Monthly Archives: মার্চ 2013

না জানি ভাব কেমন ধারা

না জানি ভাব কেমন ধারা।
না জানিয়ে পাড়ি ধরে মাঝ-দরিয়ায় ডুবল ভারা।।

হরনাল করনাল মৃণালে
শুকনালে সু-ধারায় চলে
বিনা সাধনে এসে রণে
পুজি-পাট্টা হলাম হারা।।

সেই নদীর তিরধারা
কোন ধারে তার কপাট মারা
কোন ধারে তার সহজ মানুষ
সদাই করে চলাফেরা।।

অবোধ লালন বিনয় করে
এ কথা আর বলবো কারে
রূপদর্শন দর্পণের ঘরে
হ’লাম আমি পার হারা।।


নবি দিনের রাসুল খোদার মকবুল

নবি দিনের রাসুল খোদার মকবুল।
ভুল করিলে মরবি প্রাণে হারাবি দুই কুল।।

নবি পাঞ্জা ওয়াক্ত নামাজ পড়ে
সেজদা দেয় সে গাছের পরে
সেই না গাছের ঝরে পড়ে ফুল;
সেই ফুলেতে মৈথুন করে
দুনিয়া করলেন স্থুল।।

নবি আউলে আল্লার নূর
দুওমেতে তওবার ফুল
ছিয়মেতে ময়নার গলার হার;
চৌঠমেতে নূর ছিতারা
পঞ্চমে ময়ূর।।

আহাদে আহাম্মদ বর্ত
জেনে কর তাহার অর্থ
হয় না যেন ভুল;
লালন বলে ভেদ না জেনে
হলাম নামাকুল।।


নবি না চিনলে সে কি খোদার ভেদ পায়

নবি না চিনলে সে কি খোদার ভেদ পায়।
চিনিতে বলেছেন খোদে সেই দয়াময়।।

কোন নবি হইল ওফাত
কোন নবি বান্দার হায়াত
নিহাজ করে জানলে নেহাত
যাবে সংশয়।।

কোন নবি হয় পারের কাণ্ডার
জিন্দা সে চার যুগের উপর
হায়াতুল মুরসাল্লিন নাম তার
সেই জন্য কয়।।

যে নবি আজ সঙ্গে তোর
চিনে মন তার দাওন ধর
লালন বলে পারের কার
সাধ যদি রয়।।


নবি একি আইন করলেন জারি

নবি একি আইন করলেন জারি।

পিছে মারা যায় আইন সাধভাষা ভারি।।

 

শরিয়ত আর মারফত আদায়

নবির আইন দুই হুকুম সদাই

শরা, নবুয়ত, বিলায়েত, মারফত

জানতে হয় গভীরি।।

 

নবুয়তে অদেখা ধিয়ান

বিলায়েতে রূপে নিশান

নজর এক দিক যায়, আরেক দিক আঁধার হয়

দুই রূপ কিরূপে ঠিক করি।।

 

শরাকে সরপোষ লেখা যায়

বস্তু মারফত ঢাকা আছে তায়

সরপোষ থুই তুলে কি দিই ফেলে

লালন বস্তু-ভিখারী।।


এ বড় আজব কুদরতি

এ বড় আজব কুদরতি।
আঠরো মোকামের মাঝে
জ্বলছে একটি রূপের বাতি।।

কিবা রে কুদরতি খেলা
জলের মাঝে অগ্নিজ্বালা
খবর জানতে হয় নিরালা
নীরে ক্ষীরে আছে জ্যোতি।।

ফণি মনি লাল জহরে
সে বাতি রেখেছে ঘিরে
তিন সময় তিন যোগ সেই ঘরে
যে জানে সে মহারথি।।

থাকতে বাতি উজ্জ্বলাময়
দেখ না যার বাসনা হৃদয়
লালন কয় কখন কোন সময়
অন্ধকার হবে বসতি।।


কে বোঝে মওলার আলেকবাজি

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি।
করছে রে কোরানের মানে যা আসে যার মনের বুঝি।।

একই কোরান পড়াশুনা
কেউ মৌলবি কেউ মওলানা
দাহেরা হয় কত জনা
সে মানে না শরার কাজি।।

রোজ কেয়ামত বলে সবাই
কেউ বলে না তারিখ নির্ণয়
হিসাব হবে কি হচ্ছে সদাই
কোন কথায় মন রাখি রাজি।।

মলে জান ইল্লিন সিজ্জিন রয়
যতদিন রোজ হিসাব না হয়
কেউ বলে জান ফিরে জন্মায়
তবে ইল্লিন সিজ্জিন কোথায় আজি।।

আর এক বিধান শুনিতে পাই
এক গোর মানুষের মউত নাই
আ-মরি কি ভজন রে ভাই
বাঞ্ছে লালন কারে পুঁছি।।


তিন পোড়াতে খাঁটি হলে না

তিন পোড়াতে খাঁটি হলে না।

না জানি কপালে তোমার কী আছে তাও বুঝলাম না।।

লোহা জব্দ কামারশালে

যে পর্যন্ত থাকে জ্বালে

যায় না স্বভাব তা মারিলে

তেমনি মন তুই একজনা।।

 

অনুমানে জানা গেল

চুরাশি ফের পড়িল

আর কবে কী করবি বল

রঙমহলে প’লো হানা।।

 

দেব-দেবতার বাসনা হয়

মানবজনম লওয়ার আশায়

লালন কয় সে মানুষ হয়ে

মানুষের করণ করলে না।।


জগৎ মুক্তিতে ভুলালেন সাঁই

জগৎ মুক্তিতে ভুলালে সাঁই।
ভক্তি দাও হে যাতে চরণ পাই।।

রাঙ্গাচরণ দেখব বলে
বাঞ্ছা সদাই হৃদকমলে
তোমার নামের মিঠায় মন মজেছে
রূপ কেমন তাই দেখতে চাই।।

ভক্তিপদ বঞ্চিত করে
মুক্তিপদ দিচ্ছে তারে
যাতে জীব ব্রহ্মাণ্ডে ঘোরে
কাণ্ড তোমার দেখি তাই।।

চরণের যোগ্য মন নয়
তথাপি মন ওই চরণ চাই
অধীন লালন বলে হে দয়াময়
দয়া কর আজ আমায়।।


সবে বলে লালন ফকির হিন্দু কি যবন

সবে বলে লালন ফকির হিন্দু কি যবন।
লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান।।

একই ঘাটে আসা যাওয়া
একই পাটনী দিচ্ছে খেওয়া
কেউ খায় না কারো ছোঁয়া
বিভিন্ন জল কে কোথা পান।।

বেদ-পুরাণে করেছে জারি
যবনের সাই হিন্দুর হরি
তাও তো আমি বুঝতে নারি
দুইরূপ সৃষ্টি কী তাই প্রমাণ।।

বিবিদের নাই মুসলমানি
পৈতে নাই যার সেও তো বামনী
বোঝ রে ভাই দিব্যজ্ঞানী
লালন তেমনি জাত একখান।।


ডুবে দেখ দেখি মন ভবকূপে

ডুবে দেখ দেখি মন ভবকূপে।
আর কতদিন রাখবা চেপেচুপে।।

খেললি খেলা খেলার ঘরে
আসিয়া দু’দিনের তরে
সঙ্গের হিল্লায় মিশে মন রে
এখন পড়েছে বিষম ধূপে।।

ধুলোর পাশা ফুলের গুটি
তাই নিয়ে মন আটাআটি
যখন চার ইয়ারে বাঁধবে খাঁটি
কাদবে রে ভাই মা-বাপে।।

সিরাজ সাইজীর শখের বাজারে
ডাকাত এসে সকল নেয় হরে
হত বর্বর লালন বলে
আমার প্রাণ ওঠে কেপে।।