জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা

জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি সব দেখি তা না না না।।

যখন তুমি ভবে এলে
তখন তুমি কী জাত ছিলে
যাবার বেলায় কী জাত নিলে
এ-কথা আমায় বল না।।

ব্রাম্মণ-চণ্ডাল চামার-মুচি
একই জলে সব হয় গো শুচি
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাউকে ছাড়বে না।।

গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়
তাতে ধর্মের কী ক্ষতি হয়
লালন বলে জাত কারে কয়
এই ভ্রম তো গেল না।।

Advertisements

জানগে নূরের খবর যাতে নিরঞ্জন ঘিরা

জানগে নূরের খবর যাতে নিরঞ্জন ঘিরা।
নূরে সাধিলে নিরঞ্জন যাবে রে ধরা।।
 
নূরে নবীর জন্ম হয়
সে নূরে গঠলো অটলময়, একাঙ্গুরা
সেই নূরেতে মুকাম মঞ্জিল
উজালা করা।।
 
আছে নূরের শ্রেষ্ঠ নূর
জানে সদাই সুচতুর জীব যারা
সেই নূরের হিলালে বদ্ধ হয়
নূর জহুরা।।
 
নিভবে যেদিন নূরের বাতি
ঘিরবে এসে কালদুতি, চৌমহলা
লালন বলে থাকবে পড়ে
খাকের পিঞ্জিরা।।

 


জান গে মানুষের করণ কীসে হয়

জান গে মানুষের করণ কীসে হয়।

ভুলো না মন বৈদিক ভোলে সহজ রাগের ঘরে বয়।|

 

ভাটি স্রোত যার ফেরে উজন

তাতে কি হয় মানুষের করণ

পরশনে না হলে মন

দরশনে কী পায়।।

 

টলাটল করণ যাহার

পরশ গুণ কই মেলে তার

গুরুশিষ্য যুগ-যুগান্তর

ফাঁকে ফাঁকে রয়।।

 

লোহায় সোনা পরশ পর্শে

মানুষের করণ তেমনি সে

লালন বলে হলে দিশে

জঠর জ্বালা যায়।।


জান গে বরজোখ ভেদ পড়ে বিলায়েত

জান গে বরজোখ ভেদ পড়ে বিলায়েত

অচিনকে চিনবি ঐ বরজোখ ধরে

নবুয়তে সব, অদেখা তপজপ

বিলায়েতে দীপ্তকার দেখ নজরে।।

 

বরজোখে যার নাহি নেহারা

আখেরে সাঁইয়ের রূপ চিনবে কি তারা

নবি সরওয়ার বলছে বারংবার

প্রমাণ আছে তার হাদিস মাঝারে।।

 

সেই প্রমাণ এখানে মানি

অদেখা রে দেখে কেমনে চিনি

যদি চিনা যায়, তার বিধি হয়

আরেক জনকে সত্য বিশ্বাস করে।।

 

নবুয়ত বিলায়েত কারেবলা যায়

যে ভজে মুরশিদ সেই জানতে পায়

লালন ফকির কয়, আরেক ধান্দা হয়

বস্তু বিনে নামে পেট কই ভরে।।


জান গে যা পদ্ম নিরূপণ

জান গে যা পদ্ম-নিরূপণ।

কোন পদ্মে জীবের স্থিতি কোন পদ্মে গুরুর আসন।।

অধ:পদ্ম ঊর্ধপদ্ম

নীলে নিত্য এই শাস্ত্র

যে পদ্ম সাধকের বর্ত

সেই পদ্মের কেমন বরণ।।

আড়া পদ্মের কুড়া ধরে

ভৃঙ্গ রতি চলে ফেরে

সেই পদ্ম কোন দলের পরে

বিকশিত হয় কখন।।

গুরুমুখে পদ্মবাক্য

হৃদয়ে যার হয়েছে ঐক্য

জানে সে সকল পক্ষ

কহে দীনহীন লালন।।


বল রে স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারি

বল রে স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারি।
যার ভাবে হয়েছি রে দণ্ডধারী।।

কোথা সে নিকুঞ্জবন
কোথা যমুনা উজন
কোথা সেই গোপিনীগণ
আহা মরি।।

রামানন্দের দরশনে
পূর্বভাব উদয় মনে
যাব আমি কাহার সনে
সেই পুরি।।

আর কিরে সেই সঙ্গ পাব
মনের সাধ পুরাইব
পরম আনন্দে রব
ঐ রূপ হেরি।।

শ্রীগৌর ঐ দিন বলে
আকুল হই তিলে তিলে
লালন কয় সেহি নীলে
সুমাধুরী।।


জান গে যা গুরুর দ্বারে জ্ঞান-উপাসনা।

​জান গে যা গুরুর দ্বারে জ্ঞান-উপাসনা।

কোন মানুষের কেমন কৃতি যাবে রে জানা।।
যার আশায় জগৎ বেহাল

তার কি আছে সকাল বিকাল

তিলক মন্ত্র না দিলে জল 

ব্রহ্মাণ্ড রয় না।।
পুরুষ পরশমণি 

কালাকাল তার কিসে জানি

জল দিয়ে সব চাতকিনী 

করে সান্ত্বনা।।
বেদবিধির অগোচর সদাই

কৃষ্ণপক্ষ নিত্য উদয়

লালন বলে মনের দ্বিধায় 

কেউ দেখে না।।