চাতক বাঁচে কেমনে

চাতক বাঁচে কেমনে।

শুদ্ধ মেঘের বরিষণ বিনে।।

কোথায় হে নব জলধর

চাতকিনী ম’লো এবার

ও নামে কলঙ্ক তোমার

বুঝি রাখলেন ভুবনে।।

চাতক ম’লে যাবে জানা

ও নামের গৌরব রবে না

জল দিয়ে কর সান্ত্বনা

দাসীকে রেখে চরণে।।

তুমি দাতা শিরোমণি

আমি চাতক কলঙ্কিনী

অন্য আশা নাহি জানি

ফকির লালন তাই ভণে।।

Advertisements

চাতক স্বভাব না হলে

চাতক স্বভাব না হলে।

অমৃত মেঘের বারি কথায় কি মেলে।।

মেঘে কত করে ফাঁকি

তবু চাতক মেঘের ভুকি

তেমনি নিরিখ রাখলে আঁখি

সাধক বলে।।

চাতকেরই এমনি ধারা

তৃষ্ণায় জীবন যায় গো মারা

অন্য বারি খায় না তারা

মেঘের জল বিনে।।

মন হয়েছে পবন-গতি

উড়ে বেড়ায় দিবারাতি

লালন বলে গুরুর প্রতি

রয় না সুহালে।।


চিনবে তারে এমন আছে কোন ধনী

চিনবে তারে এমন আছে কোন ধনী।

নয় সে আকার নয় নৈরাকার নাই ঘরখানি।।

বেদ আগমে জানা গেল

ব্রহ্ম যারে হদ্দ হ’ল

জীবের কি সাধ্য বলো

তারে চিনি।।

কত কত মুনিজনা

করিয়ে যোগসাধনা

লীলের অন্ত কেউ পেল না

লীলে এমনি।।

সবে বলে কিণ্চিৎ ধ্যানী

গণ্য সে হন শূলপানি

লালন বলে কবে আমি

হবো তেমনি।।


চারটি চন্দ্র ভাবের ভুবনে

চারটি চন্দ্র ভাবের ভুবনে।

তার দুটি চন্দ্র প্রকাশ হয় তাই জানে অনেক জানে।।

যে জানে সেই চাঁদের ভেদকথা

বলবো কি তার ভক্তির ক্ষমতা

যে চাঁদ ধরে পাই চাঁদ অন্বেষণ

সে চাঁদ কেউ না পায় গুণে।।

এক চাঁদে চার চন্দ্র মিশে রয়

ক্ষণেক ক্ষণেক বিভিন্ন রূপ হয়

ও সে মণিকোঠার খবর পেলে

সকল খবর সেই জানে।।

ধরতে পারে মূল চন্দ্র কোনজন

গরল চন্দ্রের কর অন্বেষণ

সিরাজ সাঁই কয় দেখ রে লালন

আছে বিষ-অমৃত মিলনে।।


চিরদিন জল ছেঁচিয়ে জল মানে না এ ভাঙ্গা নায়

চিরদিন জল ছেঁচিয়ে জল মানে না এ ভাঙ্গা নায়।

এক মালা জল ছেঁচতে গেলে তিন মালা যোগায় তলায়।।

আগা নায়ে মন-মনুরায়

বসে বসে চুকুম খেলায়

আমার দশা তলা ফাঁসা

জল ছেঁচি আর গুধরি গলায়।।

ছুতোর ব্যাটার কারসাজিতে

জনম-তরীর ছাদ মারা নাই

নৌকার আশেপাশে কাষ্ঠ সরল

মেজেল কাঠ গড়েছে তলায়।।

মহাজনের অমূল্য ধন

মারা গেল ডাকনি জোলায়

লালন বলে মোর কপালে

কী হবে হিসাবের বেলায়।।


চিরদিনে দুখের অনলে প্রাণ জ্বলছে আমার

চিরদিনে দুখের অনলে প্রাণ জ্বলছে আমার।

আমি আর কত দিন জানি অবলারও প্রাণী

এ জ্বলনে জ্বলবে ও হে দয়াল ঈশ্বর।।

দাসী মলে ক্ষতি নাই, যাই হে মরে যাই

দয়াল নামের দোষ রবে হে গোঁসাই

আমার দেও হে দুখ যদি, তবু তোমার সাধী

তোমা বিনে দোহাই আর দিব কার।।

ও মেঘ হইয়ে উদয়, লুকালে কোথায়

পিপাসীর প্রাণ গেল পিপাসায়

আমার কি দোষের ফলে, এই দশা ঘটালে

তুমি চাও হে ফিরে চাও একবার।।

আমি উড়ি হাওয়ার সাথ, ডুরি তোমার হাত

তুমি না উড়ালে কে উড়ায় হে নাথ

আমায় ক্ষম অপরাধ, দেও হে শীতল পদ

লালন বলে প্রাণে বাঁচে না রে আর।।


চেয়ে দেখ না রে মন দিব্যনজরে

চেয়ে দেখ না রে মন দিব্যনজরে।

চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক মণিকোঠায় ঘরে।।

হলে সেই চাঁদের সাধন

অধরচাঁদ পায় দরশন, পায় রে-

চাঁদেতে চাঁদের আসন

রেখেছে ফিকিরে।।

চাঁদে চাঁদ ঢাকা দেওয়া

চাঁদে দেয় চাঁদের খেওয়া, দেয় রে-

জমিনেতে ফলছে মেওয়া

চাঁদের সুধা ঝরে।।

নয়নচাঁদ প্রসন্ন যার

সকল চাঁদ দৃষ্ট হয় তার, হয় রে-

লালন বলে বিপদ আমার

গুরুচাঁদ ভুলে রে।।