁই ফকির
আপনি হয় ফিকির
ও সে নীলের ছলে;
আপনা রে আপনি, ভুলে রব্বানি
আপনি ভাসে আপন প্রেমজলে।।

লা ইলাহা তোন
ইল্লাল্লাহ জীবন
আছে প্রেমযুগলে;
লালন ফকির কয়, যাবি মন কোথায়
আপনার আজ আপনি ভুলে।।