বল রে স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারি

বল রে স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারি।
যার ভাবে হয়েছি রে দণ্ডধারী।।

কোথা সে নিকুঞ্জবন
কোথা যমুনা উজন
কোথা সেই গোপিনীগণ
আহা মরি।।

রামানন্দের দরশনে
পূর্বভাব উদয় মনে
যাব আমি কাহার সনে
সেই পুরি।।

আর কিরে সেই সঙ্গ পাব
মনের সাধ পুরাইব
পরম আনন্দে রব
ঐ রূপ হেরি।।

শ্রীগৌর ঐ দিন বলে
আকুল হই তিলে তিলে
লালন কয় সেহি নীলে
সুমাধুরী।।

Advertisements

জান গে যা গুরুর দ্বারে জ্ঞান-উপাসনা।

​জান গে যা গুরুর দ্বারে জ্ঞান-উপাসনা।

কোন মানুষের কেমন কৃতি যাবে রে জানা।।
যার আশায় জগৎ বেহাল

তার কি আছে সকাল বিকাল

তিলক মন্ত্র না দিলে জল 

ব্রহ্মাণ্ড রয় না।।
পুরুষ পরশমণি 

কালাকাল তার কিসে জানি

জল দিয়ে সব চাতকিনী 

করে সান্ত্বনা।।
বেদবিধির অগোচর সদাই

কৃষ্ণপক্ষ নিত্য উদয়

লালন বলে মনের দ্বিধায় 

কেউ দেখে না।।


জানা উচিত বটে দুটি নূরের ভেদ-বিচার

জানা উচিৎ বটে দুটি নূরের ভেদ-বিচার।

নবিজি আর নিরূপ খোদা নূর সে কী প্রকার।।

 

নবির যেন আকার ছিল

তাহাতে নূর চুয়ায় বলো

নিরাকারে কী প্রকারে

নূর চুয়ায় খোদার।।

 

আকার বলিতে খোদা

শরায় নিষেধ আছে সদা

আকার বিনে নূর চুয়ায়

প্রমাণ কী গো তার।।

 

জাত ইলাহি ছিল জুতে

কীরূপ সে এল ছিফাতে

লালন বলে নূর চিনিলে

ঘোচে ঘোর আঁধার।।

 

 

 


জানা চাই অমাবস্যায় চাঁদ থাকে কোথায় 

জানা চাই অমাবস্যায় চাঁদ থাকে কোথায়

গগনের চাঁদ উদয় হলে দেখে যে আছে যেথায়।।

 

অমাবস্যার মর্ম না জেনে

বেড়ায় তিথি-নক্ষত্র গুণে

প্রতি মাসে নবীন চাঁদ সে

মরি একি ধরে কায়।।

 

অমাবস্যায় পূর্ণমাসী

কী মর্ম হয় কারে জিজ্ঞাসি

যে জান সে বল মন

মন মুড়াই আজ সেথায়।।

 

সাতাইশ নক্ষত্র হয় গগন

স্বাতী নক্ষত্র যোগ হয় কখন

না জানিয়ে অধীন লালন

সাধক নাম ধরে বৃথায়।।


জানি মন প্রেমের প্রেমিক কাজে পেলে

জানি মন প্রেমের প্রেমিক কাজে পেলে।
পুরুষ কি প্রকৃতি স্বভাব থাকতে কি ভাব রসিক বলে।।

মদনজ্বালায় ছিন্নভিন্ন
প্রেম প্রেম বলে লোক জানালো
ঐহিক দ্বারে রসিক গণ্য
ঘুকসী জারি প্রেম-টাকশালে।।

সহজ সুরসিক জনা
শোসায় শোষে বাণ ছাড়ে না
সেই সে প্রেমের ছন্দি জানা
যায় না মূলে না ডুবিলে।।

তিন রসে প্রেম সাধলেন হরি
শ্যাম অঙ্গ গৌরাঙ্গ তারি
লালন বলে বিনয় করি
সেই রসে প্রেমরসিক খেলে।।


জীব ম’লে যায় জীবান্তরে

জীব ম’লে যায় জীবান্তরে।
জীবের গতি মুক্তি রয় ভক্তির দ্বারে।।

জীবের কর্ম বন্ধন
না হয় খণ্ডন
প্রতিবন্ধন কর্মের ফেরে।।

ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুত-ব্যোম
এরা দোষী নয় দোষী আদম
বেহুঁশে খেয়ে গন্ধম
তাইতে এলো ভাবনগরে।।

আত্মা আর পরম-আত্মা
ত্রিসংসারে জগৎকর্তা
ভুলে আত্মা জগৎকর্তা
লক্ষ যোনী ঘুরে মরে।।

গুরু ধরে জ্যান্তে মরে
বসাও গুরুর হৃদমাঝারে
সিরাজ সাঁই এর চরণ ভুলে
লালন মিছে কেন বেড়াও ঘুরে।।


জীব মলে জীব যায় কোনখানে

জীব মলে জীব যায় কোনখানে।
ঈশ্বরের ঘরবাড়ি যদি নাই দেহভুবনে।।

রামনারায়ণ গৌরহরি
ঈশ্বর যদি গণ্য করি
তারাও ভবে গর্ভধারী
এ সংসারে হয় কেমনে।।

যারে তারে ঈশ্বর বলা
বুদ্ধি নাই তার অর্থ তোলা
ঈশ্বরের জন্মনালা
ভাব মনে মনে।।

ত্রিজগতের মূলাধার সাঁই
জন্মমৃত্যু তার কিছু নাই
সিরাজ সাঁই কয় লালন রে তায়
থাক সদাই ঠিক জেনে।।