Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি 2012

আপনার আপনি মন না জান ঠিকানা

আপনার আপনি মন না জান ঠিকানা ।
পরের অন্তরে কোটি সমুদ্দুর কীসে যাবে জানা ।।

পর বলতে পরমেশ্বর
আত্মরূপে করে বিহার
দ্বিদলে বারামখানা ।
শতদল সহস্রদলে
অনন্ত করুণা ।।

কেশের আড়েতে যৈছে
পাহাড় লুকায়ে আছে
দর্শন হল না ।
হেঁট নয়ন যার, নিকটে তার
সিদ্ধ হয় কামনা ।।

সিরাজ সাঁই বলে রে লালন
গুরুপদে ডুবে আপন
আত্মার ভেদ করলে না ।
আত্মা আর পরমাত্মা
ভিন্ন ভেদ জেন না ।।


আপনার আপনি ফানা হলে সকল জানা যাবে

আপনার আপনি ফানা হলে সকল জানা যাবে ।
কোনরূপে হলে ফানা সে ভেদ জানতে পাবে ।।

আরবিতে বলে আল্লা
পারসিতে কয় খোদাতালা
গড বলছে যিশুর চেলা
ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভাবে ।।

আল্লা হরি ভজন পূজন
মানুষের সকল সৃজন
অনামক অচিনায় কখন
জ্ঞান-ইন্দ্রিয়ে না সম্ভবে ।।

মনের ভাব প্রকাশিতে
ভাষার সৃষ্টি এই জগতে
আচানক অধরকে চিনতে
ভাষা বাক্যে নাহি পাবে ।।

আপনার আপনি হলে ফানা
দেখা দেবেন সাঁই রব্বানা
সিরাজ সাঁই কয় লালন কানা
স্বরূপে রূপ দেখ সংক্ষেপে ।।


আপনার আপনি চেনা যদি যায়

আপনার আপনি চেনা যদি যায় ।
তবে তারে চিনতে পারি সেই পরিচয় ।।

উপর-আলা সদর-বারি
আত্মারূপে অবতারি
মনের ঘোরে চিনতে নারি
কিসে কী হয় ।।

যে অঙ্গ সেই অংশকলা
কায় বিশেষ ভিন্ন বলা
যার ঘুচেছে মনের ঘুলা
সে কি তা কয় ।।

সেই আমি কি আমিই আমি
তাই জানিলে যায় দুর্নামি
লালন কয় তবে কি ভ্রমি
এ ভব কৃপায় ।।


আপনার আপনি চিনি নে

আপনার আপনি চিনি নে ।
দিন-দোনের পর যার নাম অধর
তারে চিনব কেমনে ।।

আপনারে চিনতাম যদি
ইমলত অটল চরণনিধি
মানুষের করণ হত সিদ্ধি
শুনি আগম পুরাণে ।।

কর্তারূপের নাই অন্বেষণ
আত্মারূপের হয় নিরূপণ
আপ্ততত্ত্ব পায় সাধ্য ধন
সহজ সাধক জনে ।।

দিব্যজ্ঞানী যে জন হল
নিজতত্ত্বে নিরঞ্জন পেল
সিরাজ সাঁই কয় লালন র’ল
জন্ম-অন্ধ মন গুণে ।।


আপন মনের বাঘে যাহারে খায়

আপন মনের বাঘে যাহারে খায় ।
কোনখানে পালালি বাঁচা যায় ।।

বন্ধ ছন্দ করিরে এঁটে
করে যায় সকলি কেটে
অমনি সে গজরিয়ে উঠে
সুখপাখিরে হানা দেয় ।।

মরার আগে মরতে পারে
কোন বাঘে কি করতে পারে
সেই মরা কি আবার মরে
মরিলে সে অমর হয় ।।

অনুরাগী জ্যান্তে মরা
গুরুপদে মন নোঙ্গর করা
লালন তমনি পতঙ্গের ধারা
অগ্নিমুখো ধেয়ে যায় ।।


আপন মনের গুণে সকলি হয়

আপন মনের গুণে সকলি হয় ।
ও সে পিঁপড়ে বসে পেঁড়োর খবর পায় ।।

রামদাস রামদাস বলে
সে তো মুচির ছেলে
গঙ্গামায়ের এমনি নীলে
এলো চাম-কাটুয়ায় ।।

জাতে সে জোলা কুবীর
উড়িষ্যায় তাহার জাহির
বারো জাত তার হাঁড়ির
তুড়ানি খায় ।।

না বুঝে ঘর ছেড়ে
জঙ্গলে বাঁধে কুঁড়ে
লালন কয় রিপু ছেড়ে
যাবি কোথায় ।।


আপন মনে যাহার গরল মাখা থাকে

আপন মনে যাহার গরল মাখা থাকে ।
যেখানে যায় সুধার আশে সেথা গরল দেখে ।।

কীর্তিকর্মার কীর্তি অথায়
যে যা ভাবে তাই দেখতে পায়
গরল বলে কারে দোষাই
ঠিক পড়ে না ঠিকে ।।

মনের গড়ল যাবে যখন
সুধাময় সর দেখবি তখন
পরশিলে এড়াবি শমন
নইলে পড়বি বিপাকে ।।

রামদাস মুচির মন সরলে
চামড়ার কেটই গঙ্গা মেলে
সিরাজ সাঁই লালনকে বলে
তাই কি ঘটবে তোকে ।।


আপন ছুরতে আদম গঠলেন দয়াময়

আপন ছুরতে আদম গঠলেন দয়াময় ।
তা নইলে কি ফেরেস্তারে সেজদা দিতে কয় ।।

আল্লা আদম না হইলে
পাপ হইত সেজদা দিলে
শেরকি পাপ যারে বলে
এ দীন দুনিয়ায় ।।

দুষে সেই আদম সফি
আজাজিল হল পাপী
মন তোমার লাফালাফি
সেরূপ দেখা যায় ।।

আদমি হলে চেনে আদম
পশু কি তার জানে মরম
লালন কয় আদ্য ধরম
আদম চিনলে হয় ।।


আপন ঘরের খবর নে না

আপন ঘরের খবর নে না ।
অনা’সে দেখতে পাবি কোনখানে সাঁইর বারামখানা ।।

কমল-কোঠা কারে বলি
কোন মোকাম তার কোথা গলি
কোন সময় পড়ে ফুলি
মধু খায় সে অলিজনা ।।

সূক্ষ জ্ঞান যার ঐক্য মুখ্য
সাধকের উপলক্ষ
অপরূপ তার বৃক্ষ
দেখলে জীবের জ্ঞান থাকে না ।।

শুস্ক নদীর শুস্ক-সরোবর
তিলে তিলে হয় গো সাঁতার
লালন কয় কীর্তিকর্মার
কী কারখানা ।।


আপন খবর না যদি হয়

আপন খবর না যদি হয় ।
যার অন্ত নাই তার অন্ত কিসে পাই ।।

আত্মারূপে আছে কেবা
ভান্ডেতে করে সেবা
দেখ মন দেখ যেবা
হও সে মহাশয় ।।

কেবা চালায় কেবা চলে
কেবা জাগে ধড়ে বলে
দেখ মন বিচার স্থলে
কেবা ঘুমায় ।।

অন্য গোলমাল ছাড়
আত্মতত্ত্ব বিচার ধোড়
লালন বলে কাশীতীর্থ
ব্রতের কর্ম নয় ।।