Monthly Archives: এপ্রিল 2013

মন আমার কেউ না জেনে মজ না পিরিতে

মন আমার কেউ না জেনে মজ না পিরিতে।
জেনে শুনে কর গে পিরিত শেষ ভাল যাতে।।

ভবের পিরিত ভূতের কীর্তন
ক্ষণেক বিচ্ছেদ ক্ষণেক মিলন
অবশেষে বিপাকে মরণ
তেমাথা পথে।।

পিরিতের হয় বাসনা
সাধুর কাছে জান্‍ গে বেনা
লোহা যেমন পরশে সোনা
হবা সে মতে।।

এক পিরিতের বিভাগ চলন
কেউ স্বর্গে কেউ নরকে গমন
জেনে শুনে বলছে লালন
এহি জগতে।।


মন আমার কুসর-মলা জাঠ হল রে

মন আমার কুসর-মলা জাঠ হল রে।
চিরদিন গুতায় পড়ে আটলো না রে।।

কত রকম করি দমন
কতই করি বন্ধন ছন্ধন
কটাক্ষে মাতঙ্গ মন
কখন যেন যায় রে ছেড়ে।।

কপালের দোষ নইলে আমার
লোভের কুকুর হই গো এবার
মন গুণি কী হয় জানি
কখন যেন কী ঘটায় রে।।

মলয় পর্বত কাষ্ঠের
সবে সার হয়, হয় না বাঁশের
লালন বলে কপাল দোষে
আমার বুঝি তাই হ’ল রে।।


কেন খুঁজিস মনের মানুষ বনে সদাই

কেন খুঁজিস মনের মানুষ বনে সদাই।
এবার নিজ আত্ম রূপ যে আছে দেখো সেই রূপ দীন দয়াময়।।

কারে বলি জীবাত্মা কারে বলি স্বয়ং কর্তা ।
আবার দেখি ছটা চোখে ভেল্কি লেগে মানুষ হারায়।।

বলবো কী তাঁর আজব খেলা আপনি গুরু আপনি চেলা।
পড়ে ভূত ভুবনের পন্ডিত যে জন আত্মতত্ত্বের প্রবর্ত নয়।।

পরমাত্মাকে রূপ ধরে জীবাত্মাকে হরণ করে।
লোকে বলে যায়রে নিদ্রে সে যে অভেদব্রহ্ম ভেবে লালন কয়।।


মন আমার কী ছার গৌরব করছো ভবে

মন আমার কী ছার গৌরব করছো ভবে।
দেখ না রে মন হাওয়ার খেলা
হাওয়া বন্ধ হতে দেরী কি হবে।।

বন্ধ হবে এই হাওয়াটি
মাটির দেহ হবে মাটি
বুঝে সুঝে হও মন খাঁটি
কে তোরে কতই বোঝাবে।।

থাকলে ঘরে হাওয়াখানা
মওলা বলে ডাক রসনা
কালশমন করবে রওনা
কখন যেন কু ঘটাবে।।

ভবে আসার অগ্রে যখন
বলেছিলে করবো সাধন
লালন বলে সে কথা মন
ভুলেছ এই ভবের লোভে।।


মন আমার আজ পলি ফেরে

মন আমার আজ পলি ফেরে।
দিনে দিনে পিতৃধন তোর গেল চোরে।।

ময়ামদ খেয়ে মনা
দিবানিশি ঝোঁক ছোটে না
পাছবাড়ির উল্‍ হ’ল না
কে কী করে।।

ঘরের চোরে ঘর মারে মন
যায় না ঘোর জানবি কেমন
একদিন দিলে না নয়ন
আপন ঘরে।।

ব্যাপার করতে এসেছিলে
আসলে বিনাশ হলে
লালন কয় হুজুরে গেলে
বলবি কী রে।।


মন আইনমাফিক নিরিখ দিতে ভাব কি

মন আইনমাফিক নিরিখ দিতে ভাব কি।
কাল শমন এলে হবে কী।।

ভাবিতে দিন আখের হ’ল
ষোল আনা বাকি প’লো
কী আলসে ঘিরে নিল
দেখলি নে খুলে আঁখি।।

নিষ্কামি নির্বিকার হলে
জ্যান্তে মরে যোগ সাধিলে
তবে খাতায় উশুল হলে
নইলে উপায় কী দেখি।।

শুদ্ধ মনে সকলি হয়
তাও এবার হল না তোমায়
লালন বলে করবি হায় হায়
ছেড়ে গেলে প্রাণপাখি।।


মধুর দেল-দরিয়ায় যে জন ডুবেছে

মধুর দেল-দরিয়ায় যে জন ডুবেছে।
ও সে সব খবরে জবর হয়েছে।।

অগ্নি যেমন ভস্মে ঢাকা
অমৃত গরলে মাখা
স্বরূপ আছে;
রসিক সুজন ডুবায়ে মন
তার অন্বেষণ পেয়েছে।।

যে স্তনের দুধ শিশুতে খায়
জোক মুখ লাগালে সেথায়
রক্ত পায় গো সে;
অধমে উত্তম, উত্তমে অধম
যে যেমন দেখতেছে।।

দুগ্ধে জলে মিশায়ে যেমন
রাজহংসে করে ভক্ষণ
সেই দুগ্ধ বেছে;
সিরাজ সাঁই ফকির, বলে সব ফিকির
লালন বেড়াস নে খুঁজে।।